সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে খুলনার সাতক্ষীরা রেঞ্জে অবস্থিত কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক (Kalagachia eco tourism park). এই ইকোট্যুরিজম পার্কটি সুন্দরবনের ভেতর অবস্থিত হওয়ার এখান থেকে সুন্দরবনের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বন পেরিয়ে নদী পথে নৌকায় চড়ে যেতে হয় ইকোট্যুরিজম পার্কে।
একপাশে লোকালয় আরেক পাশে সুন্দরবন, আর মাঝখানে বয়ে গেছে খোলপেটুয়া নদী। লোকালয় থেকে সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ পেরিয়ে বনের ভেতর দিয়ে কলাগাছিয়া পার্কে যাওয়ার সময় নদীর দুপাশে ঘন জঙ্গল দেখতে পাবেন।
নৌকা ইকোট্যুরিজম পার্কের ঘাটে ভিড়লেই দেখা মিলবে অসংখ্য বানরের। ঘাট থেকে পার্কে ঢোকার পথে লোহার একটি ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজ পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে কাঠের তৈরি আরো একটি ট্রেইল দেখতে পাবেন। এই কাঠের তৈরি ট্রেইল দিয়ে বনের ভেতর প্রবেশ করতে হয়।
ট্রেইলের দুপাশে বাইন, খলিশা, হরকোচা, পশুর, গোলপাতা, কেউড়া, সুন্দরী, গেওয়া সহ আরো বিভিন্ন প্রকার গাছ দেখতে পাবেন। বনের ভেতর দেখতে পাবেন বানরের দলের এ গাছ থেকে অন্য গাছে লাফালাফি করছে। আরো দেখতে পাবেন নানা প্রজাতির পাখি।
ইকোট্যুরিজম পার্কে আসা দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে খাঁচার ভেতর হরিণ। চাই আপনি হরিণের সাথে ছবি তুলতে পারবেন, তাদের খাবার খেতে দিতে পারবেন। গোসল করার জন্য রয়েছে বড় একটি মিঠাপানির পুকুর। যেখানে বন বিভাগের কর্মকর্তারা গোসল করে এবং বনের বিভিন্ন প্রাণী পানি খায়।
পাখির চোখে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ওয়াচ-টাওয়ার রয়েছে। যার উপর থেকে সুন্দরবনের পশ্চিম অংশের সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। এখানে বনের ভেতর শিব মন্দিরে বনবিবির পূজা করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস এই মন্দির দর্শন দিয়ে বনের ভেতর গেলে সকল বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক যাওয়ার উপায়
সাতক্ষীরা রেঞ্জে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে আসতে হলে প্রথমে সাতক্ষীরা আসতে হবে। রাজধানী ঢাকার গাবতলী, নবীনগর বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ, সৌদিয়া, এম আর, টুঙ্গিপাড়া, ইমাদ, সোহাগ, এ কে ট্র্যাভেল, সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস, শ্যামলী, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, গ্রীন লাইন পরিবহনে চড়ে সাতক্ষীরা আসতে পারবেন। এসি / নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৭০০ থেকে ১,৫০০ টাকা।
এছাড়া ঢাকার গাবতলী, নবীনগর বাস টার্মিনাল থেকে এম আর, ইমাদ, সাতক্ষীরা লাইন, মাস্টার ট্রভেল, যমুনা লাইন পরিবহনে সরাসরি শ্যামনগর যেতে পারবেন। এসি / নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকা।
সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল থেকে গেইটলক বিরতিহীন বাসে চড়ে সরাসরি শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ যেতে হবে। বাসে জনপ্রতি ভাড়া লাগবে ২৫০ টাকা। মুন্সিগঞ্জ বা নীলডুমুর নৌকা ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পর্যটন কেন্দ্রে যেতে হয়।
নীলডুমুর নৌকা ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে কলাগাছিয়া যেতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। ছোট বড় ট্রলার ভেদে ট্রলার ভাড়া ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত। ট্রলারে ২০ থেকে ২৫ জন যেতে পারবেন।
এছাড়া মুন্সিগঞ্জের ট্যুরিস্ট নৌকা ঘাট থেকে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম স্পটে যেতে পারবেন। যেতে সময় লাগবে ২ থেকে ২.৫ ঘন্টা। ছোট বড় ট্রলার ভেদে ট্রলার ভাড়া ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা। ২০-২৫ জন ট্রলারে যেতে পারবেন।
মনে রাখবেন মুন্সিগঞ্জ ফরেস্ট অফিস এবং বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিস থেকে পাস নিয়ে কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক যেতে হবে।
কোথায় থাকবেন
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে থাকার জন্য বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবন হোটেল, বর্ষা রিসোর্ট, টাইগার পয়েন্ট গেস্ট হাউজ, হোটেল সৌদিয়া, হোটেল সোনার বাংলা, রূপসী বাংলা লজ ও আকাশলীনা রিসোর্ট উল্লেখ্যযোগ্য।
এছাড়া সাতক্ষীরা শহরে থাকার জন্য হোটেল আল-কাশেম আবাসিক, হোটেল টাইগার প্লাস, হোটেল সাতক্ষীরা প্যালেস, হোটেল উত্তরা আবাসিক থাকতে পারবেন। সাতক্ষীরা আবাসিক হোটেল সমূহের তথ্য জানুন।
কোথায় খাবেন
মুন্সিগঞ্জের সুশীলন ও বর্ষা রিসোর্টে থাকার পাশাপাশি খাবার ব্যবস্থা রয়েছে। চাইলে এখান থেকে খাবার খেতে পারবেন। এছাড়া সাতক্ষীরা শহরের পানসি রেস্তোরাঁ, সোনারগাঁও, স্বপ্ন রেস্তোরাঁ, লেক ভিউ ক্যাফে থেকে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন।
সাতক্ষীরার বিখ্যাত বাগদা চিংড়ি, চুই ঝালের মাংস, সন্দেশ, সুন্দরবনের খাঁটি মধু খাবেন।
ভ্রমণ টিপস
- কাঠের তৈরি ট্রেইল ধরে হাঁটুন।
- পশুপাখি শিকার ও বিরক্ত থেকে বিরত থাকুন।
- পানির বোতল, শুকনো খাবার সাথে নিবেন।
- বানরের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে হাতে লাঠি রাখুন।
- প্রয়োজনে একজন গাইডের সহয়তা নিন।
- বনের ভেতর একা একা যাবেন না, প্রয়োজনে দল বেঁধে প্রবেশ করুন।
- বনের ভেতর উচ্চ শব্দে কথা বলবেন না।
- বনের পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না।
সাতক্ষীরার আরো দর্শনীয় স্থান
কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও আশেপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির, মোজাফফর গার্ডেন, লেক ভিউ ক্যাফে, নলতা শরীফ, রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র উল্লেখ্যযোগ্য।





