শাহপরীর দ্বীপ ভ্রমণ টিপস, টেকনাফ, কক্সবাজার

টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর মোহনায় বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্তে শাহপরীর দ্বীপ অবস্থিত। আপনারা যারা শাহপরীর দ্বীপ ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন তারা আজকের এই আর্টিকেলে শাহপরীর দ্বীপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

শাহপরীর দ্বীপ | Shapuree Island / Shah Porir Dwip

শাহপরীর দ্বীপ টেকনাফ উপজেলার সর্ব দক্ষিণে ভূ-খণ্ডের নিকটবর্তী একটি দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এই দ্বীপের বাম পাশে নাফ নদী, যা বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্তকে বিভক্ত করেছে।

টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। এই দ্বীপে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের প্রধাণ পেশা মাছ ধরা ও লবণ চাষ।

BM Khalid Hasan Sujon

বর্তমানে এই দ্বীপ মূল ভূ-খণ্ডের সাথে যুক্ত থাকলেও অতীতে আলাদা একটি দ্বীপ ছিলো। শাহপরীর দ্বীপে লাইফ গার্ড না থাকার কারণে সমুদ্রের জোয়ার ভাটার সময় নির্ধারণ করা যায় না।

শাহপরীর দ্বীপ থেকে বাংলাদের একমাত্র প্রবল পাথুরে দ্বীপ সেন্টমার্টিন হালকা হালকা দেখা যায়।

তাই আপনারা যারা সমুদ্রে নামার চিন্তা করবেন তারা নিজ উদ্যোগে আসেপাশে মানুষের কাছে জোয়ার ভাটার সময় জেনে তারপর সমুদ্রে নামবেন। কখনো ভাটার সময় সমুদ্রে নামবেন না।

শাহপরীর দ্বীপ কোথায় অবস্থিত

শাহপরীর দ্বীপ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রাম বা দ্বীপ। যা টেকনাফ উপজেলার উপদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রথম ইংরেজ বর্মী যুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা এই দ্বীপ দাবি করে।

BM Khalid Hasan Sujon

শাহপরীর দ্বীপ টেকনাফ নদীর মোহনায় বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত। এই দ্বীপের বামপাশ দিয়ে নাফ নদী বয়ে গেছে, যা বাংলাদেশ ও মায়ানমার  থেকে সীমান্ত বিভাজন করেছে।

শাহপরীর দ্বীপের নামকরণ

শাহপরীর দ্বীপের নামকরণ সম্পর্কে অনেকে বলেন সম্রাট শাহ সুজার “শাহ” এবং তার স্ত্রী পরীবানুর “পরী” মিলিয়ে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছিল শাহপরীর দ্বীপ। আবার অনেকের মতে শাহ ফরিদ আউলিয়ার নাম অনুসারে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছিল।

আবার কারো মতে রোখাম রাজ্যের রাণী কয়রাপরীর মেয়ে শাহপরীর নাম সাথে মিলিয়ে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি সা’বারিদ খাঁর হানিফ ও কয়রাপরী কাব্য গ্রস্থের অন্যতম চরিত্র শাহপরী।

শাহপরীর দ্বীপের আয়তন ও জনসংখ্যা

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে শাহপরীর দ্বীপের আয়তন ছিল ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ কিলোমিটার প্রস্থ। বর্তমানে এই দ্বীপের দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩ কিলোমিটার।

BM Khalid Hasan Sujon

বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এই জনসংখ্যার অধিকাংশ মানুষ সমুদ্রে মাছ ধরার কাজ এবং লবণ চাষ করা তাদের প্রধান পেশা।শাহপরীর দ্বীপে হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রসা, মন্দির সব কিছু রয়েছে।

কিভাবে শাহপরীর দ্বীপ যাবেন

ঢাকা থেকে সরাসরি এসি নন-এসি বাস টেকনাফ যায়। এছাড়া আপনারা প্রথমে কক্সবাজার গিয়ে সেখান থেকে টেকনাফ যেতে পারবেন। কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন বাস সার্ভিস টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে টেকনাফের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। সড়ক পথে বাসে যেতে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগবে। জনপ্রতি বাস ভাড়া ১৪০ টাকা। এছাড়া আপনারা কক্সবাজার থেকে রিজার্ভ বা লোকাল প্রাইভেট কার বা সিএনজি ভাড়া করে টেকনাফ যেতে পারবেন।

টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব ১৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। টেকনাফ থেকে সিএনজিতে শাহপরীর দ্বীপ যেতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগবে। জনপ্রতি সিএনজি ভাড়া ১১০ টাকা।

সিএনজি শাহপরীর দ্বীপ জেটির সামনে এসে নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে গোলার চরে পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়।

বর্ষা মৌসুমে অর্ধেক পথ সিএনজিতে গিয়ে বাকি পথ ট্রলারে যেতে হবে। জনপ্রতি ট্রলার ভাড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা। আপনারা চাইলে রিজার্ভ ট্রলার নিয়ে শাহপরীর দ্বীপে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

শাহপরীর দ্বীপে থাকার জন্য এলজিইডির একটি বাংলো রয়েছে। এখানে থাকার জন্য আপনাকে অগ্রিম যোগাযোগ করতে হবে। থাকার জন্য ২০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হবে। তবে, এই বাংলোতে থাকার জন্য আপনাকে উপযুক্ত কারণ দেখাতে হবে।

আর টেকনাফ থাকার জন্য অনেক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ পর্যাটন করপোরেশন হোটেল নেটং। ঠিকানা: কিরণতলী, টেকনাফ। মোবাইল নাম্বারঃ ০১৯৯১-১৩৯২১৯। এসি স্যুইট ৩১০০ টাকা, এসি ডাবল রুম ১৯০০ টাকা, নন-এসি ডাবল রুম ১৩০০ টাকা।

কোথায় খাবেন

শাহপরীর দ্বীপে খাবার জন্য রেস্তোরাঁ রয়েছে। সেখান থেকে আপনারা খাবর খেতে পারবেন। এছাড়া টেকনাফে পর্যাটকদের জন্য অনেক ভালো মানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যেখান থেকে আপনারা পছন্দের খাবার খেতে পারবেন।

আশেপাশে আরে দর্শনীয় স্থান

শাহপরীর দ্বীপ ছাড়াও টেকনাফ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে নাফ নদী, শামলাপুর সমুদ্র সৈকত, টেকনাফ জেটিঘাট ইত্যাদি।

FAQ (প্রশ্ন উত্তর)

শাহপরীর দ্বীপ কোন জেলায় অবস্থিত?

শাহপরীর দ্বীপ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায়অবস্থিত। শাহপরীর দ্বীপ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রাম।

শাহপরীর দ্বীপের আয়তন কত?

বর্তমান শাহপরীর দ্বীপের আয়তন দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩ কিলোমিটার। স্বাধীনতার আগে এর আয়তন ছিল দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১০ কিলোমিটার।

টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ কত কিলোমিটার?

টেকনাফ জিরো পয়েন্ট থেকে শাহপরীর দ্বীপ ১৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। সিএনজিতে যেতে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগবে।