দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, লক্ষীপুর

লক্ষীপুর জেলার সদর উপজেলার দালাল বাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রাচীন দালাল বাজার জমিদার বাড়ি (Dalal Bazar Zamidar Bari)। প্রায় ৪০০ বছর আগে জমিদার লক্ষী নারায়ণ বৈষ্ণব এই বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। তাই অনেকের কাছে এটি লক্ষী নারায়ণ বৈষ্ণবের বাড়ি হিসাবেও পরিচিত। বর্তমানে জমিদার বাড়িটি ভূমি অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রায় ১৫ বিঘা জায়গায় উপর প্রতিষ্ঠিত জমিদার বাড়ির প্রবেশ পথে রাজকীয় গেইট, জমিদার প্রাসাদ, রাজ প্রাসাদ, আন্দর মহল প্রাসাদ, বাড়ীর প্রাচীন, নাট মন্দির, পুজা মন্ডল, শান বাঁধানো ঘাট, বিশাল আকারের লোহার সিন্দুক ও কয়েক টন ওজনের লোহার ভীম আছে।

লক্ষীপুর প্রাচীন ঐতিহাসিক দালাল বাজার জমিদার বাড়ির দৃষ্টিনন্দন এসব স্থাপনা দেখতে দুর দূরন্ত থেকে প্রতিদিন বহু দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।

দালাল বাজার জমিদার বাড়ি ইতিহাস

আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে জমিদার লক্ষী নারায়ণ বৈষ্ণব কলকাতা থেকে লক্ষীপুর দালান বাজার আসেন কাপড়ে ব্যবস্থা করতে। জমিদার লক্ষী নারায়ণ বৈষ্ণবের পরবর্তী উত্তরসূরীরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বানিজ্যিক এজেন্সী ও জমিদারী লাভ করেন।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বানিজ্যিক এজেন্ট হওয়ার পর স্থানীয় মানুষেরা তাদের মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেনি। তাই স্থানীরা তাদের দালাল বলে আখ্যায়িত করেন। ঐখান থেকে এই স্থানটি দালাল বাজার হিসেবে পরিচিত লাভ করে।

ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিদারের বংশধররা এখানে একাধারে জমিদারী পরিচালনা করেন। ১৯৪৬ সালে নোয়াখালী-লক্ষীপুরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় জমিদারগণ জমিদার বাড়ি ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। এভাবে জমিদার বংশ ও জমিদারীর সমাপ্তি ঘটে এবং জমিদার বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে রয়েল, আলম, আলবারাকা, ইকোনো, গ্রীনল্যান্ড এক্সপ্রেস ও ঢাকা এক্সপ্রেস সহ যেকোনো পরিবহনে চড়ে লক্ষীপুর আসবেন। ঢাকা থেকে লক্ষীপুর জনপ্রতি বাস ভাড়া ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং যেতে সময় লাগে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা।

লক্ষীপুর জেলা সদর বাস টার্মিনাল নেমে সিএনজি বা অটোরিকশা করে লক্ষীপুর দালাল বাজার জমিদার বাড়ি যেতে পারবেন। সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া লাগবে ২৫ টাকা।

কোথায় থাকবেন

লক্ষীপুর জেলা শহরে থাকার জন্য অনেক আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ আছে। হোটেল গোলাপ (01860-188302), হোটেল ইউনিক, (01732-202256), হোটেল আবেহায়াত (01718-428922), স্টার গেস্ট হাউজ (01726-123719), এন আর গেস্ট হাউজ (01623-619053), সোনার বাংলা গেস্ট হাউজে (01733-687166) থাকতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

খাবার জন্য লক্ষীপুর জেলা শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এর মধ্যে কুটুম বাড়ি রেস্টুরেন্ট, রাজমহল, তৃপ্তি, সেন্ট মার্টিন রেস্টুরেন্ট, নূর জাহান, আব্বাস আলী রেস্টুরেন্ট, ফুড গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, মোহাম্মদীয়া হোটেল উল্লেখযোগ্য।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *