বেহুলার বাসর ঘর, বগুড়া

বগুড়া জেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার এবং মহাস্থানগড় বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে গোকুল, রামশহর ও পলাশবাড়ি গ্রামের সংযোগ স্থালে অবস্থিত বেহুলার বাসর ঘর (গোকুল মেধ)। স্থানীয়দের কাছে এটি বেহুলার বাসর ঘর নামে অধিক পরিচিতি হলেও আসলে এটি বেহুলার বাসর ঘর নয়, প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ। অনেকের কাছে এটি লক্ষীন্দরের মেধ।

বাহিরে থেকে এটি দেখতে উঁচু টিলার মতো হলেও ভিতরের গভীরে লুকিয়ে আছে স্থাপত্য। ১৭২ টি কক্ষের সমান দূরত্বে সাজানো মাঝখানে বিশাল একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে। কক্ষগুলোর ইটের আকার, গঠন ও দেয়ালের পুরুত্ব থেকে প্রমাণ মেলে এটি কোনো সাধারণ রাজকক্ষ বা গৃহ ছিলো না।

এখানে বসবাস করতেন বৌদ্ধগুরুরা, যারা চর্চা করতেন ধর্ম, ধ্যান ও চিকিৎসাবিদ্যা। এখানে প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতার একটি বৌদ্ধস্তম্ভ রয়েছে, যা সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন। স্তম্ভের পূর্বার্ধে ২৪ কোণবিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ একটি স্নানাগার রয়েছে, যার মধ্যে ৮ ফুট গভীর একটি কূপ রয়েছে।

প্রতিদিন এখানে শতশত দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে প্রাচীন আমলের এই ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখার জন্য। 

BM Khalid Hasan Sujon

বেহুলার বাসর ঘরের ইতিহাস

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য মতে আনুমানিক ৭ম শতাব্দী থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে এটি নির্মিত হয়। জানা যায় এটি বেহুলার বাসর ঘর ছিলো, যা সেন যুগের অনেক পূর্বোকার ঘঠনা। কিন্তু বর্তমান গবেষণাদের মতে এই কীর্তিস্তম্ভ ৮০৯ থেকে ৮৪৭ খৃস্টাব্দে দেবপাল নির্মিত একটি বৌদ্ধমঠ।

এই স্তম্ভে বহু গর্তযুক্ত একটি ছোট প্রস্তর খণ্ডের সঙ্গে ষাঁড়ের প্রতিকৃতির একটি স্বর্ণপত্র পাওয়া গিয়েছিল। এটা থেকে অনুমান করা হয় এটি ছিলো একটি বর্গাকৃতির শিব মন্দির। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

কিভাবে যাবেন

বগুড়া শহরে থেকে ১০ কিলোমিটার এবং মহাস্থানগড় বাস টার্মিনাল থেকে ২ কিলো দূরে অবস্থিত বেহুলার বাসর ঘর বা গোকুল মেধ। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বগুড়া শহরে বা মহাস্থানগড় বাস টার্মিনাল এসে সিএনজি বা অটোরিকশা করে বেহুলার বাসর ঘর (গোকুল মেধ) যেতে পারবেন।

BM Khalid Hasan Sujon

ঢাকা থেকে বাসে বগুড়াঃ ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, কল্যাণপুর, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, একতা পরিবহন, শাহ ফাতেহ আলী পরিবহন, এস আর ট্রাভেলস, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, এস এ পরিবহনে চড়ে সরাসরি বগুড়া যেতে পারবেন। এসি ও নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৫০০-১২০০ টাকা।

ট্রেনে ঢাকা থেকে বগুড়াঃ ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ও লালমনি এক্সপ্রেস বগুড়া যাত্রা বিতরিত করে যাতায়াত করে। ঢাকা থেকে সকাল ৯:১০ মিনিটে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যায় এবং লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন রাত ৯:৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। ট্রেনের আসনভেদে ভাড়া ৪৭৫-১০৯৩ টাকা। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সোমবার এবং লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন শুক্রবার বন্ধ থাকে।

কোথায় খাবেন

বগুড়া শহরে খাবার জন্য ভালো মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এরমধ্যে সুজনের ভর্তা হোটেল, বগুড়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, স্বপ্নপুরী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, ক্যাসুয়ারিনা, শ্যামলী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, দ্যা ব্রেকরুম বগুড়া, গুড ফুড ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।

কোথায় থাকবেন

বগুড়া শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। এর মধ্যে মম ইন হোটেল, সেফওয়ে মোটেল, নাজ গার্ডেন, মোটেল ক্যাসল এমএইচ, হোটেল সিস্তা, পর্যটন মোটেল, রেডচিলিস চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এন্ড আবাসিক হোটেল, হোটেল আকবরিয়া, নর্থওয়ে মোটেল, হোটেল আল আমিন, হোটেল সান ভিউ, হোটেল হানি ডে, হোটেল আজিজ, হোটেল রয়াল প্যালেস, হোটেল রাজমনি উল্লেখ্য।

BM Khalid Hasan Sujon