মহাস্থানগড় বগুড়া জেলা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর পশ্চিম পাশে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল এবং ২০১৬ সালে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রাচীর বেষ্টিত এই নগরীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ের অনেক প্রত্বতাত্ত্বিক নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থান আছে। আজকেরই ভ্রমণ গাইডে আপনাদের জানাবো মহাস্থানগড় এর সকল দর্শনীয় স্থান সমূহ। যাতে আপনি মহাস্থানগড় ভ্রমণে গিয়ে আশেপাশে থাকা সকল দর্শনীয় স্থান গুলো ঘুরে দেখে আসতে পারেন।
মহাস্থানগড় এর সকল দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড়ের প্রধান দর্শনীয় স্থান গুলো হলো মহাস্থানগড় জাদুঘর, পরশুরামের প্রাসাদ, শীলাদেবীর ঘাট, বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, খোদার পাথর ভিটা, বেহুলার বাসর ঘর (গোকুল মেধ), জিউৎকুন্ড কূপ, শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ারের মাজার, মানকালীর ঢিবি উল্লেখযোগ্য।
মহাস্থানগড় জাদুঘরঃ মহাস্থানগড় জাদুঘরে মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, দিনাজপুর, রানী ভবানীপুর, শেরপুর সহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাচীন সামগ্রী গুলো উদ্ধার করে এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া এখানে স্থান পেয়েছে হাজার হাজার বছর আগের সোনা, রূপা, লোহা, ব্রোঞ্জ, কাঁসা, ধাতব পদার্থ, পোড়ামাটির মূর্তি, কষ্টিপাথর, মার্বেল, শিলালিপি সহ বহু প্রাচীন ও মূল্যবান নিদর্শন। বর্তমানে জাদুঘরটি বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে।
পরশুরামের প্রাসাদঃ পরশুরামের প্রাসাদ যা স্থানীয়দের কাছে হিন্দু নৃপতি পরশুরামের প্যালেস নামে পরিচিত।
শীলাদেবীর ঘাটঃ মহাস্থানগড় থেকে ২০০ মিটার পূর্বে করতোয়া নদীর পাড়ে বৈরাগী ভিটার বিপরীত পাশে অবস্থিত শীলাদেবীর ঘাট। জানা যায় শীলাদেবীর ছিলেন মহাস্থানগড়ের সর্বশেষ হিন্দু রাজা পরশুরামের বোন বা ভগ্নি।
বৈরাগীর ভিটাঃ বৈরাগীর ভিটা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত একটি প্রাচীন প্রত্বতাত্ত্বিক নিদর্শন। ধারণা করা হয় এটি পুরাতন একটি রাজবাড়ী। ধারণা করা হয় রাজা কর্তৃক মুনি, ঋষি বা বৈরাগীর সেবা এখানে করা হত বলে এর নামকরণ হয়েছে বৈরাগীর ভিটা। বাংলাদেশ প্রত্বতত্ত্ব অধিদপ্তর এর রক্ষণাবেক্ষণ করে।
গোবিন্দ ভিটাঃ গোবিন্দ ভিটা মহাস্থানগড়ের করতোয়া নদীর বাঁকে মহাস্থান দুর্গনগরীর উত্তর দিকে অবস্থিত গোবিন্দ ভিটা। এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।
খোদার পাথর ভিটাঃ খোদার পাথর মহাস্থানগড়ে অবস্থিত একটি ভিটা বা ঢিবি। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর রক্ষণাবেক্ষণের দ্বায়িত্ব পালন করছে।
বেহুলার বাসর ঘর (গোকুল মেধ): বেহুলার বাসর ঘর (গোকুল মেধ) এটিকে অনেকে লক্ষীন্দরের মেধ বলে থাকে। মূলত এটি বেহুলার বাসর ঘর নয়, এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ। ৭ম-১২শ শতাব্দীর মধ্যে এটি নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়।
জিউৎকুন্ড কূপঃ জিউৎকুন্ড কূপ বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত একটি কূপ। স্থানীয় মানুষের কাছে অমর কূপ নামে পরিচিত। ধারণা করা হয় স্থানীয় মানুষের পানির অভাব দুর করতে পরশুরাম এই কূপটি খনন করেছিলেন।
শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ারের মাজারঃ শাহ সুলতান বলখী মাহিসাওয়ার একজন মুসলিম ধর্ম প্রচারক ছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের বালখ রাজ্যের সম্রাট ছিলেন। এখানে তার মাজার এবং প্রাচীন একটি মসজিদ আছে।
মানকালীর ঢিবিঃ মহাস্থানগড়ের মজা পুকুরের পূর্বপাশে অবস্থিত মানকালীর ঢিবি অবস্থিত। এখানে ১৫ গম্বুজ বিশিষ্ট অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।





