মহাস্থানগড় জাদুঘর, বগুড়া

মহাস্থানগড় জাদুঘর করতোয়া নদীর তীরে মহাস্থানগড় টিলা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ১৯৬৭ সালে মহাস্থানগড়ের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সংরক্ষণ করার জন্য মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

জাদুঘরে প্রবেশপথে দেখতে পাবেন নানা রঙের ফুল ও ফলের বাগান। এছাড়া দেখতে পাবেন কয়েটি হাজার বছর আগের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনা। জাদুঘরের পাশে আম বাগানে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পিকনিক করার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি পিকনিক স্পট।

মহাস্থানগড় জাদুঘরে মহাস্থানগড় ও তার তার আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা স্মৃতিচিহৃ এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলো হলো পুরানো মাটির মূর্তি, কালো পাথরের মূর্তি, বেলে পাথরের মূর্তি, পোড়া মাটির পুতুল, মাটির তৈরি খোদাই করা ইট, শিলালিপি, মাটি ও অন্য ধাতুর তৈরি বোতাম, কানের দুল, নাক ফুল, বাসনপত্র, স্বর্ণবস্তু, ব্রোঞ্জের সামগ্রী, মূল্যবান পাথর ও মার্বেল সহ নানা ধরনের প্রাচীন অলংকার।

এছাড়া জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে খ্রিস্টপূর্ব ৫০ শতকের পোড়ামাটির মূর্তি, ৭ম-১১শ শতকের পোড়ামাটির দ্রব্য, ১৫শ শতকের আরবি শিলালিপি, ১৮শ শতকের মূল্যবান মার্বেল পাথরের গণেশ মূর্তি, ১১শ শতকের বিঞ্চু, ১২শ শতকের ব্রক্ষ্ম, ৮ম-১২শ শতকের রৌপ্য ও স্বর্ণ মুদ্রা, ৮ম-১০ম শতকের মাটির বল, ৯ম ও ১০ম শতকের অষ্ট ধাতুর বালা, ৭ম-৯ম শতকের ব্রোঞ্জের মূর্তি, ৪র্থ ও ৫ম শতকের পোড়ামাটির মূর্তি, ১০ম ও ১১শ শতকের পোড়ামাটির ফলক সহ বিভিন্ন সময়ের পোড়া মাটি ও দামি পাথরের একাধিক মূর্তি।

BM Khalid Hasan Sujon

মহাস্থানগড় জাদুঘর বন্ধের দিন

গ্রীষ্মকালে জাদুঘর সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এবং শীতকালে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। দুপুর ১ টা থেকে ৩০ মিনিট মধ্যাহৃ বিরতি থাকে। মহাস্থানগড় জাদুঘর সপ্তাহের প্রতি রবিবার ও সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। সোমবার অর্ধ দিবস বন্ধ থাকে। শুক্রবারে জুম্মা নামাজের জন্য দুপুর ১২:৩০ মিনিট থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে।

প্রবেশ টিকেট মূল্য

দর্শনার্থীর বিবরণমূল্য
দেশী দর্শনার্থী জনপ্রতি৩০ টাকা
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক জনপ্রতি১০ টাকা
বিদেশী দর্শনার্থী জনপ্রতি৪০০ টাকা
সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থী জনপ্রতি২০০ টাকা

কিভাবে যাবেন

বগুড়া শহরে থেকে ১০ কিলোমিটার এবং মহাস্থানগড় বাস টার্মিনাল থেকে ২ কিলো দূরে অবস্থিত মহাস্থানগড় জাদুঘর। বগুড়া শহর থেকে বাস বা সিএনজি করে বা মহাস্থানগড় বাস টার্মিনাল থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে খুব সহজে যেতে পারবেন। মহাস্থানগড় বাস টার্মিনাল থেকে সিএনজি ভাড়া ১০ টাকা। যাত্রাপথে মহাস্থানগড়ের প্রাচীন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

ঢাকা থেকে বাসে বগুড়াঃ ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, কল্যাণপুর, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন, শাহ ফাতেহ আলী পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, একতা পরিবহন, এস আর ট্রাভেলস, এস এ পরিবহনে চড়ে সরাসরি বগুড়া যেতে পারবেন। এসি ও নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৫০০-১২০০ টাকা।

BM Khalid Hasan Sujon

ট্রেনে ঢাকা থেকে বগুড়াঃ ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ও লালমনি এক্সপ্রেস বগুড়া যাত্রা বিতরিত করে যাতায়াত করে। ঢাকা থেকে সকাল ৯:১০ মিনিটে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যায় এবং লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন রাত ৯:৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। ট্রেনের আসনভেদে ভাড়া ৪৭৫-১০৯৩ টাকা। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সোমবার এবং লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন শুক্রবার বন্ধ থাকে।

কোথায় খাবেন

বগুড়া শহরে খাবার জন্য ভালো মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এরমধ্যে সুজনের ভর্তা হোটেল, শ্যামলী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, বগুড়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, দ্যা ব্রেকরুম বগুড়া, স্বপ্নপুরী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, ক্যাসুয়ারিনা, গুড ফুড ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।

কোথায় থাকবেন

বগুড়া শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। এর মধ্যে মম ইন হোটেল, সেফওয়ে মোটেল, নাজ গার্ডেন, মোটেল ক্যাসল এমএইচ, রেডচিলিস চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এন্ড আবাসিক হোটেল, পর্যটন মোটেল, রেডচিলিস চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এন্ড আবাসিক হোটেল, নর্থওয়ে মোটেল, হোটেল রাজমনি, হোটেল আল আমিন, হোটেল সান ভিউ, হোটেল আকবরিয়া, হোটেল আজিজ, হোটেল রয়াল প্যালেস, হোটেল সিস্তা, হোটেল হানি ডে উল্লেখ্য।