খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের মসজিদকুড় গ্রামে অবস্থিত মসজিদকুঁড় মসজিদ। মসজিদের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ, এর কাছেই সুন্দরবন। মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রাচীন দর্শনীয় স্থান সমূহ মধ্যে অন্যতম।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর মসজিদটি আবিস্কৃত হয়। এই অঞ্চলে পূর্বে বন ও বিভিন্ন গাছ-গাছালিতে ঘেরা ছিলো। মাটি খননকার্য সম্পাদনা করে মসজিদটি আবিষ্কার করা হয় বলে একে মসজিদকুঁড় মসজিদ নামকরণ করা হয়েছিল। মসজিটি আবিষ্কারের সময়কালে কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি বলে নির্মাণ সময় সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ববিদগণের ধারণা মসজিদটি খান জাহানের শাসনামলে তৈরি করা হয়েছে।
মসজিদকুঁড় মসজিদটি বর্গাকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। যার ভেতর ও বাহিরের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৩৯ ও ৫৪ ফুট। চারপাশের প্রতিটি দেয়াল প্রায় ৭ ফুট প্রশস্ত। মসজিদটির ছাদের উপর নয়টি গম্বুজ আছে। কিবলা প্রাচীর ব্যতীত অন্য তিন পাশে ৩ টি করে খিলানযুক্ত প্রবেশ পথ আছে।
দৃষ্টিনন্দন মসজিদকুঁড় মসজিদটি মূলত পোড়ামাটির ফলকে আলল্কৃত ছিল, যা খিলান পথের স্প্যান্ড্রেল এবং মিহরাব কুলঙ্গিতে এখনও বিদ্যমান। এছাড়া দেয়ালে বিভিন্ন ফুল, জালির কাজ, হীরাকৃতি ও লতাপাতার নকশা এখনো চোখে পড়ে।
বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ খান জাহান আলীর স্থাপত্যের সাতে মসজিদটির অনেকটাই মিল আছে।
মসজিদকুঁড় মসজিদ কিভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে লিটন ট্রাভেলস, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, রয়েল এক্সপ্রেস, এইচ আর ট্রাভেলস, গাজীপুর পরিবহনে চড়ে পাইকগাছা উপজেলা শহরে নেমে যাবেন। এসি / নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৭০০-১,০০০ টাকা।
পাইকগাছা বাস টার্মিনাল থেকে কয়রাগামী বাসে চড়ে চাঁদআলী ব্রিজের মুখে নেমে যাবেন। বাসের সুপারভাইজারকে আগেই বলে রাখবেন চাঁদআলী ব্রিজের মুখে নামিয়ে দিবে। জনপ্রতি বাস ভাড়া ৫০ টাকা। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে মসজিদকুঁড় মসজিদ যেতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
মসজিদকুঁড়ের পাশের আমাদি বাজার, সেখান থেকে সকালে নাস্তা ও দুপুরের খাবার কম টাকায় খেতে পারবেন। এছাড়া পাইকগাছা উপজেলা শহরে গিয়ে পছন্দের খাবার খেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
থাকার জন্য আপনাকে পাইকগাছা উপজেলা শহর বা খুলনা জেলা শহর আসতে হবে। সেখানে থাকার আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। খুলনা আবাসিক হোটেল ভাড়া কত জানুন।





