খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে অবস্থিত আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম সেন্টার। আন্ধারমানিক সুন্দরবন (Andharmanik sundarban) শুধুমাত্র একটি পর্যটন স্পট নয় এটি যেন সুন্দরবন ভ্রমণের এক অনুভূতি। ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্য, লবণাক্ত জলের স্রোত আর বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ সব মিলিয়ে অন্য এক জগৎ।
যারা প্রকৃতিকে ভালবাসেন, যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম সেন্টার এক অসাধারণ ভ্রমণ স্পট। এখানে পাবেন অকৃত্রিম প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ, নৌকা ভ্রমণ ও ফটোগ্রাফির স্বর্গরাজ্য।
আন্ধারমানিক সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল। অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এসময় বৃষ্টি কম হওয়ার নৌকা ভ্রমণ ও বন্যপ্রাণী সহজে দেখা যায়।
প্রবেশ টিকেট মূল্য
আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম সেন্টারে প্রবেশ টিকেট মূল্য জনপ্রতি ৪৪ টাকা। শিপ বা লঞ্চের প্যাকেজে গেলে আপনার টিকেট কাটার প্রয়োজন হবে না। ট্যুর অপারেটর আপনার টিকেট ব্যবস্থা করবে।
আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম সেন্টারে কি কি দেখবেন
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক একটি ইকোট্যুরিজম সেন্টার। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বানর, বন বিড়াল, বন্য শূকর, সজারু সহ বিভিন্ন ধরনের বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে।
সরীসৃপের মধ্যে মোহনার কুমির, অজগর, রাজগোখরা, কেউটে সহ কয়েক প্রজাতির সামুদ্রিক সাপ আছে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে বক, শকুন, চিল, মাছরাঙা, শালিক, বুলবুলি, গাংচিল, ফিঙে, কাঠঠোকরা, ঘুঘু, টুনটুনি, দোয়েল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া খালে বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি ও কাঁকড়া আছে।
বৃক্ষের মধ্যে সুন্দরী ও গেওয়া সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ। এছাড়া গরান, বাইন, কাঁকড়া, ধুন্দল, পশুর, কেওড়া, গোলপাতা ইত্যাদি গাছ প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়।
পর্যটকদের জন্য রয়েছে বন্যপ্রাণী প্রদর্শণীয় ব্যবস্থা, হরিণের বেষ্টনী, উপর থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতির সৌন্দর্য দেখতে উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার, বনের ভিতর দিয়ে হাঁটার জন্য ৮০০ মিটারের ফুট ট্রেইল। ফুট ট্রেইলে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে বসার স্থান তৈরি করা হয়েছে।
আন্ধারমানিক সুন্দরবন কিভাবে যাবেন
সুন্দরবনের আন্ধারমানিক যেতে রাজধানী ঢাকার গাবতলী, শ্যামলী, কলাবাগান, আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল থেকে সোহাগ পরিবহন, একে ট্রাভেলস, গ্রীনলাইন পরিবহন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, হানিফ পরিবহন, ঈগল পরিবহন সহ যেকোনো পরিবহনে চড়ে খুলনা আসতে হবে। জনপ্রতি নন-এসি বাস ভাড়া ৭০০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১,০০০ টাকা।
এছাড়া ঢাকার কল্যাণপুর, মালিবাগ গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে মোংলাগামী বাসে চড়ে মোংলা আসতে পারবেন।
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে খুলনা আসতে পারেন। খুলনা থেকে রিজার্ভ গাড়ি / বাস / মোটরসাইকেল করে মোংলা যেতে পারবেন।
খুলনা বা মোংলা থেকে শিপ, লঞ্চ বা ট্রলারে করে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক যেতে পারবেন। আন্ধারমানিক যাওয়ার জন্য সাধারণত ট্যুর অপারেটরদের সাহায্য নেওয়া ভালো। কারণ তারা আপনার ভ্রমণে আরো সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে।
কোথায় থাকবেন
আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম সেন্টারে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা নেই। চাইলে সুন্দরবনের আশেপাশে অনেক রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজ রয়েছে সেখানে থাকতে পারেন। এছাড়া থাকার জন্য খুলনা শহর ও মোংলাতে অনেক আবাসিক হোটেল আছে।
খুলনা আবাসিক হোটেল সমূহঃ হোটেল রয়েল, টাইগার গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল (01720-505778), হোটেল ক্যাসেল সালাম, সিটি ইন উল্লেখযোগ্য।
মোংলা আবাসিক হোটেল সমূহঃ হোটেল ব্যাংকক, ক্রাউন প্যালেস, হোটেল পশুর, মোংলা পোর্ট রেস্ট হাউজ, হোটেল আমিন ইন্টারন্যাশনাল (01922-179191), হোটেল শাহীন (01747-664966), হাবিব ইন্টারন্যাশনাল (01711-281658) উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
এখানে পর্যটকদের খাবার ব্যবস্থা নেই। খাবার জন্য খুলনা ও মোংলা শহরে ভালো মানের খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। সেখান থেকে পছন্দসই খাবার খেতে পারবেন।
সতর্কতা
- বন্যপ্রাণী থেকে সাবধান থাকুন, তাদের উত্যপ্ত করবেন না।
- বনের ভেতর একা-একা ঘোরাঘুরি করবেন না।
- রাতে বনেন ভেতর আলো জ্বালাবেন না এবং উচ্চ শব্দে আওয়াজ করবেন না।
- নদীতে নামার আগে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরুন।
- ট্যুরিস্ট স্পটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
সুন্দরবনের আরো দর্শনীয় স্থান
সুন্দরবন ভ্রমণে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র, করমজল সুন্দরবন, হিরন পয়েণ্ট, কটকা সমুদ্র সৈকত, তারুয়া সমুদ্র সৈকত, শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম সেন্টার, দুবলার চর উল্লেখযোগ্য।





