খুলনা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নে সুন্দরবনের কালাবাগী ফরেষ্ট ষ্টেশনে তৈরি করা হয়েছে কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র (Kalabogi Eco Tourism Center)। এখানে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও তৈরি করা অবকাঠামো পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।
এই ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে দেখতে পাবেন এখানে-সেখানে বানরের দল, হরিণ লালন-পালন ও প্রজনন কেন্দ্র, খাঁচায় ভিতর মায়াবী চিত্রা হরিণের পাল, ছোট পুকুরে রয়েছে কুমির, শুকর, গুইসাপ, সহ নানা প্রজাতির পাখি।
সুন্দরবনের গাছগাছালির মধ্যে দিয়ে হেঁটে হেঁটে সুন্দরবনের প্রকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রায় দেড় কিলোমিটারের কংক্রিটের ফুট ট্রেইল। এখানকার গাছ গুলোতে গাছের স্থানীয় না ও বৈজ্ঞানিক নাম লেখা আছে, যাতে পর্যটকেরা সহজে গাছ সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়া পর্যটকদের ঘোরাঘুরি সুবিধার জন্য সাইনবোর্ড রোড ম্যাপ আছে।
কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘুরতে আসা পর্যটকদের নৌকা থেকে উঠানামা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে পন্টুন। উপর থেকে সুন্দরবনের প্রকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে তৈরি করা হয়েছে পাঁচ তলা উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার। ছবি তোলার জন্য দৃষ্টিনন্দন একটি গেইট। যেখানে পর্যটকেরা ছবি তুলে থাকেন।
ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেলে বনের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে বেঞ্চ ও বিশ্রামঘর। বিশ্রামের সময় ক্লান্তি দুর করতে ট্যুরিজম কেন্দ্রের রেস্টুরেন্ট থেকে চা, কফি সহ বিভিন্ন খাবার খেতে পারবেন।
এছাড়া নৌকায় করে সুন্দরবনের ছোট ছোট খালের ভিতর ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নৌকায় জনপ্রতি ১৫০ টাকা সরকারি রাজস্ব দিয়ে সুন্দরবনের খাল গুলোতে ঘুরতে পারবেন। এই ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটে সুন্দরবনের প্রকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রের টিকেট মূল্য
এই ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে প্রবেশ টিকেট মূল্য ৪০ টাকা। সুন্দরবনের খালের মধ্যে নৌকায় ঘুরতে জনপ্রতি ১৫০ টাকা খরচ হবে।
কিভাবে যাবেন
কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রে আসতে হলে প্রথমে আপনাকে খুলনা শহরে আসতে হবে। ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী থেকে হানিফ পরিবহন, ইমাদ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, ঈগল পরিবহন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ইত্যাদি বাসে চড়ে খুলনা আসবেন। নন-এসি বাস ভাড়া ৭০০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১,০০০ টাকা।
এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি মোংলাগামী বাসে চড়ে মোংলা আসতে পারেন।
এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে খুলনা আসতে পারেন। ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৪৪৫ থেকে ১,০১৮ টাকা।
খুলনা থেকে বাস বা মোটরসাইকেল করে মোংলা বা চালনা যেতে পারবেন। সেখান থেকে ট্রলার বা লঞ্চে করে কালাবগী ইকো ট্যুরিজম পর্যটন কেন্দ্রে যেতে পারবেন। এছাড়া খুলনা লঞ্চ ঘাট থেকে কালাবাগী ট্যুরিজম কেন্দ্র সহ সুন্দরবন বিভিন্ন পর্যটন স্পট গুলো ঘুরে দেখতে লঞ্চ পাবেন।
কোথায় থাকবেন
খুলনা থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল ওয়েস্ট ইন, হোটেল ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল রয়েল, হোটেল সিটি ইন উল্লেখযোগ্য।
মোংলা থাকার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হোটেল রয়েছে। এছাড়া মোংলা মোটামুটি মানের বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। কম খরচে এখানে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
কালাবাগী ট্যুরিজম কেন্দ্রে পর্যটকদের খাবার জন্য একটি রেস্টুরেন্ট আছে। সেখান থেকে চা, কফি সহ খাবার খেতে পারবেন। এছাড়া খুলনা শহর ও মোংলা বন্দরে খাবার জন্য অনেক হোটেল আছে। এসব হোটেল থেকে পছন্দসই খাবার খেতে পারবেন।
আরো পড়ুন
- সুন্দরবন ভ্রমণ গাইড
- কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক
- রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র
- সুন্দরবন রিসোর্ট





