ফুরমোন পাহাড় (Furomown hill) রাঙ্গামাটি শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রাঙ্গামাটি শহরে প্রবেশ করার সময় বিশাল উচ্চতার এই পাহাড়টি দেখতে পাবেন। ফুরমোন পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১,৫১৮ ফুট। ৪১৩ টি পাকা সিঁড়ি ও আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে হেঁটে ফুরমোন পাহাড়ের চূড়ায় যেতে পারবেন। এর চূড়া থেকে রাঙ্গামাটি শহর ও কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
প্রায় ২.৩০ ঘন্টা পাহাড়ি পথ হেঁটে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে চারপাশের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখলে আপনার সকল কষ্ট মূহুর্তে দূর হয়ে যাবে। ভোরে বা খুব সকালে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে পারলে সাদা মেঘের ওড়াউড়ি দেখতে পাবেন।
ফুরমোন পাহাড়ের চূড়ার একপাশে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি তীর্থ স্থান বা মন্দির আছে। তাই এখানে বেশি হৈচৈ করবেন না। কারণ এটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, একটি তীর্থ কেন্দ্র।
মনে রাখবেন, ফুরমোন পাহাড়ের চূড়ায় একটি আর্মি ক্যাম্প আছে। আর্মি ক্যাম্পের ছবি বা ভিডিও করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে আপনি প্রকৃতি ও নিজস্ব ছবি তুলতে পারবেন।
ফুরমোন পাহাড় যাওয়ার উপায়
ফুরমোন পাহাড় যেতে হলে প্রথমে আপনাকে রাঙ্গামাটি শহরে আসতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ, কলাবাগান, ফকিরাপুল সহ অন্যান্য কাউন্টার থেকে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, সেন্টমার্টিন হুন্ডাই, এভারগ্রিন ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড এর এসি/নন-এসি বাসে চড়ে সরাসরি রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন। নন-এসি/এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৯০০ থেকে ১,৮০০ টাকা।
রাঙ্গামাটি শহরে যাওয়ার পথে ৭ কিলোমিটার আগে মানিকছড়ি নামক স্থানে নেমে যাবেন। সেখান থেকে সিএনজি করে ফুরমোন পাহাড় এর নিচ পর্যন্ত যেতে পারবেন। সিএনজি ভাড়া লাগবে জনপ্রিত ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
এছাড়া রাঙ্গামাটি শহর থেকে সিএনজি করে যেতে পারবেন। সিএনজি আপনাকে ফুরমোন ভাবনা কেন্দ্রের সামনে নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে আপনার ট্রেকিং শুরু হবে।
আবার চট্টগ্রাম অক্সিজেন বাস টার্মিনাল থেকে পাহাড়িকা বাসে চড়ে সাপছড়ি নেমে যাবেন। জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা। বাস থেকে সাপছড়ি নেমে কাউকে জিজ্ঞেস করলে ফুরমোন পাহাড়ে যাওয়া রাস্তা দেখিয়ে দিবে।
কোথায় থাকবেন
ফুরমোন পাহাড় ভ্রমণ করে আপনি যদি রাঙ্গামাটিতে রাত্রিযাপন করতে চান তাহলে রাঙ্গামাটি শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও রিসোর্ট পাবেন। আপনার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী হোটেল থাকতে পারবেন। এছাড়া রিজার্ভ বাজারে থাকার জন্য অনেক আবাসিক হোটেল আছে। ভাড়া লাগবে ৭০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। রাঙ্গামাটি হোটেল ও রিসোর্ট মূল্য তালিকা জানুন।
কোথায় খাবেন
পাহাড়ের চূড়ায় খাবার জন্য কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ নেই। তবে পাহাড়ে যাওয়ার পথে উপজাতি পাড়ায় একটি দোকান আছে সেখান থেকে শুকনো খাবার ও পানি সাথে নিতে পারেন। পাহাড় ট্রেকিং শেষে রাঙ্গামাটি শহর গিয়ে পছন্দের রেস্টুরেন্ট থেকে থেকে খাবার খেতে পারবেন।
আমার পরামর্শ থাকবে রাঙ্গামাটি ভ্রমণে গেলে অবশ্যই পাহাড়ি কলা, পেঁপে, আম, আনারস ইত্যাদি ফল খেয়ে দেখবেন। এই পাহাড়ি ফল গুলো অত্যান্ত মিষ্টি ও সুসাধু হয়।
পরামর্শ
- পাহাড় ট্রেকিং করার সময় দলবদ্ধ থাকুন।
- উপজাতিদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
- পর্যাপ্ত পানি, শুকনো খাবার ও হাঁটার জন্য লাঠি ব্যবহার করুন।
- পাহাড়ের চূড়ায় সেখানে সেখানে পানির বোতল ও খাবারের পলিথিন ফেলবেন না।
- পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আর্মি ক্যাম্পের ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।





