কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, পটুয়াখালী

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্র জিরো পয়েন্ট থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২৫-৩০ গজ। বাংলাদেশ বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে এই জাতীয় উদ্যানটি।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর এবং পরবর্তীতে আইলার কারণে উদ্যানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বাংলাদেশ বন বিভাগ উদ্ভিদ, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পর্যটন উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠিত করেন। ৩,৯৯০ একর আয়তনের এই উদ্যানটিকে ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থিত একটি সমুদ্র সৈকত ও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এই সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের কাছে “সাগর কন্যা” নামে পরিচিত। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে একটু দূরে অবস্থিত কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান।

শকুনের নিরাপদ এলাকা-২ তফসিল অনুযায়ী কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান শকুনের জন্য নিরাপদ আবাস স্থান বলে ঘোষণা করা হয়।

কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান যাওয়ার উপায়

ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সোনারতরী পরিবহন, সুরভী পরিবহন, বিআরটিসি পরিবহন ও সাকুরা পরিবহনের বাসে চড়ে সরাসরি কুয়াকাটা যেতে পারবেন। যাত্রা পথে দুইটা ফেরি পার হওয়ায় ৮-৯ ঘন্টা সময় লাগবে। ননএসি/এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা। বাস আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত নামিয়ে দিবে।

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে এম ভি সুন্দরবন-৯ ও ১১, এম ভি কাজল-৭, এমভি জামাল-৫, এম ভি এ আর খান-১, এম ভি সাত্তার খান-১, এম ভি কুয়াকাট-১, এম ভি মাহিন রিফাত-১, এম ভি প্রিন্স আওলাদ-৭ লঞ্চে পটুয়াখালী যেতে পারবেন। প্রতিদিন বিকাল ৫:৩০ থেকে ৬:৩০ মিনিটে ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী ছেড়ে যায় এসব লঞ্চ গুলো এবং পটুয়াখালী পৌঁছায় সকাল ৭ টার দিকে।

লঞ্চ থেকে পটুয়াখালী নেমে সিএনজি বা অটোরিকশা করে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল চলে যাবেন। সেখান থেকে কুয়াকাটাগামী বাসে চড়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত যেতে পারবেন।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২৫-৩০ গজ দূরে অবস্থিত জাতীয় উদ্যানে আপনি পায়ে হেঁটে যেতে পারবেন। একদিনের কুয়াকাটা ভ্রমণ ট্যুরে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান সমূহ ঘুরে দেখতে পারবেন। 

কোথায় থাকবেন

পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় থাকার জন্য বিভিন্ন বাজেটের অনেক হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এর মধ্যে হোটেল স্কাই প্যালেস (01727-032048), হোটেল বনানী প্যালেস (01712-849373), হোটেল নীলাঞ্জনা (01712-927904), পর্যটন হলিডে হোমস (01715-001148-3), ইয়োথ ইন (04428-56207), কিংস হোটেল (01713-277630), বিশ্বাস সি প্যালেস হোটেল (01730-093356) উল্লেখযোগ্য।

কুয়াকাটা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সরকারি হোটেল মোটেল আছে। কম খরচে সেখানে থাকতে পারবেন, তবে অগ্রিম বুকিং দিবেন।

কোথায় খাবেন

কুয়াকাটায় অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে খাবার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া বাহিরে খাবার জন্য পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন মানের খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এর মধ্যে হোটেল বরিশাল, কলাপাড়া হোটেল, হোটেল মান্নান উল্লেখযোগ্য। যারা কম খরচে ভালো মানের খাবার খেতে চাচ্ছেন তারা এসব হোটেল থেকে খেতে পারবেন।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পাশে ফিশ ফ্রাই মার্কেট আছে। সেখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সামদ্রিক মাছ বারবিকিউ বানিয়ে খেতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *