লালবাগ শাহী মসজিদ বা ফররুখ সিয়ার মসজিদ ১৭০৩ থেকে ১৭০৬ সালে ফররুখ সিয়ার পুরান ঢাকার লালবাগ দুর্গের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে নির্মাণ করেন। মোগল আমলে প্রতিষ্ঠি এই মসজিদটি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রতিষ্ঠার আগপর্যন্ত ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিল। এই মসজিদে একসাথে প্রায় ১,৫০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
দ্বিতলবিশিষ্ট এই মসজিদটি পূর্ব-পশ্চিমে ১৬.৪৫ মিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে ৪৯.৯৯ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের ছাদের উপর ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি মিনার আছে, যা অনেক দূর থেকে চোখে পড়ে।
মোগল স্থাপত্যে নির্মিত স্থাপনা গুলোর ছাদে এক বা একাধিক গম্বুজ ও কোনো বুরুজ থাকে কিন্তু এই মসজিদটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মোগল আমলে নির্মিত এটিই একমাত্র সমতল ছাদের মসজিদ। কাঠের তৈরি ছাদ বিশিষ্ট একটি মসজিদ।
১৮৭৫ সালে নবাব আবদুল গণি কাঠের ছাদ ভেঙ্গে নতুন করে কংক্রিটের ছাদ তৈরি করেন এবং আয়তন প্রসারিত করেন। এরপরে ১৯৯২ সালে আরেকবার মসজিদটি সম্প্রসারণের কাজ করা হয়। মসজিদের পাশে একটি মাদ্রাসা ও মূল ফটকের পাশে একটি কবরস্থান আছে। পুরান ঢাকার মোগল নির্মিত মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে প্রতিদিন শতশত মুসল্লি এখানে আসেন।
লালবাগ শাহী মসজিদ যাওয়ার উপায়
ঢাকার শাহবাগ থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে লালবাগ শাহী মসজিদ যেতে পারবেন। এছাড়া ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজার আসতে হবে, সেখান থেকে রিক্সা করে লালবাগ কেল্লা গিয়ে তার পিছনে শাহি মসজিদ।
এছাড়া ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, টিএসসি, আজিমপুর এসে সেখান থেকে সিএনজি বা রিক্সা করে যেতে পারবেন। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে রিক্সায় বাবুবাজার ব্রীজ হয়ে লালবাগ শাহী মসজিদ যেতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
লালবাগ কেল্লার সামনে ভালো মানের বেশ কিছু খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এখান থেকে আপনার পছন্দের খাবার খেতে পারবেন। পুরান ঢাকার বিরানির স্বাদ অবশ্যই নিবেন।





