নিউ ইয়র্ক উত্তর-পূর্ব আমেরিকার একটি বন্দর শহর। যার সরকারি নাম সিটি অফ নিউ ইয়র্ক (City of new work)। যে শহরের নাম শুনলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে আকাশছোঁয়া অট্রালিকা, ঝলমলে আলো আর কর্মব্যস্ত মানুষের জীবনযাত্রা। কোলাহলপূর্ণ এই শহর “বিগ আ্যাপল” নামে পরিচিত। আপনি যদি নিউ ইয়র্ক ভ্রমণ পরিকল্পনা করেন তাহলে নিউ ইয়র্ক এর দর্শনীয় স্থান সমূহ জানতে হবে।
নিউ ইয়র্ক আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও সম্পদশালী একটি শহর। শহরটি এই অঙ্গরাজ্যের রাজধানী এমনকি সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও রাজধানী ছিল। বর্তমানে নিউ ওয়র্ক সিটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা কেন্দ্র। বিশ্ব জাতিসংঘের সদর দপ্তর এই শহরে অবস্থিত।
নিউ ইয়র্ক এর দর্শনীয় স্থান
নিউ ইয়র্ক শহরে ঘুরে দেখার জন্য অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। ভ্রমণে গিয়ে এসব দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়ালে আপনার ভ্রমণ স্বরণীয় হয়ে থাকবে।
স্ট্যাচু অফ লিবার্টি
স্ট্যাচু অফ লিবার্টি আমেরিকার নিউইয়র্কে অবস্থিত গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চিত্র। ৩০৫ ফুট উঁচু এই প্রতীক ১৮৮৬ সালে ফ্রান্স আমেরিকাকে উপহার দেয়। নিউ ইয়র্ক ভ্রমণে গিয়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি সহ বেসমেন্টে অবস্থিত মিউজিয়াম ঘুরে দেখে আসতে পারেন।
স্ট্যাচু অফ লিবার্টির মুকুটে উঠে সমস্ত শহরের অসাধারণ দৃশ্য দেখতে চাইলে আগেই টিকেট বুকিং করতে হবে এবং ফেরিতে চড়ে মূর্তিটির কাছে যেতে হবে।
টাইমস স্কয়ার
নিউ ইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার। এখানকার উজ্জ্বল আলো, বিশাল বিলবোর্ড, ব্রডওয়ে শো, অসংখ্য থিয়েটার ও লোকসমাগমের জন্য টাইমস স্কয়ার বিখ্যাত। প্রতি বছর ৩১ শে ডিসেম্বর বিশাল আয়োজনে এখানে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। টাইমস স্কয়ারে রাত-দিন সব সময় মানুষ ভিড় জমায়।
সেন্ট্রাল পার্ক
সেন্ট্রাল পার্ক নিউইয়র্ক শহরের মধ্যে এক টুকরো সবুজের স্থান। ৮৩৪ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত সেন্ট্রাল পার্কে নিরব প্রকৃতির মাঝে হাঁটা, সাইকেল চালানো ও লেকে বোড রাইডিং করতে পারবেন।
মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট
মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকলা জাদুঘর। এখানে পাঁচ হাজার পছন্দের বেশি সময় আগের শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আছে। এর মধ্যে প্রাচীন শিল্প, ইউরোপীয় চিত্রকর্ম, আমেরিকান শিল্প ও এশিয়ান শিল্পকর্ম ও সংস্কৃতি আছে।
ব্রুকলিন ব্রিজ
ব্রুকলিন ব্রিজ নিউ ইয়র্কের প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম ব্রিজ গুলোর মধ্যে একটি। ১৮৮৩ সালে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্ব এই ব্রিজটি গ্রানাইট, চুনাপাথর ও সিমেন্ট দ্বারা নির্মিত।
এটি ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনকে সংযুক্ত করেছে। দর্শনার্থীরা ব্রিজের উপর ছবি তোলা, সাইকেল চালানো, হাঁটাহাঁটি করতে পছন্দ করে। রাতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ব্রিজের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলে।
রকওয়ে বীচ
প্রায় ৫.৫ মাইল দৈর্ঘ্য রকওয়ে সমুদ্র সৈকত নিউ ইয়র্ক সহ আমেরিকার দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতে পার্ক, কোর্ট, বেসবল ও ফুটবল খেলার মাঠ আছে। শহরের কোলাহল ছেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে যারা সৈকতে সময় কাটাতে তাদের জন্য রকওয়ে বীচ সেরা গন্তব্য। এখানে পর্যটকগণ সার্ফিং, সাঁতার কাটা, সানবাথ ও হাঁটাহাঁটি করতে পছন্দ করে।
কনজারভেটরি গার্ডেন
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের ভেতরে উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত কনজারভেটরি গার্ডেন। যারা সুন্দর নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান তাদের জন্য আদর্শ জায়গা।
এখানে ইতালিয়ান গার্ডেন, ফ্রেঞ্চ গার্ডেন ও ইংলিশ গার্ডেন আছে। গার্ডেনের উত্তর পাশে থ্রি ডান্সিং মেইডেন ঝর্ণাটি অবস্থিত। এটি সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
এছাড়া নিউইয়র্ক সিটিতে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। এর মধ্যে ব্যাটারি পার্ক, ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্ক, দ্য মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট, রকফেলার সেন্টার, গ্রান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল, দ্য মেট, স্ট্রবেরি খেত, নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি উল্লেখযোগ্য।
আরো পড়ুন
- বাংলাদেশ থেকে কাশ্মীর ভ্রমণ প্যাকেজ
- লন্ডনের দর্শনীয় স্থান
- জার্মানির দর্শনীয় স্থান
- কানাডার দর্শনীয় স্থান
- ইতালির দর্শনীয় স্থান
- স্পেনের দর্শনীয় স্থান





