নীলফামারী জেলা সদর থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে গোড়গ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক নীলসাগর দিঘী (Nilsagar Dighi)। স্থানীয় মানুষের কাছে “বিরাট দিঘি” বা “বিন্না দিঘি” নামেও পরিচিত। এর আয়তন ৫৩.৯০ একর। যার মধ্যে জলভাগ ৩২.৭০ এবং চার পাশের পাড়ের আয়তন ২১ একর।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর নীলসাগর দিঘির ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর দিঘিটি সংস্কার করে পর্যটন স্পট (পার্ক) তৈরি করা হয়। এখানে পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি রেস্ট হাউজ, প্রবেশ তোরণ ও একটি জামে মসজিদ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দিঘির পাড়ে বনবাবুল, আকাশমণি, নারকেল, মেহগনি সহ নাম না-জানা অনেক ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করা হয়েছে। প্রত্যেক বছর শীতের মৌসুমে এখানে অসংখ্য অতিথি পাখিদের আগমন ঘটে। ১৯৯৮ সালে দিঘির এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যেক বছর চৈত্রমাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা নীলসাগর দিঘিতে বারুণীস্নান উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এই উৎসবে আশেপাশের বহু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা জড়ো হন। এছাড়া প্রত্যেক বছর চৈত্র মাসের পূর্ণিমায় দিঘির পাশে গ্রাম্য মেলার আয়োজন করা হয়।
দিঘির পূর্ব পাড়ে একটি মন্দির ও পশ্চিম পাড়ে দরবেশ আস্তানা রয়েছে। এই দরবেশ আস্তানায় প্রত্যেক দিন দেহতত্ত্ব গানের আসর বসে। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঐতিহাসিক দিঘির শান বাঁধানো ঘাটটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকাভূক্ত করেছে।
নীলসাগর দিঘী কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী পরিবহন (02-8550071), এস আর ট্রাভেল (01991-177411), নাবিল পরিবহন (01839-968533), হানিফ পরিবহন (01713-201732) বাসে চড়ে নীলফামারী যেতে পারবেন। এন-এসি বাস ভাড়া ৮০০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১,৬০০ টাকা।
ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সরাসরি সৈয়দপুর যেতে পারবেন। নীলসাগর এক্সপ্রেস (৭৬৫) ট্রেন প্রতি সোমবার বাদে সকাল ৬:৪৫ মিনিটে এবং চিলাহাটি এক্সপ্রেস (৮০৫) প্রতি শনিবার বাদে সন্ধ্যা ৫ টায় ঢাকা থেকে নীলফামারী ছেড়ে যায়। ভাড়া শোভন চেয়ার ৫৬০ টাকা, স্নিগ্ধা ১০৭০ টাকা, এসি সিট ১,২৮৩ টাকা, এসি বার্থ ১,৯৭০ টাকা।
ভ্রমণ বাজেট বেশি হলে ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা ফ্লাইটে চড়ে সৈয়দপুর যেতে পারবেন। সৈয়দপুর থেকে সহজে নীলফামারী যেতে পারবেন।
নীলফামারী সদর জিরো পয়েন্ট থেকে অটোরিকশা, সিএনজি বা বাসে চড়ে ১৪ কিলোমিটার দূরে গোড়গ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত নীলসাগর দিঘি যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
নীলফামারী শহরের থাকার জন্য বিভিন্ন মানের অনেক আবাসিক হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল হোটেল বনফুল, হোটেল নাভানা, হোটেল এ্যাপোলো, হোটেল অবকাশ (01733-518752) উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নীলসাগর রেস্ট হাউজ ও সার্কিট হাউসে (01718-703955) জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
নীলফামারী জেলা শহরে খাবার জন্য অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ভাবির হোটেল, হোটেল থ্রী স্টার, হোটেল কাঁলাচাদ, হোটেল স্টার উল্লেখযোগ্য।





