মুন্সিগঞ্জের দেগাছি এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ এ পদ্মা সেতু জাদুঘর অবস্থিত। পদ্মা নদীর উপর নির্মিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু ছাড়াও পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আরো নানা উদ্যোগ রয়েছে। যার মধ্যে একটি পদ্মা সেতু জাদুঘর (Padma bridge museum)। পদ্মা নদী ও সেতু এলাকার আশেপাশের জীববৈচিত্র্যের নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে এই জাদুঘরে।
জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাণী গুলো জীবন্ত মনে হলেও এগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। জাদুঘর নির্মাণে ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে জাদুঘরটি বাস্তবায়ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ।
২০১৬ সাল থেকে পদ্মা সেতু জাদুঘর তৈরির জন্য বৈচিত্র্যময় প্রাণীর নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়। জাদুঘরে প্রায় ১,৪১৯ প্রজাতির প্রাণীর মোট ২,৩২৫ টি নমুনা আছে। ৩৫ প্রজাতির স্কন্যপায়ীর ৯২ টি নমুনা, ১৭৭ প্রজাতির পাখির ৪৪০ টি নমুনা, ৭৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর ২০০ টি নমুনা, ৩২৮ প্রজাতির মাছের ৩৪৩ টি নমুনা, ৩০৪ প্রজাতির শামুক-ঝিনুকের ৩১১ টি নমুনা, ৬৩ প্রজাতির কাঁকড়া ও চিংড়ি মাছের ৭০ টি নমুনা, ২০৯ প্রজাতির পোকামাকড়ের ৩৭৩ টি নমুনা, মথের ২৩১ টি নমুনা এবং ১৮০ প্রজাতির প্রজাপতির নমুনা আছে।
এছাড়া জাদুঘরে ৪৮ প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণীর ৬৬ টি নমুনা, বিভিন্ন প্রাণীর ২৫ টি ডিম, ৪৮ টি প্রাণীর বাসার নমুনা, ২২ টি কঙ্কাল দেহাবশেষ আছে। এছাড়াও পদ্মা নদীতে চলাচলকারী ২০ ধরনের নৌকার নমুনা ও জেলেদের মাছ ধরার ৬১ ধরনের সরঞ্জাম আছে।
পদ্মা নদীতে ও আশেপাশে বাস করতো এমন সব প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ একটি চিত্র এই জাদুঘরে দেখতে পাবেন। এসব বৈচিত্র্যময় প্রাণী দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। পদ্মা সেতুর আশেপাশে সেরা ১০ টি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানুন।
পদ্মা সেতু জাদুঘর কিভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়া গামী বাসে চড়ে মাওয়া চৌরাস্তা নেমে যাবেন। সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ এ পদ্মা সেতু জাদুঘর যেতে পারবেন।
এছাড়া ঢাকা থেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সামনে এগিয়ে গেলে টোল প্লাজার পূর্বেই সাইনপোস্ট অনুযায়ী পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ এ পদ্মা সেতু জাদুঘর যেতে পারবেন।





