সুন্দরবনের দুবলার চরে আলোর কোল নামক স্থানে শতবছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাস মেলা। প্রতি বছর কার্ত্তিক মাসে (নভেম্বর) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রাসমেলা ও পূণ্যস্নান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ১৯২৩ সালে হরিচাঁদ ঠাকুরের এক বনবাসী ভক্ত নাম হরিভজন এই রাসমেলা চালু করেন।
প্রতিবছর রাসপূর্ণিমাকে উপলক্ষ করে অসংখ্য পুণ্যার্থী দুবলার চর আসেন সমুদ্রস্নান করতে। ভক্তরা সূর্যোদয় দেখে সমুদ্রের জলে ফুল-ফল ভাসিয়ে দেয়। এসময় কেউবা আবার বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ভজন কীর্তন গেয়ে মুখরিত করে চারপাশে। পূজা-অর্চনার ফাঁকে সূর্যাস্তের পর সাগরকে সাক্ষী করে আকাশে ফানুস উড়ায়।
রাস পূর্ণিমা মেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও সময়ের ব্যবধানে নানা ধর্ম বর্নের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মেলায় স্থানীয় মানুষ ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষের আগমন ঘটে। তিন দিনের এই মেলায় অনেক বিদেশি পর্যটকদেরও আগমন ঘটে।
এবছর রাস পূর্ণিমা মেলা শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।দুবলার চর রাস মেলা শেষে আশেপাশের দর্শনীয় স্থান হিরণ পয়েন্ট, করমজল, মোংলা বন্দর ঘুরে আসতে পারেন।
রাস মেলা দুবলার চর যাওয়ার উপায়
ঢাকার সায়েদাবাদ বা গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সুন্দরবন ও দিগন্ত পরিবহনের বাসে চড়ে সরাসরি মোংলা আসতে হবে। নন-এসি বাসে জনপ্রতি ভাড়া ৮০০ টাকা। মোংলা থেকে রাস মেলা দুবলার চর যাওয়ার জন্য নৌকা, লঞ্চ ও শীপ পাবেন। এসব নৌকা গুলোতে থাকা খাওয়ার প্যাকেজ সহ ভাড়া প্রদান করতে হয়।
সুন্দরবন ভ্রমণের অধিকাংশ জাহাজ গুলো সুন্দরবনের বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি দুবলার চর ঘুরে দেখে। সুন্দরবন ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য জানতে সুন্দরবন ভ্রমণ গাইড আর্টিকেলটি পড়ুন।
দুবলার চর রাস পূর্ণিমা মেলায় যাওয়ার জন্য বন বিভাগ নিদিষ্ট কয়েকটি রুট নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হলো –
- কয়রা – কাশিয়াবাদ – খাসিটানা – বজবজা হয়ে আডুয়া শিবসা নদী – মরজাত হয়ে দুবলার চর।
- কৈখালী স্টেশন হয়ে মাদারগাং – খোপড়াখালী ভাড়ানী – দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া – কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর।
- কদমতলা হয়ে ইছামতি নদী – দোবেকী হয়ে আড়পাঙ্গাসিয়া – কাগাদোবেকী হয়ে দুবলার চর।
- বুড়িগোয়ালিনী – কোবাদক থেকে বাটুলানদী – বলনদী – পাটকোষ্টা হংসরাজ নদী হয়ে দুবলার চর।
- নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা – মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর।
- ঢাংমারী/চাঁদপাই স্টেশন হয়ে পশুর নদী দিয়ে দুবলার চর।
- বগী – বলেশ্বর – সুপতি স্টেশন – কচিখালী – শেলার চর হয়ে দুবলার চর।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
দুবলার চর রাস মেলায় যাওয়া-আসা দর্শনার্থীদের নৌকা/লঞ্চ/জাহাজে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে থাকে। লঞ্চ/জাহাজে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের কেবিন আছে।
খরচ
সুন্দরবন রাসমেলা উপলক্ষে তীর্থ যাত্রীদের ফি ৩ দিনের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা। অনিবন্ধিত ট্রলার ৮০০ টাকা, নিবন্ধনকৃত ট্রলার ২০০ টাকা এবং ট্রলারের অবস্থান ফি প্রতিদিন ২০০ টাকা।
ট্রলারে থাকা-খাওয়া সহ অন্যান্য সব কিছু ধরে জনপ্রতি খরচ ৩,৫০০-৪,০০০ টাকা। লঞ্চ ও জাহাজে খরচ বেশি।





