আপনারা যারা দেশ-বিদেশে ট্রাভেল করতে পছন্দ করেন তাদের সকলের কাছে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ স্বপ্নের মতো। ছবির মতো সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেকোনো পর্যটকে মুগ্ধ করবে। ইন্ডিয়ান বলিউড সহ অন্যান্য মুভির জনপ্রিয় শুটিং স্পট সুইজারল্যান্ড। আপনি যদি সুইজারল্যান্ড ভ্রমণে যেতে চান তাহলে সুইজারল্যান্ড এর দর্শনীয় স্থান সমূহ জানুন।
পৃথিবীর ভূস্বর্গ খ্যাত সুইজারল্যান্ডকে আল্পস পর্তবমালা ও প্রশস্ত হ্রদ অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে রূপে ভূষিত করেছে। বিশ্বের পর্যটকদের কাছে সুইজারল্যান্ড একটি আকর্ষনীয় দেশ। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের চকলেট, ঘড়ি ও ট্রেন বিশ্বজুড়ে বিশেষ খ্যাতি আছে।
সুইজারল্যান্ড এর দর্শনীয় স্থান
বিশ্বের ভ্রমণ প্রিয় মানুষের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্যের নাম সুইজারল্যান্ড। এখানার উঁচু চূড়া, ঝিলমিল হ্রদ, জলপ্রপাত, ওয়াইন, উপত্যকা, জাদুঘর, পনির, ট্রেন, ঘড়ি ও চকলেট পর্যটকদের আকর্ষন করে।
জুরিখ
জুরিখ সুইজারল্যান্ডের অন্যতম দর্শনীয় স্থান ও আর্থিক এ বানিজ্যিক রাজধানী। জুরিখ নদীর দ্বারা ওল্ড টাউন ও নিউ টাউন বিভক্ত। ওল্ড টাউনে শতাব্দীর পুরনো গীর্জা, রেনেসাঁ যুগের রাস্তা ও বাসস্থান আছে। জুরিখের একমাত্র বারোক চার্চ সেন্ট পিটার্স পর্যটকদেন নজর কাড়ে।
জুরিখে দেখার মতো অনেক জাদুঘর আছে। বিশ্বের বৃহত্তর চকলেট জাদুঘর এখানে অবস্থিত। এখানে নয় মিটার উঁচু বিশাল একটি চকোলেট ফোয়ারা আছে। যার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গলিত চকলেট।
জেনেভা
জেনেভা জাতিসংঘের সদর দপ্তর ও অন্যতম দর্শনীয় স্থান। জেনেভার দর্শনীয় স্থানগুলো মধ্যে আরিয়ানা মিউজিয়াম, পাটেক ফিলিপ মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অফ মর্ডান অ্যান্ড কনটেম্পোরারি আর্ট, সেন্ট পিটারস ক্যাথেড্রল, মোলার্ড টাওয়ার ও প্যালাইস ডেস নেশনস জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।
জেনেভা ঘড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত। এখানে আছে ফুল দিয়ে তৈরি করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়ি “জেনেভা ফ্লাওয়ার ক্লক”। ঘড়ির মুখের জন্য প্রায় ৬,৫০০ টি ফুল গাছ ও গুল্ম ব্যবহার করা হয়। জেনেভা ফ্লাওয়ার ক্লক দ্রুত সময়ে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে।
ইন্টারলেকেন
ইন্টারলেকেন দুইটি পর্বত ও হ্রদের মধ্যে পরিপূর্ণ। এখানকার রাস্তাগুলো বলিউডের রোমান্টিক ছবির স্মৃতিতে ভরা। ইন্টারলেকেনে যশ চোপড়া সবচেয়ে বেশি সিনেমার শুটিং করার জন্য তার একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়।
ইন্টারলেকেনে আপনি ক্যাবল কারে চড়া উপর থেকে চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া ট্রেইল, ক্লিফ-ফ্রন্ট, সামিট, জলপ্রপাত ও গুহাতে প্রবেশ করতে পারবেন। ইন্টারলেকেনে ১,৩২২ মিটার উঁচু হার্ডার কুলম হল পর্বত পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষন করে।
লুগানো
আলপাইন দেশের ইতালীয়-ভাষী বিভাগে লুগানো হ্রদের পাশে অবস্থিত লুগানো সুইজারল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় শহর। যাকে সুইজারল্যান্ডের মন্টে কার্লো বলা হয় কারণ এই শহর সেলিব্রিটিদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
এই শহরে তুষার ঢাকা পাহাড় ও নদী সুইজারল্যান্ডের পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বছরের সবসময় এখানে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
বার্ন
শতাব্দীর প্রাচীন ঘড়ি, মধ্যযুগীয় ভবন, গর্ত বহরের বাড়ি সব মিলিয়ে বার্ন সুইজারল্যান্ডের অন্যতম সুন্দর শহর থেকে, যা পর্যটকদেন দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১২ শতকের প্রাচীন এই ঘড়িটি সুইজারল্যান্ডের প্রাচীনতম ঘড়িগুলির মধ্যে একটি।
সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে মধ্যযুগীয় অনেক স্থাপত্য আছে। এটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের নামকরণ করা হয়েছে। বার্নের রাস্তায় ১০০ টির বেশি পানির ফোয়ারা আছে। যেকারণে এই শহরকে ঝর্ণার শহর বলে উল্লেখ করা হয়।
বার্নে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শপিং আর্কেডে আছে। সেখান থেকে পছন্দের জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারবেন। এছাড়া শিল্প প্রেমীরা বার্ন মিউজিয়াম অফ আর্ট ও জেনট্রাম পল ক্লি চিত্তাকর্ষক গ্যালারী দেখতে পারেন।
আরো পড়ুন
- নিউ ইয়র্ক এর দর্শনীয় স্থান
- লন্ডনের দর্শনীয় স্থান
- নেপাল ভ্রমণ
- মালদ্বীপ ভ্রমণ খরচ
- বাংলাদেশ থেকে কাশ্মীর ভ্রমণ প্যাকেজ





