পাটুল মিনি কক্সবাজার, নাটোর

নাটোর জেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে নলডাঙ্গা থানায় অবস্থিত হালতির বিল এক বিশাল জলাভূমি। বর্ষাকালে বিল ৫-৭ ফুট পানিতে ডুবে যায় এবং চারপাশের সৌন্দর্য বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। এই বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা (নৌকা বা বাইকে ভেসে থাকা রাস্তা) অনেক পর্যটকের কাছে আগ্রহের কারণ, এজন্য হালতির বিলকে অনেকে পাটুল মিনি কক্সবাজার নামে ডাকে।

বর্ষাকালে এখানে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। মিঠামইন হাওড়ের মতো এখানকার ৮ কিলোমিটার লম্বা রাস্তাটি খুবই আকর্ষণীয় এবং দ্বীপের মতো ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রামের জীবনযাত্রা পর্যটকদের নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে। বিভিন্ন রঙের ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পর্যটকেরা বিলে ঘুরে বেড়ায়।

পাটুল থেকে খাজুরা পর্যন্ত রাস্তার সৌন্দর্য, উত্তাল ঢেউয়ের প্রবাহমান জলরাশি আর সতেজ বাসাত পর্যটকদের মনকে সতেজ করে তুলে। উত্তরাঞ্চলে কোনো সমুদ্র সৈকত না থাকায় এই বিলকে মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। প্রতিবছর বর্ষাকালে এখানে নৌকা ভ্রমণ ও নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রচুর পর্যটকদের আগমন ঘটে।

পাটুল মিনি কক্সবাজার কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেনে নাটোর হয়ে পাটুল যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী পরিবহন, গ্রীনলাইন পরিবহন, ন্যাশনাল পরিবহন ও হানিফ পরিবহনের বাসে নাটোর যেতে পারবেন। নন-এসি/এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৬০০-১,২০০ টাকা।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, লালমণি এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে নাটোর যেতে পারবেন ট্রেনের সিট ভেদে ভাড়া ৪২০-১,৪৯৯ টাকা।

নাটোর জেলা সদর মাদ্রাসা রোড থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে পাটুল বাজার যেতে পারবেন। সেখান থেকে ২ মিনিট পায়ে হেঁটে পাটুল নৌকাঘাট যেতে পারবেন। নৌকায় হালতির বিল ভ্রমণ করতে জনপ্রতি ৪০-৫০ টাকা খরচ হয়।

কোথায় থাকবেন

পাটুল বাজার পর্যটকদের থাকার জন্য কোনো হোটেল বা গেস্ট হাউজ নেই। নাটোর শহরের মাদ্রাসা মোড় ও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন থাকার জন্য অনেক আবাসিক হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল রাজ, হোটেল রুখসানা, হোটেল মিল্লাত, হোটেল প্রিন্স ইত্যাদি আবাসিক হোটেল আছে। নাটোর আবাসিক হোটেল ভাড়া জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন।

কোথায় খাবেন

পাটুল বাজার খাবার জন্য মোটামুটি মানের হোটেল আছে। এখানে সাদা ভাত, বিলের হরেক রকমের মাছ, দেশি ও বয়লার মুরগী, সবজি, ডাল, ভর্তা ইত্যাদি খেতে পারবেন। ভালো মানের খাবার খেতে নাটোর জেলা সদর যেতে হবে। নাটোর ভ্রমণে গিয়ে অবশ্যই নাটোরের বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা খেতে ভুলবেন না।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *