শেখ রাসেল ইকোপার্ক, খুলনা

শেখ রাসেল ইকোপার্ক (Sheikh rasel ecopark) খুলনা জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙা মৌজায় অবস্থিত। খুলনা রূপসা ব্রিজের দক্ষিণ পাশে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪৩.৬০ একর জায়গার উপর এই পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। এটি খুলনার সবচেয়ে বড় পার্ক। একপাশে রূপসা নদী এবং অন্যপাশে ঝাউবন আপনাকে অন্য রকম পরিবেশে নিয়ে যাবে। 

শেখ রাসেল ইকোপার্কে প্রবেশ করলে দেখতে পাবেন সারি-সারি ঝাউগাছ এবং বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কিটকট চেয়ার। হাঁটার জন্য সুন্দর ওয়ার্কওয়ে, লেকের পানিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য প্যাডেল বোট, শিশুদের জন্য কিডস জোন, পিকনিক করার জন্য পিকনিক স্পট, দর্শনার্থীদের বসার জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘর ও বসার বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।

পার্ক থেকে রূপসা নদীর সৌন্দর্য ও রূপসা রেলসেতু উপভোগ করতে পারবেন। শেষ বিকালে ডিঙ্গি নৌকায় নদীতে ভেসে বেড়াতে পারবেন এবং সূর্যস্ত উপভোগ করতে পারবেন। শেখ রাসেল ইকো-পার্কের শেষ অংশে রূপসা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে সুন্দরবনের আদলে ম্যানগ্রোভ বন তৈরি করা হয়েছে। এখানে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়েছে।

প্রবেশ টিকেট মূল্য

শেখ রাসেল ইকোপার্ক প্রবেশ টিকেট মূল্য ২০ টাকা, প্যাডেল বোট ৩০ টাকা, পিকনিক স্পট ৪,০০০ টাকা, মোটরসাইকেল পার্কিং ২০ টাকা, জীপ/প্রাইভেট গাড়ি পাকিং ৫০ টাকা, বাস পার্কিং ২০০ টাকা।

প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ইকোপার্ক খোলা থাকে।

শেখ রাসেল ইকোপার্ক কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার গাবতলী, নবীনগর, গুলিস্তান বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এনা পরিবহন, ইমাদ পরিবহন সহ খুলনাগামী যেকোনো পরিবহনে চড়ে খুলনা আসতে পারবেন। নন-এসি/এসি বাস ভেদে ভাড়া ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা।

এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে খুলনা আসতে পারবেন। প্রতি সোমবার বাদে ঢাকা থেকে রাত ০৮:০০ টায় খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। আসন ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৪৪৫ থেকে ১০১৮ টাকা।

BM Khalid Hasan Sujon

খুলনা শহর থেকে সিএনজি করে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে রূপসা ঘাট যাবেন। সেখান থেকে সিএনজি করে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে লবনচুরা মোড়ে যাবেন। এখান থেকে সিএনজি মামাকে বলবেন শেখ রাসেল ইকোপার্ক নিয়ে যাবে। এছাড়া খুলনা শহর থেকে সরাসরি সিএনজি ভাড়া করে ইকোপার্কে যেতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

ইকোপার্কের ভেতর খাবার জন্য ঝালমুড়ি, চটপটি ইত্যাদির খাবার দোকান আছে। সেখান থেকে টুকটাক খাবার কিনে খেতে পারবেন।

খুলনা শহরে ভালো মানের অনেক খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এখানে বাংলা, ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ খাবার খেতে পারবেন। খুলনা ভ্রমণে এসে খুলনার বিখ্যাত চুইঝালের গরু ও খাশির মাংস, মিষ্টি, চিংড়ি মাছ খেতে ভুলবেন না।

কোথায় থাকবেন

পার্কের ভেতরে থাকার জন্য হোটেল বা রিসোর্ট নেই। খুলনা শহরে থাকার জন্য ভালো মানের বিভিন্ন হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল রয়েল ইন্টারন্যাশনাল (01718-679900), হোটেল ক্যাসেল সালাম (01711-397607), হোটেল টাইগার গার্ডেন (88041721108), হোটেল সিটি ইন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া থাকার জন্য খুলনা আবাসিক হোটেল আছে। সেখানে কম খরচে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

BM Khalid Hasan Sujon

আরো পড়ুন