শহীদ হাদিস পার্ক, খুলনা

শহীদ হাদিস পার্ক (Shahid Hadis Park) খুলনা জেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে পি.সি রায় (প্রফুল্ল চন্দ্র রায়) রোডে বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার পশ্চিম পাশে অবস্থিত। ১৮৮৪ সালে খুলনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শহরবাসীর অবসর সময় ও বিনোদনের জন্য খুলনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ “খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক” নামে এই পার্ক প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২১ শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান বিরোধী মিছিলে এখানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন শেখ হাদিসুর রহমান বাবু, তার নাম অনুসারে এই পার্কের নামকরণ করা হয় শহীদ হাদিস পার্ক।

শহীদ হাদিস পার্কে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে পানির উপর একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া হাদিস পার্কে রয়েছে বিশাল একটি লেক, পানির ফোয়ারা, ফুলের বাগান, বসার স্থান, দোলনা ও সবুজ প্রকৃতি। এছাড়া এই পার্কে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষন টাওয়ার, যার উপর থেকে এক নজরে খুলনা সিটি দেখা যায়।

খুলনা শহীদ হাদিস পার্কের ইতিহাস

১৮৮৪ সালে খুলনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরবাসীর বিনোদনের জন্য “খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক” নামে পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫২ সালের ১৬ জুন ভারতের প্রধাণমন্ত্রী মহাত্মা গান্ধী এই পার্কে বক্তব্য রাখার পর তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পার্কের নামকরণ করা হয় গান্ধী পার্ক।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দেশ ভাগের পর পার্কের নাম পরিবর্তন করে জিন্নাহ পার্ক করা হয়। এরপর নামকরণ করা হয় খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক। সর্বশেষে ১৯৬৯ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি পার্কের কাছে পাকিস্তানি স্বৈরাচার আইয়ুব খান বিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শেখ হাদিসুর রহমান বাবু। ২২ শে ফেব্রুয়ারি পার্কে তার জানাজা নামাজ শেষে উপস্থিত জনতা পার্কের নামকরণ করেন “শহীদ হাদিস পার্ক”।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে খুলনাগামী ইমাদ পরিবহন, হানিফ পরিবহন, ঈগল পরিবহন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, শ্যামলী পরিবহন, এস আলম পরিবহন সহ যেকোনো পরিবহনে খুলনা আসতে পারবেন। এসি/নন-এসি বাস ভেদে ভাড়া ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। খুলনা শহরে যেকোনে স্থান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে হাদিস পার্কে যেতে পারবেন। সিএনজিওলা মামাকে খুলনা হাদিস পার্কের কথা বললে নিয়ে যাবে।

এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে মাত্র ৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিটে খুলনা আসতে পারবেন। প্রতি সোমবার বাদে ঢাকা থেকে রাত ০৮:০০ টায় খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।   আসন ভেদে ভাড়া ৪৪৫ থেকে ১০১৮ টাকা। খুলনা রেলস্টেশনে নেমে সিএনজি/অটোরিকশা করে হাদিস পার্কে যেতে পারবেন।

BM Khalid Hasan Sujon

কোথায় খাবেন

খুলনা শহরে ভালো মানের অনেক খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এখানে বাংলা, ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ খাবার খেতে পারবেন। খুলনা ভ্রমণে এসে খুলনার বিখ্যাত চুইঝালের গরু ও খাশির মাংস, মিষ্টি, চিংড়ি মাছ খেতে ভুলবেন না।

কোথায় থাকবেন

পার্কের ভেতরে থাকার জন্য হোটেল বা রিসোর্ট নেই। খুলনা শহরে থাকার জন্য ভালো মানের বিভিন্ন হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল টাইগার গার্ডেন (88041721108), হোটেল সিটি ইন (01711-258501), হোটেল রয়েল ইন্টারন্যাশনাল (01718-679900), হোটেল ক্যাসেল সালাম (01711-397607) উল্লেখযোগ্য। এছাড়া থাকার জন্য খুলনা আবাসিক হোটেল আছে। সেখানে কম খরচে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

আরো পড়ুন