আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি চুনা ও মালঞ্চ নদীর তীরে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার (Akashnila Eco Tourism Center)। যার ওপারেই সুন্দরবন। জীবনানন্দ দাশের কবিতা “আকাশলীলা” থেকে এই ইকো পার্কের নামকরণ করা হয়েছে।

এই ইকো ট্যুরিজম সেন্টার যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ আধার। প্রকৃতি যেন তার আপন মহিমায় সাজিয়েছে। সকাল, দুপুর ও বিকালে ভিন্ন ভিন্ন রুপ ধারণ করে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। যারা কাছ থেকে সুন্দরবনের ফিল নিতে চান তাদের জন্য আদর্শ স্পট। কেননা সুন্দরবনের আদলে তৈরি করা হয়েছে এই ইকো ট্যুরিজম সেন্টার।

ওপারে সুন্দরবন মাঝখানে চুনা ও মালঞ্চ নদীর এপারে নির্মিত ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। পাশেই মুন্সিগঞ্জ ফরেস্ট অফিস। যেখান থেকে অনুমতি নিয়ে কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম পার্ক ও সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারবেন।

প্রবেশ টিকেট মূল্য

আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে জনপ্রতি টিকেট মূল্য ২০ টাকা। গাড়ি পাকিং ফি ১০ টাকা।

আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে কি কি দেখবেন

ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের ভিতর প্রবেশ করে কিছুদূর এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন শাখা-প্রশাখার মতো ছড়িয়ে গেছে দৃষ্টিনন্দন ফুড ট্রেইল। ফুড ট্রেইল ধরে হাঁটতে আপনার মনে হবে আপনি সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে হাঁটছেন।

হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য কিছু দুর পরপর বসার বেঞ্চ ও গোলঘর আছে। এখানে রয়েছে আবদুস সামাদ ফিস মিউজিয়াম। যেখানে সুন্দরবনের নদ-নদীর বিভিন্ন মাছ সংরক্ষণ করা আছে।

এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়েছে বাঘ, সিংহ, কুমির সহ বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্ষ। ইকো ট্যুরিজম পার্কের সৌন্দর্য উপর থেকে উপভোগ করার জন্য উঁচু একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে।

ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের মধ্যে সুন্দরবনের বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে কেওড়া, গেওয়া, সুন্দরী, বাইন, পশুর, খলিশা উল্লেখযোগ্য। এখানে বন্যপ্রাণীর দেখা না মিললেও বিভিন্ন ধরনের পাখি দেখতে পাবেন।

এছাড়া এখানে দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামগার, বাদাবনের হেঁসেল নামক একটি আধুনিক রেস্টুরেন্ট ও সুন্দরবনের ভেতর ঘুরতে যাওয়ার সকল ব্যবস্থা আছে।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকা থেকে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার আসতে হলে প্রথমে সাতক্ষীরা বা শ্যামনগর আসতে হবে। ঢাকার গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর, কলাবাগান বাস টার্মিনাল থেকে ইমাদ পরিবহন, সাতক্ষীরা লাইন, হানিফ পরিবহন, সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস, ঈগল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন সহ যেকোনো পরিবহনে চড়ে সাতক্ষীরা বা শ্যামনগর আসতে পারবেন। জনপ্রতি নন-এসি বাস ভাড়া ৭৫০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ৯০০ টাকা।

যদি ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা শহরে নেমে যান তাহলে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল বা নিউ মার্কেট এলাকা থেকে শ্যামনগর মুন্সিগঞ্জগামী বাস পেয়ে যাবেন। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৯০ টাকা। মুন্সিগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে ইকো ট্যুরিজম সেন্টার যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

শ্যামনগর থাকার জন্য মোটামুটি মানের বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল সি-ল্যান্ড (01711-448051), হোটেল সুন্দরবন (01710-126624), হোটেল সৌদিয়া (01711-450030), হোটেল বরসা (01718-593622) উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ভালো মানের হোটেলে থাকতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা শহরে হোটেল টাইগার প্লাস (01799-184844), হোটেল আল কাশেম (01709-964218), হোটেল সাতক্ষীরা প্যালেস (01934-272791), হোটেল বৈশাখী (01922-302744) তে থাকতে পারেন।

কোথায় খাবেন

খাবার জন্য ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের মধ্যে বাদাবনের হেঁসেল নামক একটি আধুনিক রেস্টুরেন্ট আছে। সেখান থেকে অর্ডার দিয়ে পছন্দসই খাবার খেতে পারবেন।

এছাড়া ভালো মানের খাবার খেতে সাতক্ষীরা জেলা শহরে লেক ভিউ ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, পানসি রেস্তোরাঁ, হোটেল সোনারগাঁ, আব্বাস হোটেল, কাচ্চি ডাইন, আহাদ হোটেল থেকে পছন্দের খাবার খেতে পারেন।

সাতক্ষীরা জেলার বিখ্যাত সন্দেশ মিষ্টি, ক্ষীরসন্দেশ ও চিংড়ি মাছ খেতে ভুলবেন না।

আশেপাশের দর্শনীয়র স্থান

সাতক্ষীরা জেলায় অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র, লেকভিউ ক্যাফে, নলতা শরীফ, মোজাফফর গার্ডেন উল্লেখযোগ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *