বিজয়পুর সাদা মাটির পাহাড়, নেত্রকোনা

বিজয়পুর সাদা মাটির পাহাড় বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর এলাকায় অবস্থিত একটি জাতীয় খনিজ সম্পদ। অনেকেই সাদা মাটির পাহাড়কে চিনামাটির পাহাড় বলে থাকে। এটি মূলত টারশিয়ারি যুগের। ১৯৫৭ সালে ভূতাত্ত্বিক জরিপে বিজয়পুরে এই সাদা মাটির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

এই সাদা মাটির পাহাড় অঞ্চল প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০০ মিটার প্রস্থ, এটি ছোট-বড় পাহাড় ও সমতল ভূমি নিয়ে গঠিত। এই অঞ্চলে প্রায় ২৪.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন সাদা মাটি বা চিনামাটি মজুদ আছে, যা দেশের ৩০০ বছরের চাহিদা পূরণ করবে।

১৯৬০ সালে কোহিনূর অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সাদা মাটি (চিনামাটি) উত্তোলন শুরু করে। এরপর ১৯৬৪-৬৫ সালে এখানে সাদামাটি উত্তোলনের জন্য ১৩ টি কূপ খনন করা হয়। সাদা মাটি মূলত কেওলিনাইট খনিজ দ্বারা গঠিত, যা সিরামিক শিল্পে ব্যবহার হয়। সিরামিকের তৈরি জিনিসপত্র গুলোর মধ্যে গ্লাস, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার উল্লেখযোগ্য।

২০১৬ সালে আদালতের নির্দেশে সাদা মাটি উত্তোলন বন্ধ করা হয়, যা পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবোচিত হয়। বিজয়পুর সাদা মাটির পাহাড়ে সাদামাটির পাশাপাশি কালো, লালচে, বেগুনি, নীল ও খয়েরি মাটির স্তর দেখা যায়। মাটি খননের সময় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি ও মেঘালয় পাহাড়ের ঢল থেকে লেকে সৃষ্টি হয়েছে। লেকে পানি নীল ও কোথাও লালচে রং দেখা যায়।

BM Khalid Hasan Sujon

বিজয়পুর সাদা মাটি খনন বন্ধের পর প্রকৃতিকভাবে এখানে গাছ-গাছালিতে ভরে গেছে। এখান থেকে মেঘালয়ের সারি সারি পাহাড় দেখা যায়। বর্তমানে সাদামাটি (চিনামাটি) এলাকা জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিনতি হয়েছে।

বিজয়পুর সাদা মাটির পাহাড় কিভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে নেত্রকোনা এবং সেখান থেকে সুসং দুর্গাপুর যেতে হবে। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি দুর্গাপুর যাওয়ার জন্য জিন্নাত ও সরকার নামের দুইটি বাস পাবেন। নন-এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা। যেতে সময় লাগবে প্রায় ৬-৭ ঘন্টা।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রাত ১১:৫০ মিনিটে হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন নেমে যাবেন। এছাড়া ময়মনসিংহ রেলস্টেশনেও নামতে পারেন। সেখান থেকে বাস বা সিএনজি করে বিরিশিরি বাজার যাবেন। এরপর ছোট একটি নদী পার হয়ে সিএনজি, অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল করে দূর্গাপুর যেতে পারবেন।

BM Khalid Hasan Sujon

কোথায় থাকবেন

দূর্গাপুর থাকার জন্য ভালো মানের কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউজ আছে। এর মধ্যে হোটেল সুসং (01914-791245), হোটেল গুলশান (01711-150807), হোটেল জবা (01711-186708), জেলা পরিষদ ডাক বাংলো (01558-380383), ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গেস্ট হাউজ (09525-56042), স্বর্ণা গেস্ট হাউজ (01712-284698), নদীবাংলা গেস্ট হাউজ (01771-893570) উল্লেখযোগ্য। এসব হোটেল ও গেস্ট হাউজের রুম ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা।

কোথায় খাবেন

উপরে উল্লেখ করা গেস্ট হাউজে থাকার পাশাপাশি খাবার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া খাবার জন্য মিডিয়াম মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। সেখানে সাদা ভাত, মাংস, মাছ, ডাল, সবজি, ভর্তা ইত্যাদি খাবার খেতে পারবেন। নেত্রকোনা ভ্রমণে গেলে অবশ্যই বিখ্যাত বালিশ মিস্টির স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

আরো পড়ুন