আচ্ছা, আপনি কি সমুদ্র ভালোবাসেন? ঢেউয়ের গর্জন, নির্মল বাতাস আর দিগন্তজোড়া নীল জলরাশি – এই সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে মনকে শান্তি এনে দেয়, তাই না? যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে কক্সবাজার আপনার জন্য অপেক্ষা করছে! বাংলাদেশের এই দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত শহরটি শুধু দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। আজকের ব্লগ পোস্টে আমরা কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড নিয়ে আলোচনা করব, যাতে আপনার ভ্রমণ হয় আরও আনন্দময় এবং সহজ।
কক্সবাজার কেন যাবেন
কক্সবাজার শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা। এখানে আপনি পাবেন:
- বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত (প্রায় ১২০ কিমি)।
- পাহাড়, ঝর্ণা ও সবুজের সমাহার।
- ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা।
- নানা ধরনের সামুদ্রিক খাবার।
- সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্রমণ করার সুযোগ।
কক্সবাজার ভ্রমণের সেরা সময়
কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য সেরা সময় হল শীতকাল। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবহাওয়া থাকে খুবই মনোরম। এই সময় তাপমাত্রা সাধারণত ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, যা ভ্রমণ এবং বিভিন্ন actividades-এর জন্য খুবই উপযোগী।
বর্ষাকালে কক্সবাজার
বর্ষাকালে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারে ভ্রমণ করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। এই সময় বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ার কারণে অনেক সময় রাস্তাঘাট খারাপ হয়ে যায় এবং সমুদ্রে উত্তাল ঢেউ দেখা যায়। তবে, যারা নীরবতা ও প্রকৃতির সবুজ দেখতে চান, তারা এই সময় যেতে পারেন। বর্ষায় কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও মনোরম হয়ে ওঠে।
কক্সবাজার কিভাবে যাবেন
কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বিভিন্ন উপায় আছে। আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।
বাসে ঢাকা থেকে কক্সবাজার
ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৪১০ কিলোমিটার। বাসে যেতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজারের সরাসরি বাস পাওয়া যায়। এদের মধ্যে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এস আলম, ইমাদ, এম আর, সেন্টমান্টিন পরিবহন, গ্রীন লাইন, ঈগল পরিবহন, সোহাগ পরিবহন উল্লেখযোগ্য। ঢাকা টু কক্সবাজার জনপ্রতি ভাড়া ৯০০ থেকে ১,৮০০ টাকা।
ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার
বর্তমানে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ট্রেন সার্ভিস চালু হয়েছে। কমলাপুর বা ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়। যেতে সময় লাগে প্রায় ৮-৯ ঘণ্টা, আসন ভেদে ভাড়া ৬৯০ থেকে ২,৩৮০ টাকা
বিমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার
দ্রুত এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য আকাশপথ সবচেয়ে ভালো। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের সরাসরি ফ্লাইট আছে। নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যেমন বিমান বাংলাদেশ, নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। বিমানে যেতে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা। আসন ভেদে ভাড়া ৫,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা।
কক্সবাজারে কোথায় থাকবেন
| হোটেলের নাম | বৈশিষ্ট্য | বাজেট |
| সায়মন বিচ রিসোর্ট | বিলাসবহুল, সমুদ্রের কাছে | ১৪,৫০০ থেকে ৫২,০০০ টাকা |
| হোটেল সি ক্রাউন | আধুনিক, শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে | ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা |
| লং বিচ হোটেল | আরামদায়ক, নিরিবিলি পরিবেশ | ৮,০০০ থেকে ৪১,০০০ টাকা |
| বেওয়াচ | বিলাসবহুল, সমুদ্রের কাছে | ১৪,৫০০ থেকে ১,৭০,০০০ টাকা |
| নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট | বাজেট-ফ্রেন্ডলি, প্রকৃতির কাছাকাছি | ৪,৫০০ থেকে ২০,০০০ টাকা |
কক্সবাজারে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। আপনার বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন।
কিছু জনপ্রিয় হোটেল ও রিসোর্ট
বাজেট অনুযায়ী হোটেল
যদি আপনার বাজেট কম থাকে, তবে কলাতলী এবং সুগন্ধা পয়েন্টের আশেপাশে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যের হোটেল ও গেস্ট হাউস পাবেন। এখানে আপনি ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে রুম পেয়ে যাবেন।
কক্সবাজারে কি কি দেখবেন?
কক্সবাজারে দেখার মত অনেক সুন্দর জায়গা আছে। কিছু উল্লেখযোগ্য স্থান নিচে দেওয়া হলো।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ। এখানে আপনি হেঁটে বেড়ানো, ছবি তোলা, প্যারাসিলিং, সূর্যাস্ত দেখা এবং বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস উপভোগ করতে পারেন।
দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক প্রতিদিন সমুদ্র সৈকত সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এখানে আসেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।
ইনানী সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার এবং হিমছড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইনানী সমুদ্র সৈকত। ভাটার সময় সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতো এখানে প্রবাল পাথর দেখা যায়। প্রবাল পাথরের জন্য এই সৈকত বিখ্যাত। এখানকার শান্ত সাগর, নীল স্বচ্ছ জল এবং কোরাল পাথর যেকোনো পর্যটকে মুগ্ধ করবে।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফগামী মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে ইনানী সমুদ্র সৈকত যাওয়ার সময় হিমছড়ি পাহাড়, সড়কের দুপাশে সারি সারি সাম্পান, ঝাউবন, সবুজ পাহাড় দেখতে পাবেন।
হিমছড়ি

হিমছড়ি কক্সবাজার থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানকার পাহাড় আর ঝর্ণা প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য স্বর্গ। পাহাড়ের উপরে উঠে একপাশে সমুদ্র অন্যপাশে সবুজ দৃশ্য দেখলে মন ভরে যায়।
হিমছড়িতে একটি জলপ্রপাত আছে যা এখানকার প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এই জলপ্রপাতে বর্ষা মৌসুমে ছাড়া পানি থাকে না। তবুও পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সবুজ পাহাড় আর নীল সমুদ্র পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
মেরিন ড্রাইভ রোড

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোড বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ রোড। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এই রোডের দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার।
মেরিন ড্রাইভ রোডের একপাশে সমুদ্র সৈকত এবং অন্য পাশে সবুজে ঘেরা ছোট বড় পাহাড়। কোথাও কোথাও আবার ঝর্ণা দেখতে পাবেন। কক্সবাজার পর্যটন বিকাশে বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ রোড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক যা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক নামে পরিচিত। এটি কক্সবাজারের অন্যতম বৃহৎ সাফারি পার্ক,।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকের ৯০০ হেক্টর জায়গায় বিস্তৃত। ১৯৯৯ সালে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে এই পার্কটি স্থাপন করে। এখানে আপনি বাঘ, সিংহ, হাতি, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখতে পারবেন। প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা।
শাহপরীর দ্বীপ

দেশের সর্ব দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
শাহপরীর দ্বীপে ৩ টি সমুদ্র সৈকত আছে। এখানে যাওয়ার সময় আদিবাসী পাড়া, রোহিঙ্গা বস্তি, মাথিনের কূপ, পাহাড়ী গুহা ও বিস্তির্ণ লবন চাষের জমি দেখতে পাবেন। যারা ক্যাম্পিং করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য আদর্শ স্থান।
রামু বৌদ্ধ মন্দির

রামুতে অবস্থিত এই বৌদ্ধ মন্দিরটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ মন্দির। বর্তমানে রামুতে সর্বমোট ৩৫ টি বৌদ্ধ মন্দির ও জাদি আছে। রামুর উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়ের চূড়ায় গৌতম বুদ্ধের ১০০ ফুট লম্বা সিংহশয্যা মূর্তি আছে। যা এখানকার প্রধাণ পর্যটক আকর্ষণ।
এছাড়া রামু সীমা বিহার, লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহার, রাংকূট বৌদ্ধ বিহার, শ্রীকুল পুরাতন বৌদ্ধ বিহার ও শ্রী শ্রী রামকুট তীর্থ ধাম আছে। এখানে আসলে আপনি প্রাচীন বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন।
মহেশখালী দ্বীপ

মহেশখালী কক্সবাজার উপজেলার কাছে একটি দ্বীপ। এখানে আপনি পাহাড়, সমুদ্র এবং ম্যানগ্রোভ বন দেখতে পারবেন। এছাড়া মহেশখালীর পান, মাছ, লবণ, চিংড়ি, শুঁটকি ও মুক্তা উৎপাদন দেশ জুড়ে সুনাম আছে। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হলো আদিনাথ মন্দির ও শুটিং ব্রিজ।
কক্সবাজার থেকে ট্রলার বা স্পিডবোট চড়ে একদিনে মহেশখালী দ্বীপ ঘুরে দেখে আসতে পারেন।
কুতুবদিয়া দ্বীপ

বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কূলে অবস্থিত কুতুবদিয়া দ্বীপ। যার তিনপাশে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্ব পাশে কুতুবদিয়া চ্যানেল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুতুবদিয়া দ্বীপকে দ্বীপের রাণী বলা হয়।
এখানে দেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদুৎ কেন্দ্র, কুতুবদিয়া বাতিঘর, কুতুবউদ্দিন আউলিয়ার মাজার, লবন চাষের ক্ষেত, সিটিজেন পার্ক, সমুদ্র সৈকত সহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। কক্সবাজার থেকে কুতুবদিয়া দ্বীপ যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম লঞ্চ, স্টিমার ও ডেনিস বোট।
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড

কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের ফিস মিউজিয়াম রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড। এখানে সাগর ও মিঠা পানির প্রায় ১০০ প্রজাতির বিরল মাছ আছে।
সাগরের তলদেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ও বিভিন্ন প্রাজাতির মাছ এই অ্যাকুরিয়াম কমপ্লেক্সে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রবেশ করলে আপনার মনে হবে সাগরের তলদেশে আছেন। আপনার চারপাশে সামুদ্রিক প্রাণী ও বর্ণিল প্রজাতির নানা মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এছাড়া এখানে আছে থ্রি-নাইট ডি মুভি দেখার স্পেস, নানা প্রজাতির পাখি, শিশুদের জন্য কিডস জোন, লাইফ ফিশ রেস্টুরেন্ট, মার্কেট করার শপ, ছবি তোলার ডিজিটাল ল্যাব ও ছাদে প্রাকৃতিক পরিবেশে বারবিকিউ খাবার ব্যবস্থা। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ৩০০ টাকা।
সেন্টমার্টিন

সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এখানকার নীল জল, প্রবাল এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক পর্যটকের কাছে প্রিয় গন্তব্য। এখানে প্রচুর নারিকেল গাছ ও নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরা বলে।
বিখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমেদের দারুচিনি পূর্ণদৈর্ঘ ছায়াছবি এই এই দ্বীপে শুটিং হওয়ার পর দ্বীপটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।
সেন্টমার্টিন কিভাবে যাবেন
কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন যেতে হলে প্রথমে আপনাকে টেকনাফ যেতে হবে। টেকনাফ থেকে প্রতিদিন সকালে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে জাহাজ ছেড়ে যায়। এছাড়া কক্সবাজার ইনানী জেটিঘাট থেকে জাহাজ ছেড়ে যায়। সাধারণত এই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলো হলো গ্রীন লাইন, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস এবং এলসিটি কুতুবদিয়া।
বর্তমানে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাকি ৩ মাস সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।
কক্সবাজারে কি খাবেন
কক্সবাজারের খাবার মানেই হলো সামুদ্রিক খাবারের স্বর্গরাজ্য। এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের তাজা মাছ, কাঁকড়া, লবস্টার এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার উপভোগ করতে পারবেন।
কিছু জনপ্রিয় খাবার
- ফিশ ফ্রাইঃ কক্সবাজারের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
- কাঁকড়া ভাজা/ফ্রাইঃ কাঁকড়া ভাজা অথবা ফ্রাই এখানে খুবই জনপ্রিয়।
- লবস্টারঃ একটু ভিন্ন স্বাদের জন্য লবস্টার হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।
- রূপচাঁদা ফ্রাইঃ রূপচাঁদা মাছের ফ্রাই অনেক পর্যটকের কাছে প্রিয়।
- বিভিন্ন ধরনের ভর্তাঃ স্থানীয় রেস্টুরেন্টগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু ভর্তা পাওয়া যায়।
কোথায় খাবেন
- ঝাউবনঃ এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন।
- পৌষী রেস্টুরেন্টঃ এটি স্থানীয়দের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো খাবার পাওয়া যায়।
- হোটেল আল-আমিনঃ এখানে আপনি বাংলা এবং চাইনিজ খাবার উপভোগ করতে পারবেন।
- শালিকঃ এই রেস্টুরেন্ট থেকে সকালের নাস্তা সহ দুপুর ও রাতের খাবার খেতে পারবেন।
কক্সবাজার ভ্রমণ টিপস
কক্সবাজার ভ্রমণকে আরও সহজ ও আনন্দময় করার জন্য কিছু টিপস নিচে দেওয়া হলোঃ
- হোটেল বুকিংঃ ভ্রমণের আগে হোটেল বুকিং করে নিন, বিশেষ করে পিক সিজনে এটি খুব জরুরি।
- দামাদামিঃ যেকোনো জিনিস কেনার আগে দামাদামি করতে ভুলবেন না।
- নিরাপত্তাঃ নিজের জিনিসপত্রের দিকে খেয়াল রাখুন এবং রাতে একা ঘোরাঘুরি করা থেকে বিরত থাকুন।
- পরিবেশঃ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সহযোগিতা করুন এবং যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।
- স্থানীয় সংস্কৃতিঃ স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন।
কক্সবাজার ভ্রমণের খরচ
কক্সবাজার ভ্রমণে কত খরচ হবে, তা নির্ভর করে আপনার ভ্রমণের ধরনের ওপর। সাধারণভাবে, ২-৩ দিনের জন্য ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
খরচের তালিকা
| বিষয় | আনুমানিক খরচ (২ দিনের জন্য) |
| পরিবহন খরচ (ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা) | ২,০০০ – ৪,০০০ টাকা (বাস/ট্রেন) |
| হোটেল ভাড়া | ২,০০০ – ৫,০০০ টাকা (মান অনুযায়ী) |
| খাওয়া-দাওয়া খরচ | ১,৫০০ – ৩,০০০ টাকা |
| অন্যান্য খরচ (ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা) | ১,৫০০ – ৩,০০০ টাকা |
কক্সবাজার ভ্রমণের সময় কি কি জিনিস সাথে নিতে হয়
কক্সবাজার ভ্রমণে গেলে কিছু জরুরি জিনিস সাথে নেওয়া ভালো। এর মধ্যে কয়েকটি হলো।
- পরিধেয় বস্ত্রঃ হালকা আরামদায়ক পোশাক, সাঁতারের পোশাক।
- জুতাঃ হাঁটার জন্য আরামদায়ক স্যান্ডেল বা স্নিকার আবশ্যক।
- সানস্ক্রিনঃ ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে বাঁচাতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- টুপি ও সানগ্লাসঃ রোদ থেকে চোখ ও মুখকে রক্ষা করে।
- ক্যামেরাঃ সুন্দর মুহূর্তগুলো ধরে রাখার জন্য একটি ভালো ক্যামেরা বা স্মার্ট মোবাইল ফোন।
- প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামঃ ছোটখাটো আঘাত বা অসুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র।
কক্সবাজার ভ্রমণকালে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
কক্সবাজারে কী কী দেখার মতো জায়গা আছে?
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানী সমুদ্র সৈকত, মেরিন ড্রাইভ রোড, হিমছড়ি ঝর্ণা, লাল কাঁকড়া বীচ, ঝাউবন, রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রামু রাবার বাগান, কুতুবদিয়া বাতিঘর, মহেশখালী দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ ইত্যাদি।
কক্সবাজার যাওয়ার সেরা সময় কখন?
কক্সবাজার যাওয়ার সেরা সময় শীতকাল (অক্টেবর থেকে মার্চ মাস)।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে কত সময় লাগে?
বাসে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে প্রায় ৭-৮ ঘন্টা, ট্রেনে ৮-৯ ঘন্টা এবং বিমানে ১ ঘন্টা সময় লাগে।
কক্সবাজারে থাকার জন্য ভালো হোটেল কোথায় পাবো?
কক্সবাজার কলাতলী, লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধ পয়েন্ট এবং মেরিন ড্রাইভ রোডে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল/রিসোর্ট/গেস্টহাউজ আছে।
কক্সবাজারে কী কী খাবার পাওয়া যায়?
কক্সবাজার হোটেল গুলোতে বাংলা, ইন্ডিয়ান, থাই, চাইনিজ সহ সব ধরনের খাবার পাবেন। এর মধ্যে জনপ্রিয় খাবার ফিশ ফ্রাই, কাঁকড়া ভাজা, লবস্টার, রূপচাঁদা ফ্রাই ইত্যাদি।
কক্সবাজারের আশেপাশে ঘোরার মত কি কি স্পট আছে?
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানী সমুদ্র সৈকত, মেরিন ড্রাইভ রোড, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, শাহপরীর দ্বীপ, হিমছড়ি ঝর্ণা, মহেশখালী দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রামু রাবার বাগান ইত্যাদি।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল)।
কক্সবাজার যেতে বাসের টিকেট কত?
ঢাকা টু কক্সবাজার নন-এসি বাসের টিকেট ৯০০ টাকা এবং এসি বাসের টিকেট ১,৫০০ টাকা (ভাড়া পরিবর্তনশীল)।





