বাংলাদেশের সিলেটের বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার অন্তগত শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গলের আয়তন ৪৫০ কিলোমিটার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ও উন্নত মানের চা শ্রীমঙ্গলে উৎপাদন হয় বলে শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা হয়। শ্রীমঙ্গল চা বাগানের সৌন্দর্য যেকোনো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাহাড়ের ঢালে মাইলের পর মাইল সবুজ চা বাগান দেখে মনে হয় যেন সবুজ গালিচা বিছানো।
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রবেশ করতে চোখে পড়বে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসণের তৈরি “চা কন্যা ভাস্কর্য”। এই ভাস্কর্যের পর থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শ্রীমঙ্গল চা বাগান চোখে পড়বে।
শ্রীমঙ্গলে অনেক গুলো চা বাগান দেখতে পাবেন। এর মধ্যে নূরজাহান টি-এস্টেট সবচেয়ে জনপ্রিয় চা বাগান। এছাড়া ফিনলের চা বাগান, জেরিন টি-এস্টেট সহ অনেক চা বাগান রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল চা বাগান যাওয়ার উপযুক্ত সময়
বছরের যেকোনো সময় শ্রীমঙ্গল চা বাগান ঘুরতে যেতে পারবেন। সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চা পাতা সংগ্রহের কাজ চলে। এই সময়ের মধ্যে ঘুরতে গেলে সবুজ চা বাগান দেখতে পাবেন।
শ্রীমঙ্গল কি কি দেখবেন
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ঘুরে দেখার জন্য অনেক চা বাগান রয়েছে। পাহাড়ের উঁচু নিচু টিলার চা বাগান গুলো দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন। শ্রীমঙ্গলের কাছে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এর ভিতর দিয়ে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গেলে ফিনলের চা বাগান দেখতে পাবেন।
শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ সড়ক দিয়ে কয়েক কিলোমিটার সামনে এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন জেরিন টি-এস্টেট। এছাড়া কমলগঞ্জ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কিছুটা আগে জঙ্গলঘেরা পথে গেলে দেখতে পাবেন নূরজাহান টি-এস্টেট।
কমলগঞ্জ থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে চা বাগানের মধ্যে রয়েছে বিশাল মাধবপুর লেক। কৃত্রিম এই মাধবপুর লেক তৈরি করা হয়েছে চা বাগানের পানি সরবরাহ করার জন্য।
মাধবপুর লেকের প্রধান সড়কের রাস্তা দিয়ে ধলাই সীমান্ত যেতে পারবেন। এই সড়কের দুপাশে উঁচু নিচু সবুজ চা বাগান দেখতে পাবেন। সীমান্তে বিজিবির ফাঁড়ির পাশে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সৃতি সৌধ দেখতে পাবেন। ফেরার পথে শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত সাতরঙা চা খেতে পারবেন। শ্রীমঙ্গল শহরের বিজিবি সদর দপ্তরের পাশে নীলকন্ঠের একটি শাখা আছে। সেখান থেকে সাতরঙা চা খেতে পারবেন।
কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে চড়ে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যেতে পারবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন, এনা পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, বিআরটিসি পরিবহন সহ অন্যান্য পরিবহনে চড়ে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যেতে পারবেন। ঢাকা টু শ্রীমঙ্গল নন-এসি বাস ভাড়া ৫৭০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১,০০০ টাকা।
কমলাপুর রেলস্টেশন উপবন এক্সপ্রেস প্রতি বুধবার বাদে রাত ১০ টায়, কালনী এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার বাদে দুপুর ২ টা ৫৫ মিনিটে, পারাবত এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার বাদে সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে এবং জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার বাদে সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সিলেট থেকে যেকোনো ট্রেনে চড়ে শ্রীমঙ্গল আসতে পারবেন। ট্রেনের সিট ভেদে ভাড়া ২৪০ থেকে ৮২৮ টাকা।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার বাদে সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে এবং উদয়ন এক্সপ্রেস প্রতি বুধবার বাদে রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেনের সিট ভেদে ভাড়া ৩৭৫ থেকে ১,২৮৮ টাকা।
শ্রীমঙ্গলের চা বাগান সহ আশেপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য রিজার্ভ সিএনজি বা জিপ গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। ভাড়া করার আগে কোন কোন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখবেন সেটা অবশ্যই বলে রাখবেন। সারাদিনের জন্য জিপ গাড়ির ভাড়া ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা এবং সিএনজি ভাড়া ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য অনেক ভালো মানের রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া চা বাগানের ভিতর বা পাশে সরকারি-বেসরকারি অনেক কটেজ ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। চাইলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশে গ্রান্ড সুলতান গলফ রিসোর্ট এ রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
শ্রীমঙ্গল শহরে মোটামুটি মানের অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল মেরিনা (01787-333544), হোটেল মহসিন প্লাজা (01711-390039), হোটেল আল রহমান (01611-602108), হোটেল স্কাইপার্ক (01711-966903) উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
শ্রীমঙ্গল খাবার জন্য ভালো মানের কয়েকটি খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এর মধ্যে পানসী রেস্টুরেন্ট, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট, সাতকরা রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।





