স্বর্গের সিঁড়ি, খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নের মায়ুং কপাল পাহাড়ে অবস্থিত স্বর্গের সিঁড়ি (Stairway to heaven)। ত্রিপুরা ভাষায় মায়ুং কপাল, যার অর্থ হাতি মাথা। পাহাড়টি দেখতে অনেকটা হাতির মাথার মতো। চাকমাদের কাছে পাহাড়টি “এদো শিরে মোন” নামে পরিচিত। বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে পাহাড়টি হাতিমাথা ও স্বর্গের সিঁড়ি নামে বিশেষ পরিচিত।

২০১৫ সালের ১৩ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মায়ুং কপাল যাওয়ার জন্য এই সিঁড়ি নির্মাণ করেন। এই সিঁড়ি তৈরির ফলে ১৫ গ্রামের বাসিন্দাদের হাতিমাথা পাহাড়ের দুর্গম পথে চলাচল সহজ করেছে।

সিঁড়ির ৩০০ টি ধাপ উঠে গেছে মায়ুং কপাল পাহাড়ের চূড়ায়। মায়ুং কপাল পাহাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০৮ ফুট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,২০৮ ফুট উচ্চতায় মায়ুং কপাল পাহাড়। নিচ থেকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত সিঁড়িটি দেখলে মনে হয় যেন সত্যিই স্বর্গে যাওয়ার সিঁড়ি।

হাতিমাথা পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে খাগড়াছড়ি শহরের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। চারপাশে সবুজ উঁচু-নিচু পাহাড়, পাখির কিচিরমিচির, মেঘের খেলা, আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন উপভোগ করতে পর্যটকদের কাছে হাতিমাথা / হতিমুড়া বা স্বর্গের সিঁড়ি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে।

BM Khalid Hasan Sujon

স্বর্গের সিঁড়ি খাগড়াছড়ি কিভাবে যাব

রাজধানী ঢাকা থেকে হাতিমাথা স্বর্গের সিঁড়ি যেতে চাইলে প্রথমে খাগড়াছড়ি জেলা সদর শহরে আসতে হবে। ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, আরামবাগ ও উত্তরা থেকে হানিফ পরিবহন, এস আলম পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, শান্তি পরিবহন, ঈগল পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, গ্রীন লাইন পরিবহন, সেন্টমার্টিন হুন্দাই, ইকোনো পরিবহনের এসি/নন-এসি বাসে চড়ে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি নন-এসি/এসি বাস ভেদে ভাড়া ৮০০ থেকে ১,৬০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে শান্তি পরিবহন, বি আর টি সি, ও লোকাল বাস সকাল ৭ টা থেকে প্রতি ১-২ ঘন্টা পর পর খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি বাস ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, যেতে সময় লাগবে প্রায় ৪-৫ ঘন্টা।

খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে হাতিমাথা পাহাড় স্বর্গের সিঁড়ি যেতে সিএনজি করে পানছড়ি যাওয়ার পথে জামতলী যাত্রী ছাউনি নেমে যাবেন। জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা। সেখান থেকে আপনার ট্রেকিং শুরু হবে।

BM Khalid Hasan Sujon

জামতলী যাত্রী ছাউনির সামনে বাম দিকের রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে চেঙ্গী নদীর উপর ছোট কাঠের সেতু পার হয়ে পল্টনজয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি দোকান দেখতে পাবেন (কাঠের সেতু পার হতে ১০ টাকা দিতে হবে)।

এখান থেকে স্থানীয় কাউকে গাইড নেওয়া ভালো। চাইলে স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিতে পারেন। কারণ প্রথমবার যাওয়া পাহাড়ি রাস্তার আপনি বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। দোকানের ডান পাশের রাস্তা দিয়ে সামনে এগিয়ে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে কিছুদূর এগিয়ে ডানপাশে ছড়ার পাশ দিয়ে এগিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হবেন।

এই পথে যেতে যেতে আদিবাসীদের জীবনযাপন উপভোগ করতে পারবেন এবং বগড়া পাড়া বা লারমা পাড়া দেখতে পাবেন। সামনে এগিয়ে ছড়া ও উঁচু টিলা অতিক্রম করে কাপতলা এলাকায় পৌঁছে যাবেন। কাপতলা থেকে ডান পাশে নিচু রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে একটি মোড় পাবেন। মোড়ের ডান পাশের রাস্তা ধরে সামনে এগিয়ে গেলে হাতিমাথা স্বর্গ সিঁড়ি দেখতে পাবেন। জামলতী যাত্রী ছাউনি থেকে হাতিমাথা পাহাড়ের স্বর্গের সিঁড়ি পর্যন্ত ট্রেকিং করতে প্রায় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময় লাগবে।

কোথায় থাকবেন

খাগড়াছড়ি জেলা শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল আছে। এসব হোটেলে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

BM Khalid Hasan Sujon

এর মধ্যে পর্যটন মোটেল (0371-6208485), গিরি থেবার (01859-025694), অরণ্য বিলাস (01838-497257), হোটেল ইকো ছড়ি ইন (0371-62625), হোটেল গাইরিং (01815-163173), হোটেল হিল টাচ, হোটেল মাউন্ট ইন, গাংচিল আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন

খাগড়াছড়ির জেলা শহরে পেডা টিং টিং, গাং সাবারাং, সিস্টেম রেস্তোরাঁ, তে কফি, পাজন ও চিম্বাল রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দসই খাবার খেতে পারেন।

এছাড়া খাগড়াছড়ি বাস টার্মিনাল, শাপলা চত্বর ও পান্থা পাড়ায় খাবার জন্য ভালো মানের বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট আছে। খাগড়াছড়ি গিয়ে অবশ্যই বাশকুড়ুল  ও অন্যান্য পাহাড়ী খাবারের স্বাদ নিবেন।

ভ্রমণ টিপস

  • প্রথমবার ভ্রমণে স্থানীয় গাইড নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
  • স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে খারাপ আচরণ করবেন না।
  • অনুমতি ছাড়া আদিবাসীদের ছবি বা ভিডিও করবেন না।
  • পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না।
  • গ্রিপের জুতা ব্যবহার করুন।
  • দেড় ঘন্টা ট্রেকিং করতে সাথে খাবার পানি ও শুকনো খাবার সাথে নিবেন।
  • সন্ধ্যার আগে খাগড়াছড়ি শহরে চলে আসবেন।

আরো পড়ুন