ক্রিসতং রুংরাং ভ্রমণ গাইড, বান্দরবান

বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা চিম্বুক রেঞ্জে অবস্থিত ক্রিসতং রুংরাং (Kristong Rungrang)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ক্রিসতং পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ২,৯৮৯ ফুট। ওয়ার্ল্ডঅ্যাটলাসের একটি জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্বতের তালিকায় ক্রিসতং দশম। ক্রিসতং শব্দটি মারমা ভাষা ক্রিস ও তং থেকে যৌথ ভাবে এসেছে। ক্রিস একটি বিলুপ্ত পাখির নাম। এই ক্রিস পাখি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় দেখা যেত। আর তং শব্দের অর্থ পাহাড়। পাখির নাম থেকে পাহাড়ের নামকরণ করা হয় ক্রিসতং।

চিম্বুক রেঞ্জের সর্বোচ্চ চূড়া পরিচিত হিসেবে পরিচিত ক্রিসতং সাবমিট থেকে তিন্দু এর পরিস্কার ভিউ পাওয়া যায়। কিন্তু সাবমিটের চারপাশে ঘন গাছগাছালির কারণে ওয়াইড ভিউ ভালো পাওয়া যায় না। ক্রিসতং চূড়া থেকে দূরের উঁচু পাহাড় গুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়।

ক্রিসতং এর চূড়ায় শত বছরের বেশি শতশত মাদারগাছের সংরক্ষিত বন। এখানকার মাদারগাছ গুলো অনেক লম্বা হওয়ার কারণে সূর্যের আলো বনের অধিকাংশ জায়গায় পৌঁছায় না। বনের ভেতর মনে হয় বিশাল গাছের ছাউনি। এই বনে বিভিন্ন প্রজাতীর পশু-পাখি ও প্রাণী (বিলুপ্তিপ্রায়) দেখা যায়।  বনের ভেতর হাঁটার সময় বিভিন্ন পাখির ডাক শোনা যায়।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে রুংরাং পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ২,৭৭০ ফুট। রুংরাং এর নামকরণ করা হয় ধনেশ পাখি থেকে। একসময় এখানে অনেক ধনেশ পাখি দেখা যেত কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন আর দেখা যায় না। এই পাখির বৈশিষ্ট্য বিশাল বড় ঠোঁট।

BM Khalid Hasan Sujon

ম্রো ভাষায় রুংরাং শব্দের অর্থ ধনেশ পাখি আর তং শব্দের অর্থ পাহাড়। চিম্বুক রেঞ্জের এই এলাকায় আগে প্রচুর ধনেশ পাখির আনাগোনা ছিলো তাই এই পাহাড়ের নামকরণ করা হয় রুরাং তং। মেনকিউ পাড়া কারবারির ঘরে অতিথিদের দেখানোর জন্য ধনেশ পাখি রয়েছে।

যারা পর্বত ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন তারা বান্দরবান আলীকদম চিম্বুক রেঞ্জের পাশাপাশি অবস্থিত ক্রিসতং রুংরাং পর্বত দুইটি ট্রেকিং করতে পারেন।

কিভাবে যাবেন

ক্রিসতং ও রুংরাং তং এর চূড়ায় সামিট করতে হলে প্রথমে আপনাকে বান্দরবানের আলীকদম যেতে হবে।  সেখান থেকে গাইড নিয়ে মোটরসাইকেল বা চান্দের গাড়ি করে ১৩ কিলো যেতে হবে। মোটরসাইকেল ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ টাকা এবং চান্দের গাড়ি ভাড়া ২,৭০০-৩,০০০ টাকা। ১৩ কিলো আমতলী ঘাট থেকে নৌকায় দুসরী বাজার যাবেন। দুরসী বাজার থেকে মেনকিউ পাড়া ৪০ মিনিটের রাস্তা ট্রেকিং করে যেতে হবে। ট্রেকিং করে যেতে যেতে ঝিরি, পাহাড়ি রাস্তা ও বিশাল তামাক বাগান চোখে পড়বে।

BM Khalid Hasan Sujon

মেনকিউ পাড়ায় কারবারি প্রধানের বাড়িতে রাত্রিযাপন করে সকালে বের হবেন ক্রিসতং সামিট করার জন্য। মানকিউ পাড়া থেকে ক্রিসতং এর চূড়ায় পৌঁছাতে প্রায় ৩ ঘন্টা ট্রেকিং করতে হবে। যেতে যেতে বুনো পাহাড় ও শত বছরের মাদারগাছের সংরক্ষিত বন চেখে পড়বে।

ঢাকা থেকে আলীকদমঃ ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহনশ্যামলী পরিবহন সরাসরি বান্দরবানের আলীকদম চলাচল করে। নন-এসি/এসি বাস ভেদে ভাড়া ১,১০০ থেকে ১,৮০০ টাকা। যেতে সময় লাগে প্রায় ৮ ঘন্টা।

এছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে চড়ে চকরিয়া নেমে যাবেন। চকরিয়া থেকে বাসে চড়ে আলীকদম যেতে পারবেন।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

ক্রিসতং ও রুংরাং পাহাড় ভ্রমণে রাত্রিযাপন করতে হবে মেনকিউ পাড়ায় প্রধান কারবারির বাড়িতে। এজন্য পাড়ার কারবারীর সাথে প্রথমে কথা বলে নিতে হবে। আলীকদমের প্রত্যেকটি পাড়ার কারবারীর বাড়িতে অতিথীদের থাকা-খাবার ব্যবস্থা করে থাকে।

BM Khalid Hasan Sujon

ক্রিসতং রুংরাং খরচ

যেকোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা গ্রুপের সাথে ক্রিসতং ও রুংরাং পাহাড় সামিট করতে খরচ হবে ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা। ৪ দিনের প্যাকেজে ঢাকা থেকে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া সহ সকল খরচ ট্যাভেল এজেন্সি বহন করবে।

ট্রেকিং এ যা যা নিতে হবে

  • ভালো মানের ট্রেকিং জুতা।
  • ভালো মানের ট্রেকিং ব্যাগ, রেনকোট ও পলিথিন।
  • শুকনো খাবার, গ্লুকোজ, স্যালাইন ও প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ।
  • পানির বোতল।
  • গামছা, টুথ ব্রাশ, টুথপেষ্ট ও সাবান, সেম্পু।
  • হেড ল্যাম্প, পাওয়ার ব্যাংক, লাইট।
  • গামছা ও অতিরিক্ত পোশাক।
  • মশার জন্য ওডোমস ক্রিম।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (কয়েক কপি)।

গাইড

অবশ্যই গাইড নিবেন। রাজু (গাইড) 01890-609437, ফারুক (গাইড) 01869-001454, মানিক (গাইড) 01826-614935

আরো পড়ুন