বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত পাসিং পাড়া (Passing para)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পাসিং পাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ি গ্রাম। গ্রামটির কারবারি বা পাড়া প্রধান পাসিং ম্রোর নাম অনুসারে এই গ্রামের নামকরণ করা হয় পাসিং পাড়া। বাংলাদের অন্যতম উঁচু পর্বত শৃঙ্গ কেওক্রাডং পাহাড়ের চূড়া থেকে পশ্চিম দিকে কয়েক ফুট নিচে নেমে দক্ষিণ দিকে তাকালে গ্রামটি দেখতে পাবেন।
এই গ্রামে ৫০-৬০টি পরিবার বাস করে যারা সবাই ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষ। এই গ্রামের মানুষ অত্যান্ত সহজ-সরল ও পরিশ্রমী। তাদের জীবিকার প্রধান উৎস জুম চাষ ও শিকার। গ্রামের ঘরগুলো বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি। জুম চাষ শেষ হলে তাদের আর কোনো কাজ থাকে না, তখন গ্রামের বৃদ্ধরা শিশুদের গল্প শোনায়। এই গল্পে তাদের সামাজিক ও সংস্কৃতির শিক্ষা দেয়।
প্রায় ৩৫ বছর আগে এই গ্রামে ক্রামা নামে নতুন একটি ধর্মের আর্বিভাব হয়। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এই ধর্মের অনুসারী। পাড়ার তিন ভাগের দুই ভাগ মানুষ ক্রামা ধর্মের অনুসারী। বাকিদের অর্ধেক খ্রিষ্টান ও অর্ধেক বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ অনুসারী। পাড়ার ক্রামা ধর্মের ধর্মগুরু মেনদ্রো। তাদের প্রার্থনা করার জন্য ছোট একটি প্রার্থনালয় আছে।
সুন্দর ছিমছাম গোছানো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এই গ্রামটি। গ্রামে বেড়াতে গেলে মেঘের ওড়াউড়ি দেখতে পাবেন। এখানকার শিশুরা মেঘের সাথে খেলা করে। আপনি এখানে ঘুরতে গেলে হাতে মেঘ ছুয়ে দেখতে পাবেন। পূর্বে দর্শনার্থীদের এই গ্রামে প্রবেশ নিষেধ ছিলো, তবে কেওক্রাডং খোলার পর দর্শনার্থীদের গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। গ্রামে প্রবেশ করতে অবশ্যই কারবারি প্রধানের অনুমতি নিতে হবে।
পাসিং পাড়া যাবার উপায়
রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহনের বাসে চড়ে সরাসরি বান্দরবান যেতে পারবেন। বান্দরবান শহর থেকে বাসে চড়ে যেতে হবে রুমা বাস টার্মিনাল। সেখান থেকে দুই-তিনটি বাস রুমা বাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
রুমা এক নাম্বার সদরঘাটে বাস থেকে নেমে সোজা হেঁটে বড়শিপাড়া যেতে হবে। সেখান থেকে চাঁন্দের গাড়িতে ১১ মাইল নামক স্থানে নেমে যাবেন। সেখান থেকে তিন ঘন্টার ট্রেকিং করে বগালেক যাবেন। এই রাস্তা ধরে কেওক্রাডং পাহাড়ে পৌছানোর পর সেনাবাহিনীর হেলিপ্যাড অতিক্রম করে দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ি গ্রাম পাসিং পাড়ায় পৌঁছে যাবেন।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
কেওক্রাডং পাহাড়ের চূড়ায় রাত্রিযাপন করার জন্য হোটেল আছে। ২০০০-২৫০০ টাকায় এক রুমে ৪-৮ জন রাত্রিযাপন করতে পারবেন। এছাড়া আশেপাশে আদিবাসীদের কয়েকটি কটেজ আছে। সেখানে জনপ্রতি ২০০-৩০০ টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
খাওয়ার জন্য আদিবাসীদের হোটেল আছে। সেখান থেকে ১৫০-৩০০ টাকার প্যাকেজে ভাত, ডিম, ডাল, সবজি, আলুভর্তা, পাহাড়ি মুরগি দিয়ে খেতে পারবেন। খাবারের মেন্যুতে কি কি খাবেন আগেই অর্ডার দিবেন। গাইডের মাধ্যমে আগেই থাকা-খাওয়ার কথা বলে নিতে পারেন।





