খুলনা শহরের পার্ক সমূহের তালিকা

খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভৈরব ও রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত তৃতীয় বৃহত্তর শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর। বিশ্বের বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার বলা হয় খুলনাকে। খুলনা শহর ও এর আশেপাশে নিরিবিলি সময় কাটানো ও শিশুদের বিনোদনের জন্য অনেক পার্ক আছে। আজকের ভ্রমণ গাইডে উল্লেখ করবো খুলনা শহরের পার্ক সমূহ।

খুলনা শহরের পার্ক সমূহের তালিকা

খুলনা শহরে প্রকৃতিক পরিবেশে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য আশেপাশে অনেক পার্ক আছে। এসব পার্কে শিশুদের পাশাপাশি সববয়সী মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। এসব পার্কের মধ্যে শহীদ হাদিস পার্ক, উল্লাস পার্ক, গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক, শেখ রাসেল ইকোপার্ক, জাতিসংঘ পার্ক, রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক উল্লেখযোগ্য।

নিচে এসব পার্ক সমূহের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে আপনারা তথ্য জেনে পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

BM Khalid Hasan Sujon

শহীদ হাদিস পার্ক

খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে পি সি রায় রোডে বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখার পশ্চিম পাশে অবস্থিত শহীদ হাদিস পার্ক। শহরবাসীর বিনোদনের জন্য খুলনা সিটি করপোরেশন এই পার্ক প্রতিষ্ঠিত করেন। কালের বিবর্তনে এই পার্কের বহুবার নামকরণ করা হয়। সর্বশেষ ১৯৬৯ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি পার্কের পাশে পাকিস্তান স্বৈরাচার আইয়ুব খান বিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে শেখ হাদিসুর রহমান শহীদ হলে এই পার্কে ২২ ফেব্রুয়ারি তার জানাজা নামাজ শেষে উপস্থিত জনতা পার্কের নামকরণ করেন শহীদ হাদিস পার্ক।

শহীদ হাদিস পার্কে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে, এছাড়া পার্কে বিশাল একটি লেক, ফুলের বাগান, পানির ফোয়ারা, দোলনা, পর্যবেক্ষন টাওয়ার, বসার বেঞ্চ আছে। প্রতিদিন এখানে অসংখ্য দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।

খুলনা শহরের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে খুব সহজে হাদিস পার্কে যেতে পারবেন। রিকশাওলা মামাকে হাদিস পার্কের কথা বললে আপনাকে নিয়ে যাবে।

উল্লাস পার্ক খুলনা

খুলনা মুজগুন্নি আউটডোর বাইপাস রোড়ের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত উল্লাস পার্ক। প্রায় ৮.৬০ একর জায়গার উপর গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। পূর্বে মুজগুন্নি শিশু পার্ক নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমান উল্লাস অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নামকরণ করা হয়েছে।

BM Khalid Hasan Sujon

পার্কে সববয়সী মানুষের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইডস আছে। এর মধ্যে পানশি প্যাডেল বোট, বাম্পার বোট, স্পিড স্টার, চরকি, উল্লাস এক্সপ্রেস ট্রেন, এচিং বিচিং, গো কার্ট, হোভার বোট, ফ্রিসভি, ট্রফি, ইউনিকর্ন উল্লেখযোগ্য। এছাড়া শিশুদের জন্য কিডস জোন, সেলফি জোন, পিকনিক স্পট, জিম সেন্টার, বসার স্থান, লাভ পয়েন্ট, সুপার শপ ও পুকুরে মাছ ধরার ব্যবস্থা আছে।

প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচীঃ ১-৩ বছরের বাচ্চাদের জন্য টিকেট ফ্রি, ৩-১০ বছরের বাচ্চাদের জন্য টিকেট ৫০ টাকা, ১০-৮০ বছর বয়সী মানুষের জন্য টিকেট ১০০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত পার্কটি খোলা থাকে।

দেশের যেকোনো স্থান থেকে খুলনা সোনাডাঙা বাস টার্মিনাল নেমে সিএনজি বা অটোরিকশা করে ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে উল্লাস পার্কে যেতে পারবেন। পার্কের ভেতরে খাবার জন্য আধুনিক রেস্টুরেন্ট আছে।

গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক

খুলনার গল্লামারী ময়ূর নদীর তীরে অবস্থিত গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক। ২০১২ সালে খুলনা সিটি করর্পোরেশন ময়ূর নদীর তীরে প্রায় ১৪ একর জায়গার উপর পার্কটি তৈরির কাজ শুরু করে।

BM Khalid Hasan Sujon

পার্কে বসার বেঞ্চ, হাঁটার জন্য ওয়ার্কওয়ে, কিডস জোন, পিকনিক স্পট, নাগরদোলা, ট্রেন, মিনি চিড়িয়াখানা, জ্যাম্পিং প্যাড, আর্টিফিশিয়াল টানেল, মেরি গ্রাউন্ড, কাম্বিং পোল, আমব্রেলা শেড, প্যাডেস্ট্রিয়ান, দুটি দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ, বাঘ হরিণ ও গরুর গাড়ির ভাস্কর্য ও খাবার জন্য রেস্টুরেন্ট আছে। 

প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচীঃ পার্কে জনপ্রতি প্রবেশ টিকেট মূল্য ৪০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত পার্কটি খোলা থাকে।

খুলনা শহরে যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে গল্লামারী লিনিয়ার পার্কের কথা বললে নিয়ে যাবে।

শেখ রাসেল ইকোপার্ক

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙা মৌজায় অবস্থিত শেখ রাসেল ইকোপার্ক। খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রূপসা সেতুর দক্ষিণ পাশে প্রায় ৪৩.৬০ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। আয়তনের দিক থেকে খুলনা শহরের সবচেয়ে বড় ইকোপার্ক এটি।

পার্কে সারি সারি ঝাউগাছ, বসার জন্য কিটকট চেয়ার, হাঁটার জন্য সুন্দর ওয়ার্কওয়ে, পিকনিক স্পট, প্যাডেল বোট, কিডস জোন সহ বিভিন্ন ধরনের ঔষুধি গাছ আছে। পার্কের শেষ প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে ম্যানগ্রোভ বন তৈরি করা হয়েছে। পার্ক থেকে রূপসা নদী উপর দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন রেলসেতু ও নদীতে ভেসে বেড়ানো নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার দেখা যায়।

শেখ রাসেল ইকোপার্কের প্রবেশ টিকেট মূল্য ২০ টাকা। সপ্তাহের সাতদিন সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। খুলনা শহরে থেকে রিজার্ভ সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া করে পার্কে যেতে পারবেন।

জাতিসংঘ শিশু পার্ক

খুলনা শহরে শান্তিধাম মোড়ের পাশে খানজাহান আলী সড়কের পাশে অবস্থিত জাতিসংঘ শিশু পার্ক। ১৯৮৪-৮৫ সালে পার্কের স্থানে একটি পুকুর ছিলো, যা স্থানীয়দের কাছে তারের পুকুর নামে পরিচিত। খুলনা সিটি করর্পোরেশন এই পুকুর ভরাট করে শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি পার্ক নির্মাণ করেন। প্রতিষ্ঠাকালীর সময় পার্কটি মহানগরী শিশু পার্ক নামে  প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পার্কের নাম পরিবর্তন করে জাতিসংঘ পার্ক করা হয়।

পার্কে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইডস আছে। এছাড়া বসার জন্য বেঞ্চ এবং হাঁটাহাঁটি করার জন্য ওয়ার্কওয়ে আছে। খুলনা জেলা শহরের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে জাতিসংঘ শিশু পার্ক যেতে পারবেন।

রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক

খুলনা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বটিয়াঘাটা উপজেলার বরুণপাড়া পশুর নদীর তীরে প্রায় ৯.২৫ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে রানা রিসোর্ট অ্যান্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। ওয়েস্টার্ন গ্রুপের চেয়ারম্যান এ.এস.এম আলাউদ্দিন ভূঁইয়া তার ছেলে ইমরান উদ্দিন রানার স্মৃতি রক্ষার্থে এই পার্ক নির্মাণ করেন।

পার্কে সববয়সী মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইড আছে। এর মধ্যে সেল্ফ কান্ট্রোল্ড প্লেন, ট্রেন, কেবল কার, ওয়েব পুল, ওয়াটার স্লাইড, ক্যারোসেল, নাগরদোলা, বাম্পার কার, ফ্লাইং কার, জাম্পিং ফ্রগ, অক্টোপাস রাইড উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও পিকনিক স্পট ও রাত্রিযাপন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের লাক্সারি কটেজ আছে।

রানা রিসোর্টে প্রবেশ, রাইডস ও রাত্রিযাপন করার জন্য ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকার প্যাকেজ আছে। খুলনা শহরের রয়েল মোড় থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা ভাড়া করে সরাসরি পার্কে যেতে পারবেন। এছাড়া খুলনা শহর থেকে প্রথমে বটিয়াঘাটা বাজার গিয়ে সেখান থেকে সিএনজি করে পার্কে যেতে পারবেন। পার্কের ভেতর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আছে।

আরো পড়ুন