কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা বাহারছড়া ইউনিয়নের শিলখালী রেইঞ্জের জাহাজপুরা গ্রামে অবস্থিত জাহাজপুরা গর্জন বন পিকনিক স্পট (Jahajpura gorjan bon picnic spot)। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ রোড হয়ে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের গর্জন বাগান।
১১,৬১৫ হেক্টর আয়তনের এই গর্জন বাগানে ৫,৭৭২ টিরও বেশি গর্জন গাছ আছে। শত বছরের এই গাছগুলো লম্বায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট এবং বেড় ১০ থেকে ১২ ফুট। গর্জন গাছ ছাড়াও এই বনে বৈলাম, শীল করল, ওরি আম, সাপালি, তেসসল, জারইল সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে।
এছাড়া গর্জন বনে রয়েছে হাতি, শুক রাকার ভোঁদর, নীলদাড়ি সুইচোরা, বানর, রেসাস বানর, হরিণ, কাকড়াভুক, কাঠ কুড়ালি সহ ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৬০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী পাখি, ৫৬ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৫৫ প্রজাতির প্রাণী।
পর্যটকদের বিনোদনের জন্য ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল ৭২ হেক্টর জায়গা নিয়ে গর্জন বাগানকে প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে পর্যটকদের কাছে “জাহাজপুরা ইকো পার্ক বা জাহাজপুরা গর্জন বাগান” নামে পরিচিত হয়ে উঠে।
গর্জন বনের ভেতর সারি সারি উঁচু লম্বা গর্জন গাছ, পিচঢালা ঝকঝকে রাস্তা, বসার স্থান, উঁচু-নিচু পাহাড় সব মিলিয়ে কক্সবাজার ইকো-ট্যুরিজম বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই গর্জন বাগান। প্রতদিন শতশত দেশি-বিদেশি পর্যটন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এখানে বেড়াতে আসেন।
জাহাজপুরা গর্জন বন পিকনিক স্পট প্রবেশ টিকেট মূল্য
জাহাজপুরা গর্জন বন পিকনিক স্পটের প্রবেশ টিকেট মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পিকনিক স্পট খোলা থাকে।
কিভাবে যাবেন
জাহাজপুরা গর্জন বাগানে যেতে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার জেলা শহর আসতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সেন্টমার্টিন হুন্দাই পরিবহন, এস আলম, শ্যামলী পরিবহন, ঈগল পরিবহন, হানিফ পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, ইমাদ পরিবহন, গ্রীন লাইন পরিবহন সহ কক্সবাজারগামী যেকোনো পরিবহনে চড়ে কক্সবাজার আসতে পারেন। নন-এসি/এসি বাস ভেদে ভাড়া ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা।
এছাড়া ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, সৈকত এক্সপ্রেস, প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন। ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের আসন ভেদে ভাড়া ৬৯৫ থেকে ২,৩৮০ টাকা।
আবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ার এস্ট্রা ফ্লাইটে চড়ে কক্সবাজার যেতে পারবেন। বিমানের আসন ভেদে ভাড়া ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা।
কক্সবাজার শহরের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি, জিপ, প্রাইভেটকার করে মেরিনড্রাইভ রোড ধরে জাহাজপুরা গর্জন বাগান যেতে পারবেন। কক্সবাজার ডলফিন মোড় থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে জাহাজপুরক গর্জন বাগান। যেতে যেতে মেরিনড্রাইভের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
কক্সবাজার থাকার জন্য ৫০০ টির অধিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল সায়মন, বেওয়াচ, হোটেল সি প্যালেস, হোটেল কক্স টুডে, হোটেল সি কুইন, লং বিচ হোটেল, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সিগাল হোটেল, মারমেইড বিচ রিসোর্ট, জলতরঙ্গ হোটেল, ওশান প্যালেস, রয়েল টিউলিপ হোটেল উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া কক্সবাজার বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সরকারি হোটেল আছে। যারা কক্সবাজার কম খরচে থাকতে চান তারা ৫০০ টাকায় কক্সবাজার হোটেল আর্টিকেলটি পড়ুন।
কোথায় খাবেন
কক্সবাজার খাবার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এর মধ্যে পৌষী রেস্তোরাঁ, ঝাউবন রেস্তোরাঁ, হান্ডি রেস্টুরেন্ট, লাইভ ফিস রেস্টুরেন্ট, তরঙ্গ রেস্টুরেন্ট, কয়লা রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, শালিক রেস্টুরেন্ট, আল-গনি রেস্টুরেন্ট, পালংকি রেস্তোরাঁ, জেসি ডেক রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া কক্সবাজার মেরিনড্রইভ রোডে খাবার জন্য বিভিন্ন মানের রেস্তোরাঁ আছে। কক্সবাজার খাবারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সি-ফুড। আপনি এখানে সমুদ্রের বিভিন্ন ধরনের তাজা মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া গ্রিল, ভাজা খেতে পারবেন।
কক্সবাজারে রাখাইন জাতির ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না।





