বজরা শাহী মসজিদ, নোয়াখালী

বজরা শাহী মসজিদ (Bajra Shahi Mosque) নোয়াখালী জেলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বজরা নামক গ্রামে অবস্থিত। মুগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহ আমান উল্লাহ তার রাজত্বকালে ১৭৪১-১৭৪২ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত করেন। দিল্লির শাহী জামে মসজিদের নকশার অনুকরণে বজরা শাহী মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে।

তিন গম্বুজই সুদৃশ্য মার্বেল পাথর সুসজ্জিত মসজিদের প্রবেশ পথে তিনটি ধনিকাকৃতি দরজা এবং কেবলার দিকে তিনটি কারুকার্য খচিত মিহরাব আছে। মসজিদের প্রবেশ পথে তোরণের উপর কয়েকটি গম্বুজ দেখা যায়।

তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ভীত প্রায় ২০ ফুট মাটির নিচ থেকে তৈরি করা হয়েছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৬ ফুট, প্রস্থ প্রায় ৭৪ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। মসজিদের পূর্বে ৩ টি, উত্তর ও দক্ষিণে ১ করে মোট ৫ টি দরজা আছে। দজার উভয় পাশে সরু মিনার আছে।

মসজিদের ছাদের উপর আষ্টকোণাকার তিনটি কন্দাকৃতির গম্বুজ আছে। মসজিদের অভ্যন্তরীণ ২ টি কক্ষ আছে যা বহুখাঁজ বিশিষ্ট আড়াআড়ি খিলান দ্বারা ৩ ভাগে বিভক্ত।

BM Khalid Hasan Sujon

মসজিদটির চারপাশে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মসজিদের পাশে প্রায় ৩০ একর জায়গায় বিশাল একটি দিঘি আছে। ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদ তৈরির প্রায় ১১৭ বছর পর ১৯৯০ সালে মসজিদটি প্রথমবার সংস্করণ করা হয়।

লোকমুখে জানা যায় এই মসজিদে কোন কিছু মানত করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। তাই দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ মসজিদে এসে নামাজ আদায় করে এবং মানত হিসাবে টাকা-পয়সা ও সিন্নি দান করে।

মোগল সম্রাট মোহাম্মদ শাহের অনুরোধে সৌদি আরবের কাবা শরীফ হতে মাওলানা শাহ আবু সিদ্দিক বজরা শাহী মসজিদের প্রথম ইমাম হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন শুরু করে। এরপর থেকে তার বংশধরগণ এই মসজিদের ইমাম হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে শাহ আবু সিদ্দিক সাহেবের ৭ম পুরুষ ইমাম হাসান সিদ্দিক মসজিদের ইমাম হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছে।

১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা এবং দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

BM Khalid Hasan Sujon

বজরা শাহী মসজিদ যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে নোয়াখালীর বজরা শাহী জামে মসজিদ যেতে হলে প্রথমে নোয়াখালীর মাইজদী শহরে যেতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে হিমাচল এক্সপ্রেস, একুশে এক্সপ্রেস, মুনলাইন এন্টারপ্রাইজ বাসে নোয়াখালীর মাইজদী শহরে যেতে পারবেন। এছাড়া ঢাকার ধানমন্ডি জিগাতলা বাস কাউন্টার থেকে একুশে পরিবহনের বাসে নোয়াখালী যেতে পারবেন। জিগাতলা থেকে প্রতিদিন রাত ১০:২০ মিনিটে বাস ছেড়ে যায়। এসি/নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে উপকূল এক্সপ্রেস নামক আন্তঃনগর ট্রেনে চগে নোয়াখালীর মাইজদী রেলস্টেশন নেমে যাবেন। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহের বাকি ছয় দিন বিকাল ৪:২০ মিনিটে নোয়াখালীর উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করে। ঢাকা থেকে মাইজদী রেলস্টেশন পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৩১৫ টাকা। যেতে সময় লাগবে প্রায় ৬ ঘন্টা।

নোয়াখালীর মাইজদী শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদ অবস্থিত। ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেন নোয়াখালীর মাইজদী শহরে নেমে সিএনজি বা অটোরিকশা করে বজরা হাসপাতালের সামনে নেমে বজরা মসজিদ যেতে পারবেন।

BM Khalid Hasan Sujon

কোথায় থাকবেন

নোয়াখালী থাকার জন্য মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল আছে। এরমধ্যে হোটেল আল মোরশেদ (0321-62173), রয়েল হোটেল, পুবালি হোটেল (0321-61257), সার্কিট হাউজ, হোটেল রাফসান (0321-61395), টাউন হল, নাইচ গেস্ট হাউজ, নোয়াখালী গেস্ট হাউজ,  হোটেল লিটন উল্লেখযোগ্য। এসব হোটেলে কম খরচে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

নোয়াখালী খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলোর মধ্যে ফুড ফিয়েস্তা, মায়া হোটেল এন্ড রেস্তোরাঁ, ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্তোরাঁ, পপি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, শাওন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, সোর্সাস রয়েল হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, আমানিয়া হোটেল উল্লেখযোগ্য। এসব হোটেল ও রেস্টুরেন্ট থেকে কম টাকায় ভালো মানের খাবার খেতে পারবেন।

আরো পড়ুন