বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ডলফিন মোড থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ রোডে অবস্থিত পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত (Patuartek Sea Beach)। একপাশে উঁচু পাহাড়, অন্য পাশে সমুদ্র সৈকত, মাঝখানে মেরিন ড্রাইভ রোড।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতো কক্সবাজার পাটুয়ারটেক সৈকতে জীবন্ত প্রবাল আছে। এখানে আসলে আপনি কিছুটা সেন্টমার্টিন দ্বীপের ফিল পাবেন। যে কারণে পর্যটকদের কাছে পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকতের আকর্ষণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রবাল পাথরের উপর দাঁড়িয়ে থাকলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আপনার পা ধুয়ে দিবে। বালুময় সৈকতে হাঁটাহাঁটি, কোয়াড মোটরগাড়ি চালানো, ঘোড়ার পিঠে চড়া, কিটকট ছাতার নিচে শুয়ে সমুদ্র দেখা, সমুদ্রে গোসল করা, বিকালে সৈকতে লাল কাঁকড়া, জেলাদের রঙিন সাম্পান সব মিলিয়ে সে এক অন্যরকম সৌন্দর্য যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
কক্সবাজার অন্যান্য সৈকত গুলোর মতো এখানে ফটোগ্রাফার আছে। যাদের মাধ্যমে আপনি সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে নিতে পারবেন। তবে ফটোগ্রাফার থেকে ছবি তোলার আগে অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন।
পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত যাওয়ার উপযুক্ত সময়
বিকাল বেলা পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত যাওয়ার উপযুক্ত সময়। অধিকাংশ পর্যটক বিকালে পাটুয়ারটেক সৈকতে যায় সূর্যস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। প্রবাল পাথরের উপর দাঁড়িয়ে বা কিটকট ছাতার নিচে বসে সূর্যস্ত দেখার সৌন্দর্য আপনার চিরদিন সরণীয় হয়ে থাকবে।
কিভাবে যাবেন
পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত যেতে হলে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার যেতে হবে। দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস, ট্রেন ও আকাশ পথে কক্সবাজার যেতে পারবেন।
বাসে ঢাকা থেকে কক্সবাজারঃ ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, ঈগল পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, গ্রীন লাইন, সেন্টমার্টিন পরিবহন, এম আর পরিবহন, ইমাদ পরিবহন, দেশ ট্রাভেল সহ অন্যান্য পরিবহনে চড়ে কক্সবাজার যেতে পারবেন। নন-এসি/এসি পরিবহন ভেদে ভাড়া ১০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। যেতে সময় লাগবে প্রায় ৮ ঘন্টা।
ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজারঃ ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন পর্যটক এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার ছেড়ে যায়। সিট ভেদে ভাড়া ৬৯৫ থেকে ২,৩৮০ টাকা পর্যন্ত।
বিমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারঃ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা ফ্লাইটে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন। সিট ভেদে ভাড়া ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত। যেতে সময় লাগে প্রায় ৫০ মিনিট।
কক্সবাজার শহরের ডলফিন মোড় থেকে সিএনজি, অটো বা চান্দের গাড়ি ভাড়া নিয়ে মেরিন ড্রাইভ রোডের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত ঘুরে আসতে পারবেন। মেরিন ড্রাইভ রোডে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। সারাদিনের জন্য চান্দের গাড়ি বা সিএনজি ভাড়া করে মেরিন ড্রাইভ রোড সহ আশেপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন। সারাদিনের জন্য চান্দের গাড়ি ভাড়া ৪,৫০০ টাকা, সিএনজি ভাড়া ৩,০০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে অধিকাংশ পর্যটক ডলফিন মোড় বা কলাতলী হোটেল ভাড়া নিয়ে থাকে। এছাড়া মেরিন ড্রাইভ রোডে অনেক ভালো মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। আপনি যদি পাটুয়ারটেক বীচের পাশে থাকতে চান তাহলে ইনানী রয়াল রিসোর্ট, হোটেল বেওয়াচ, রয়েল টিউলিপ রিসোর্ট, ডেরা রিসোর্ট, লা বেল্যা রিসোর্টে থাকতে পারেন।
যারা বাজেটের মধ্যে থাকতে চান তারা ৫০০ টাকা কক্সবাজার হোটেল পাবেন। এছাড়া কক্সবাজার বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সরকারি হোটেল আছে। এসব হোটেলে কম খরচে থাকতে পারবেন।
কোথায় খাবেন
পাটুয়ারটেক বিচের পাশে মেরিন ড্রাইভ রোডে খাবার জন্য অনেক হোটেল, টং দোকান ও রেস্তোরাঁ আছে। এছাড়া কক্সবাজার শহরে পৌষি, শালিক, আল গনি, ঝাউবন, রোদেলা, ধানসিঁড়ি, নিরিবিলি, কাসুন্দি রেস্তোরাঁ, কাচ্চি ডাইন বেশ জনপ্রিয়।
আরো পড়ুন
- সুগন্ধা বীচ
- লাবণী পয়েন্ট সমুদ্র সৈকত
- এম বি স্বপ্নতরী হাউসবোট
- কক্সবাজার বিচের নাম
- হোটেল সায়মন কক্সবাজার ভাড়া





