পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার ও রামু উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্বপাশে রশিদনগর গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত স্বপ্নতরী পার্ক (Sopnatori Park)। প্রায় ৩ একর জায়গা জুড়ে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত স্বপ্নতরী বিনোদন পার্কটি পর্যটকদের নজর কেড়েছে।
স্বপ্নতরী পার্কের প্রধান আকর্ষণ স্বপ্নতরী জাহাজ। এই স্বপ্নতরী জাহাজকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে পার্কটি। দূর থেকে দেখতে পাবেন সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে একটি দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রিক জাহাজ। এটি সাগরে ভাসমান নয়, সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় কৃত্রিম তৈরি করা ব্যতিক্রমী জাহাজ। যার নাম দেওয়া হয়েছে স্বপ্নতরী।
পাহাড়ের চূড়ায় কৃত্রিম তৈরি করা এই জাহাজে আছে নোঙর, চিমনি, স্টিয়ারিং, লাইটিং, বিপদের সময় ব্যবহারের ডিঙি নৌকা, কনফারেন্স রুম, রেস্টুরেন্ট ও রাত্রিযাপনের সুবিধা। রেস্টুরেন্টের রান্নার ধোয়া জাহাজ থেকে এমন ভাবে বের করা হয় মনে হয় যেন জাহাজ থেকে ধোয়া বের হচ্ছে।
স্বপ্নতরী পার্কে রয়েছে হরেক রকমের ফুলের গাছ, সেলফি জোন, সুন্দর সুন্দর বসার স্থান, রেস্ট হাউজ, বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন ধরনের রাইডস, নাগরদোলা, ট্রেন, চরকি, দোলনা, কৃত্রিম তৈরি বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর ভাস্কর্য সহ আরো বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। দৃষ্টিনন্দন এই পার্কটিতে প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।

কথিত আছে, সপ্তম শতাব্দীতে আরব বণিকেরা ব্যবসার উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে ঝড়ের কবলে পড়েন। এতে কিছু ব্যবসায়ী মারা যায় এবং কিছু ব্যবসায়ী তীরে আশ্রয় নেয়। তারা রহর রহর বলে স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চান। সেই রহম থেকে রামুর নামকরণ করা হয়েছে। দেখে মনে হয় সপ্তম শতাব্দীর আরব বণিকদের দুর্ঘটনায় পতিত হাজাজটিই যেন রামুর পাহাড়ে আটকে আছে।
স্বপ্নতরী পার্ক প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচী
স্বপ্নতরী পার্কে প্রবেশ টিকেট মূল্য জনপ্রতি ১০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাশ ৫ টা পর্যন্ত পার্কটি খোলা থাকে।
কিভাবে যাবেন
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত স্বপ্নতরী পার্ক। রামু উপজেলা সদর থেকে সিএনজি করে সরাসরি পার্কে যেতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা-চট্রগ্রাম-কক্সবাজার গামী যেকোনো বাসে চড়ে পার্কের সামনে নামতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বাসের সুপারভাইজারকে আগেই জানিয়ে রাখবেন, আপনাকে যেন রামু স্বপ্নতরী পার্কের সামনে নামিয়ে দেয়।
কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজি বা মোটরসাইকেল করে রামু উপজেলা রশিদনগর গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন স্বপ্নতরী পার্কে যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
স্বপ্নতরী পার্কের ভেতর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি চাইলে সেখানে থাকতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের হোটেলে থাকতে চাইলে কক্সবাজার শহরে চলে আসুন। কক্সবাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু বিভিন্ন মানের হোটেলে থাকতে পারবেন।
কক্সবাজার থাকার জন্য সেরা কয়েকটি হোটেলের মধ্যে হোটেল সায়মন, বেওয়াচ, হোটেল সি প্যালেস, হোটেল কক্স টুডে, হোটেল সি কুইন, লং বিচ হোটেল, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সিগাল হোটেল, মারমেইড বিচ রিসোর্ট, জলতরঙ্গ হোটেল, ওশান প্যালেস, রয়েল টিউলিপ হোটেল উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া কক্সবাজার বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন সরকারি হোটেল মোটেল আছে।
কোথায় খাবেন
স্বপ্নতরী পার্কের খাবার জন্য রেস্টুরেন্ট আছে। ভালো মানের খাবার খেতে চাইলে কক্সবাজার শহরে চলে আসুন। কক্সবাজার খাবার জন্য পৌষী রেস্তোরাঁ, ঝাউবন রেস্তোরাঁ, হান্ডি রেস্টুরেন্ট, লাইভ ফিস রেস্টুরেন্ট, তরঙ্গ রেস্টুরেন্ট, কয়লা রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, শালিক রেস্টুরেন্ট, আল-গনি রেস্টুরেন্ট, পালংকি রেস্তোরাঁ, জেসি ডেক রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।





