বিলাসছড়া লেক (Bilashchora lake) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের বিলাসছড়া চা বাগানের দশ নাম্বার সেকশনে অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে যা পাহাড় ডোবা লেক বা চেইন বাড়ি লেক নামেও পরিচিত। পাহাড়ের ঢাল থেকে বেয়ে পড়া পানি জমে এই লেকের সৃষ্টি হয়েছে। যা শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে একটি।
বিলাসছড়া লেকের বিশেষত্ব হলো এর চারপাশে সবুজ বনানী এবং পাহাড়ি সৌন্দর্য, যা যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে। লেকের মনোরম পরিবেশ, চারপাশের সবুজ গাছগাছালি, পাখির ডাক, ঠান্ডা মৃদু বাতাস পর্যটকদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। খুব সকালে এবং বিকালে লেকের আশেপাশে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রজাপতির মেলা দেখতে পাবেন।
লেকের পরিস্কার পানির উপর ঝলমলে সূর্যের আলো, নীল আকাশের প্রতিছবি আর চারপাশের পাহাড়ি ছাড়া সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। লেকের পাশে নতুন নির্মাণ করা পাহাড়ি রাস্তায় প্রিয়জনের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে পাহাড় ও লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া সৃতি হিসাবে ছবি তুলে রাখতে পারেন।
এছাড়া বিলাসছড়া চা বাগান ঘুরে দেখা এবং চা শ্রমিকদের জীবনযাপন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। যারা প্রকৃতিপ্রেমী তাদের জন্য বিলাসছড়া লেক হতে পারে আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য।
বিলাসছড়া লেক ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
বিলাসছড়া লেক ভ্রমণের উপযুক্ত সময় শীতকাল। এসময় আকাশ পরিস্কার থাকে, নীল আকাশের প্রতিছবি লেকের জলে পড়ে লেকের জল নীল দেখায়। এছাড়া লেকের পানির পূর্ণতা দেখতে চাইলে বর্ষাকালে যেতে হবে।
বি:দ্র: - বিলাসছড়া চা বাগানের মধ্যে লেকটি অবস্থিত হওয়ায় এখানে যাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হয়।কিভাবে যাবেন
বিলাসছড়া লেক যেতে হলে প্রথমে শ্রীমঙ্গল শহরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পারবেন। তবে ঢাকা টু শ্রীমঙ্গল ট্রেন ভ্রমণ সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ।
ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস বা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন নেমে যাবেন। ট্রেনের আসন ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ২৭৫-৯৮৮ টাকা।
আবার ঢাকার সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস, এনা পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন ইত্যাদি বাসে চড়ে শ্রীমঙ্গল যেতে পারবেন। এসি/নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৬০০-৮০০ টাকা। যেতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘন্টা।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল করে কালীঘাট রোড ধরে দলই চা বাগানের রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যাবেন বিলাসছড়া চা বাগানে, সেখানে লেকটি দেখতে পাবেন।
কোথায় থাকবেন
বিলাসছড়া লেকের আশেপাশে থাকার ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে শ্রীমঙ্গল শহরে ফিরে আসতে হবে। শ্রীমঙ্গল শহরে থাকার জন্য অনেক হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এর মধ্যে গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, হোটেল মহসিন প্লাজা, হোটেল মেরিনা, টি হাউস রেস্ট হাউজ, শান্তি বাড়ি, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, আমাজন ফরেস্ট রিসোর্ট, প্যারাডাইস লজ উল্লেখযোগ্য।
শ্রীমঙ্গল হোটেল ভাড়া ও যোগাযোগ তথ্য জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন।
কোথায় খাবেন
বিলাসছড়া লেকের আশেপাশে খাবার হোটেল বা রেস্তোরাঁ নেই। তাই শ্রীমঙ্গল শহর থেকে লেকে যাওয়ার সময় হালকা শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে যাবেন। শ্রীমঙ্গল শহরে খাবার জন্য বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এর মধ্যে মেজবান বাড়ি, কুটুম বাড়ি, শ্রীমঙ্গল এন্ড চাইনিজ, গ্র্যান্ড তাজ, শ্রীমঙ্গল ইন, কাচ্চি কিং, হাবিব হোটেল উল্লেখযোগ্য।
এসব রেস্টুরেন্ট গুলো দেশী, ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ খাবার পাওয়া যায়।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
- শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
- একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ
- ক্যামেলিয়া লেক
- ৭১ এর বধ্যভূমি
- শ্রীমঙ্গল চিড়িয়াখানা
- চা জাদুঘর





