বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের ভানুগাছ সড়কের ভুরভুরিয়াছড়ার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর হেডকোয়ার্টার সংলগ্ন ৭১ এর বধ্যভূমি (Sreemangal martyr’s memorial 71) অবস্থিত। বর্তমানে এটি মৌলভীবাজার জেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান।
২০১০ সালে এই বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এখানে নির্মিত হয় মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য মৃত্যুঞ্জয়ী ৭১, যা ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। যা বর্তমানে বধ্যভূমি ৭১ নামে পরিচিত।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বহু মুক্তিসেনা ও সাধারণ মানুষের ধরে নিয়ে এখানে হত্যা করে। বর্তমানে বধ্যভূমি ৭১ পার্কটি স্মৃতিস্তম্ভ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এখানে দেখতে পাবেন ৭০ থেকে ৮০ বছরের পুরনো বিশাল একটি বটগাছ, যার ডালপালা চারপাশে বিস্তৃত। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি ঝরনাধারা, যার নাম ভুরভুরিয়াছড়া। এছাড়া এখানে বসার স্থান, বাচ্চাদের জন্য কিডস জোন ও শহীদদের নামফলক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।
বধ্যভূমি কি
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্ মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের ধরে নিয়ে হত্যার জন্য নিদিষ্ট কিছু স্থানকে ব্যবহার করতো। এই স্থান গুলো পরিবর্তীতে বধ্যভূমি নামে পরিচিত লাভ করে।
শ্রীমঙ্গল ৭১ এর বধ্যভূমি কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে চড়ে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যেতে পারবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ফকিরাপুল বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন (01713-201732), এনা পরিবহন (01958-135148), শ্যামলী পরিবহন (02-7550071), বিআরটিসি পরিবহন (41051337) সহ অন্যান্য পরিবহনে চড়ে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যেতে পারবেন। ঢাকা টু শ্রীমঙ্গল নন-এসি বাস ভাড়া ৫৭০ টাকা এবং এসি বাস ভাড়া ১,০০০ টাকা।
কমলাপুর রেলস্টেশন উপবন এক্সপ্রেস প্রতি বুধবার বাদে রাত ১০ টায়, কালনী এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার বাদে দুপুর ২ টা ৫৫ মিনিটে, পারাবত এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার বাদে সকাল ৬ টা ৩০ মিনিটে এবং জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার বাদে সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রেনের সিট ভেদে ভাড়া ২৪০ থেকে ৮২৮ টাকা। সিলেট থেকে যেকোনো ট্রেনে চড়ে শ্রীমঙ্গল আসতে পারবেন।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে বধ্যভূমি ৭১ যেতে পারবেন। জনপ্রতি ভাড়া লাগবে ২০ থেকে ৩০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য ভালো মানের রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়া চা বাগানের ভিতর বা পাশে সরকারি বেসরকারি অনেক কটেজ ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। চাইলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশে গ্রান্ড সুলতান গলফ রিসোর্ট (01552-683454) এ থাকতে পারেন।
এছাড়া শ্রীমঙ্গল শহরে মোটামুটি মানের অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল মেরিনা (01787-333544), হোটেল মহসিন প্লাজা (01711-390039), রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট (01938-305706) হোটেল আল রহমান (01611-602108), হোটেল স্কাইপার্ক (01711-966903) উল্লেখযোগ্য।
কোথায় খাবেন
শ্রীমঙ্গল শহরে খাবার জন্য ভালো মানের কয়েকটি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। এর মধ্যে পানসী রেস্টুরেন্ট, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট, সাতকরা রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।
আরো পড়ুন
- শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
- একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ
- শমশেরনগর গলফ মাঠ
- শ্রীমঙ্গল চিড়িয়াখানা
- শ্রীমঙ্গল চা বাগান
- সাত রংঙের চা
- চা জাদুঘর





