সাইংপ্রা ঝর্ণা – আলীকদম, বান্দরবান

বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলার চিম্বুক রেঞ্জের ক্রিসতং পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত পাহাড়ি বুনো সাইংপ্রা ঝর্ণা (Saingpra Waterfall)। খেমচং পাড়া থেকে ক্রিসতং রুংরাং পাহাড় সামিট করার পাশাপাশি সাইংপ্রা বুনো ঝর্ণা ঘুরে আসতে পারেন। এক্ষেত্রে বাড়তি একটা দিন ট্যুর প্ল্যানে যুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশে যতগুলো ঝর্ণা আছে তারমধ্যে সবচেয়ে বুনো ঝর্ণাগুলোর মধ্যে একটি। অফ রুটে এই ঝর্ণায় ৪-৫ টি ধাপ আছে। খেমচং পাড়া থেকে সাইংপ্রা ঝর্ণার ট্রেকিং পথটা যতোটা সুন্দর তার থেকে অধিক ভয়ংকর। একটু ভুল করলে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে, তাই খুব সাবধানে গাইডের নির্দেশ অনুযায়ী পথ চলতে হবে।

প্রথমে খাড়া পাহাড় বেয়ে নিচে নামতে হবে। এরপর সাইংপ্রা ট্রেইল শুরু হবে। ট্রেইলের ঝিরিপথে বড় বড় পাথরের পিচ্ছিল বোল্ডার। যার উপর দিয়ে চলা কষ্টকর। একটা সময় শুধু উপরে উঠতে হবে। উপরে উঠতে উঠতে চোখের সামনে দেখতে পাবেন সাইংপ্রা ঝর্ণা। ঝর্ণার শীতল পানিতে গোসল করলে সকল ক্লান্তি নিমিষেই দুর হয়ে যাবে।

সাইংপ্রা ঝর্ণা কিভাবে যাবেন

সাইংপ্রা ঝর্ণায় যেতে হলে প্রথমে আপনাকে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় যেতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ পরিবহন ও শ্যামলী পরিবহন এর বাসে চড়ে সরাসরি আলীকদম যেতে পারবেন। নন-এসি বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ১,১০০ টাকা। ছুটির দিন যেতে চাইলে আগেই টিকেট বুকিং করে রাখবেন। কারণ ছুটির দিনে এই রুটে টিকেট পাওয়া কষ্টকর।

এছাড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে চড়ে কক্সবাজারের চকোরিয়া নেমে যাবেন। চকোরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে আলীকদম যাওয়ার বাস পেয়ে যাবেন।

আলীকদম এসে ১০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া করে পানবাজার চলে আসবেন। পানবাজার থেকে গাইড ঠিক করে নিবেন। গাইড ঠিক করার আগে অবশ্যই দামাদামি করে ফি ঠিক করবেন। পানবাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করে নিবেন। কারণ এরপর আর কোনো বাজার পাবেন না।

পানবাজার থেকে মোটরসাইকেল বা চান্দের গাড়ি করে ১৩ কিলো চলে যাবেন। মোটরসাইকেল ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ টাকা এবং চান্দের গাড়ি ভাড়া ২,৮০০-৩,০০০ টাকা। ১৩ কিলো থেকে দুসরী বাজার চলে যাবেন।

দুরসী বাজার থেকে ট্রেকিং করে মেনকিউ পাড়া যেতে হবে। সেখান থেকে মেনিয়াংক পাড়া। মেনিয়াংক পাড়ায় রাত্রিযাপন করবেন। মেনিয়াংক পাড়ায় রাত্রিযাপন করে সকালে খেমচং পাড়া যাবেন। খেমচং পাড়া থেকে পাহাড়ি বুনো পথ, ঝিরি ও বড় বড় পিচ্ছিল বোল্ডার পথ ট্রেকিং করে পৌঁছে যাবেন সাইংপ্রা ঝর্ণায়। দুর্গম পাহাড়ি পথ ট্রেকিং করতে প্রায় আড়াই ঘন্টা সময় লাগবে। যেতে যেতে পাহাড়ের সৌন্দর্য ও বিশাল বড় বাঁশ বাগান দেখতে পাবেন। চেষ্টা করবেন সন্ধ্যার আগে পাড়ায় ফিরতে।

থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

রাতে মেনিয়াংক পাড়ায় রাত্রিযাপন করতে হবে। এজন্য পাড়ার কারবারীর সাথে প্রথমে কথা বলে নিতে হবে। আলীকদমের প্রত্যেকটি পাড়ার কারবারীর বাড়িতে অতিথীদের থাকা-খাবার ব্যবস্থা করে থাকে।

এক্ষেত্রে আপনাকে প্রয়োজনীয় বাজার-ঘাট করে নিয়ে যেতে হবে এবং সেখানে রান্না করে খেতে হবে। মেনিয়াংক পাড়ায় রাত্রিযাপন করার জন্য জনপ্রতি ২০০ টাকা দিতে হবে।

গাইড

অবশ্যই গাইড নিবেন। ফারুক (গাইড) 01869-001454, রাজু (গাইড) 01890-609437, ফারুক (গাইড) 01869-001454, মানিক (গাইড) 01826-614935

প্রস্তুতি ও সতর্কতা

  • ভালো মানের ট্রেকিং জুতা ও প্যান্ট।
  • ভালো মানের ট্রেকিং ব্যাগ, রেনকোট ও পলিথিন।
  • খাবার জন্য প্রয়োজনীয় বাজার-ঘাট, শুকনো খাবার, গ্লুকোজ, স্যালাইন ও প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ।
  • পানির বোতল।
  • গামছা, টুথ ব্রাশ, টুথপেষ্ট ও সাবান, সেম্পু।
  • হেড ল্যাম্প, পাওয়ার ব্যাংক, লাইট।
  • গামছা ও অতিরিক্ত পোশাক।
  • মশার জন্য ওডোমস ক্রিম।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (কয়েক কপি)।

আরো পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *