ক্যামেলিয়া লেক (Camelia lake) মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত একটি নীল পানির লেক। সবুজ প্রকৃতির মাঝে প্রায় ৪৩২৬.৪৭ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই লেকটি যেন প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি। স্থানীয়দের কাছে ক্যামেলিয়া লেক “বিসলার বান” নামেও পরিচিত।
ক্যামেলিয়া লেকের নামকরণ করা হয় ডানকান ব্রাদার্সের মূল কোম্পানি ক্যামেলিয়া পিএলসির নামানুসারে। ১৯৯৪ সালে ক্যামেলিয়া পিএলসি কোম্পানির ১৫ টি চা বাগানের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্য, কর্মচারী ও ব্যবস্থাপকদের চিকিৎসা প্রদার করার জন্য ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন নামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালটি লেকের পাশের অবস্থিত।
লেকের চারপাশে সবুজ চা বাগান, উঁচু-নিচু টিলায় সারি সারি চা গাছ দেখে মনে হবে সবুজের গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। উপরের নীল আকাশ আর তার প্রতিচ্ছবি লেকের পানিকে নীল রং দিয়েছে। এছাড়া লেকের পানিতে দল বেধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। পাখির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে লেকের মাছের খেলা দেখতে পাবেন।
ক্যামেলিয়া লেকের দুইপাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ঘন জঙ্গল। শান্ত নিরব প্রকৃতির মাঝে এই লেক যেন এক টুকরো স্বর্গ। লেকের একপাশে পানির উপর একটি পাটাতন তৈরি করা হয়েছে। যেখানে দাঁড়িয়ে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
ক্যামেলিয়া লেকের একটু দূরে শমশেরনগর গলফ মাঠ। লেক থেকে ফেরার পথে অবশ্যই এখান থেকে ঘুরে আসবেন। তাছাড়া আপনার সাথে আনা শুকনো খাবার এই গলফ মাঠে বসে খেতে খেতে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন।
বি:দ্র: - ক্যামেলিয়া লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য শমশেরনগর চা বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। সাধারণত লেক ও গলফ মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে বড় বড় গ্রুপকে এখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে অগ্রিম যোগাযোগ করলে এবং তাদের শর্তাবলি মেনে চললে ছোট ছোট গ্রুপকে লেক ও গলফ মাঠে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।ক্যামেলিয়া লেক কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার জেলার শমসেরনগর ক্যামেলিয়া লেকে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় ট্রেন ভ্রমণ। তবে ঢাকা থেকে নন-এসি/এসি বাসেও যেতে পারবেন।
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিলেটগামী যেকোনো ট্রেনে চড়ে কমলগঞ্জের শমশেরনগর রেলস্টেশন নেমে যাবেন। ট্রেনের আসন ভেদে ভাড়া লাগবে ৩২০ থেকে ৬১৬ টাকা।
বাসে যেতে চাইলে ঢাকার সায়েদাবাদ ও ফকিরাপুল থেকে শ্রীমঙ্গলগামী হানিফ পরিবহন, সিলেট পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন ইত্যাদি এসি/নন-এসি বাসে শ্রীমঙ্গল যাবেন। শ্রীমঙ্গল থেকে সিএনজি করে খুব সহজে শমশেরনগর যেতে পারবেন।
শমশেরনগর থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা করে চাতলাপুর রোড ধরে সবুজের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে পৌঁছে যাবেন ক্যামেলিয়া লেক। যেতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগবে। এছাড়া মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার নিয়ে সরাসরি চা বাগানের মধ্য দিয়ে লেকে যেতে পারবেন। যেতে যেতে পথে দেখতে পাবেন সবুজ চা বাগান, উঁচু-নিচু টিলা আর গাছে গাছে ঝুলন্ত বানরদের দল।
কোথায় থাকবেন
ক্যামেলিয়া লেক ভ্রমণে অধিকাংশ পর্যটকগণ ডে-ট্যুর হিসাবে বেচে নেয়। কারণ শ্রীমঙ্গল থেকে সকালে বেরিয়ে খুব সহজে ক্যামেলিয়া লেক ঘুরে সন্ধ্যার আগে ফিরে আসা যায়।
ক্যামেলিয়া লেকের আশেপাশে থাকার জন্য কোনো হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই থাকার জন্য শ্রীমঙ্গল বা কমলগঞ্জের হোটেল ও রিসোর্ট গুলো উপযোগী হবে। শ্রীমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, নভেম ইকো রিসোর্ট, হোটেল মেরিনা, প্যারাডাইস লজ, টি হাউস রেস্ট হাউজ, শান্তি বাড়ি, লেমন গার্ডেন রিসোর্ট, আমাজন ফরেস্ট রিসোর্ট, হোটেল মহসিন প্লাজা।
কোথায় খাবেন
ক্যামেলিয়া লেকের আশেপাশে কোনো রেস্টুরেন্ট বা খাবার হোটেল নেই। তাই শ্রীমঙ্গল বা শমশেরনগর থেকে যাওয়ার সময় হালকা শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে যেতে পারবেন।
ভারি খাবার খেতে শ্রীমঙ্গল শহরে অবস্থিত কুটুম বাড়ি, গ্র্যান্ড তাজ, শ্রীমঙ্গল ইন, হাবিব হোটেল বেশ সুনাম অর্জন করেছে। শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে গিয়ে অবশ্যই শ্রীমঙ্গলের নীলকন্ঠ টি কেবিন এর জনপ্রিয় সাত রং লেয়ার চায়ের স্বাদ নিতে ভুলবেন না।
আরো পড়ুন
- শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
- একদিনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ
- বিলাসছড়া লেক
- ৭১ এর বধ্যভূমি
- শ্রীমঙ্গল চিড়িয়াখানা
- চা জাদুঘর





