পার্বত্য বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত পালংখিয়াং ঝর্ণা (Palong Khiyang Waterfall)। পাথুরে রাস্তা, উঁচু পাহাড়, ঝিরিপথ দুর্গমতার কারণে খুব বেশি পর্যটন এই ঝর্ণায় যেতে পারে না। তবে দুর্গম পথের সৌন্দর্য আপনার সকল ক্লান্তি নিমিষেই দুর করে দিবে।
ঝর্ণার সামনে জমা থাকা পানি প্রাকৃতিক সুইমিংপুল নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা মনে আনন্দে গোসল করে। ঝর্ণার ডানপাশে গাছের ডালে হেমোক বেঁধে দোল খাওয়া ও ছবি তোলা পর্যটকদের কাছে একটা ট্রেড হয়ে উঠেছে।
পালংখিয়াং ঝর্ণা কিভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে শ্যামলী পরিবহন বা হানিফ পরিবহন বাসে চড়ে সরাসরি আলীকদম যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে আলীকদম সরাসরি এই দুইটি বাস চলাচল করে তাই অগ্রিম টিকেট বুকিং করবেন। ঢাকা টু আলীকদম বাস ভাড়া জনপ্রতি ১,১০০ টাকা।
এছাড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে চড়ে কক্সবাজারের চকোরিয়া নেমে যাবেন। চকোরিয়া থেকে বাসে চড়ে আলীকদম যেতে পারবেন।
আলীকদম উপজেলা থেকে সিএনজি করে পানবাজার যাবেন। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে এবং গাইড নিয়ে আমতলী নদীঘাট যাবেন। আমতলী ঘাট থেকে নৌকায় তৈনখাল দিয়ে দোছরি বাজার চলে যাবেন। যেতে প্রায় আড়াই ঘন্টা সময় লাগবে। সেখান থেকে আপনার পালংখিয়াং ঝর্ণার ট্রেইল শুরু হবে। দুর্গম পাথুরে রাস্তা, ঝিরি ও পাহাড়ের চূড়া পেরিয়ে পৌঁছে যাবেন ঝর্ণায়। সময় লাগবে প্রায় ২ ঘন্টা।
বিকল্প রুটঃ বান্দরবানের আলীকদম থানচি রোড দিয়ে চান্দের গাড়ি বা মোটরসাইকেল করে ১৩ কিলো যেতে হবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে দোছরি >> হাজরাম পাড়া >> পালং খিয়াং ঝর্ণা। হাজরাম পাড়া থেকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পথ হেঁটে ঝর্ণায় যেতে হবে।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
রাতে হাজরাম পাড়ায় থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে গাইডের মাধ্যমে পাড়ার কারবারীর সাথে প্রথমে কথা বলে নিতে হবে। আলীকদমের প্রত্যেকটি উপজাতি পাড়ার কারবারীর বাড়িতে অতিথীদের থাকা-খাবার ব্যবস্থা করে থাকে। কারবারীর বাড়িতে থাকতে জনপ্রতি ২০০ টাকা দিতে হবে।
রান্না করে খাবার জন্য প্রয়োজনীয় বাজার-ঘাট করে নিয়ে আসতে হবে।
গাইড
জয়দা 01821-353791, ফারুক 01869-001454, রাজু 01890-609437, ফারুক 01869-001454, মানিক 01826-614935
খরচ
- ঢাকা থেকে আলীকদম বাস ভাড়া (নন-এসি) ১,১০০ টাকা।
- আলীকদম থেকে পানবাজার অটো ভাড়া ১০ টাকা।
- আমতলী নৌকা ঘাট থেকে দোছড়ি বাজার নৌকা ভাড়া জনপ্রতি ৩৫০ টাকা।
- জুমঘর ভাড়া প্রতিদিন ২০০ টাকা।
- খাওয়া-দাওয়া ১,৫০০ টাকা (বাজেটের উপর)।
ট্রেকিং করতে সাথে নিবেন
- ভালো মানের ট্রেকিং জুতা ও প্যান্ট।
- ভালো মানের ট্রেকিং ব্যাগ, রেনকোট ও পলিথিন।
- খাবার জন্য প্রয়োজনীয় বাজার-ঘাট, শুকনো খাবার, গ্লুকোজ, স্যালাইন ও প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ।
- পানির বোতল।
- গামছা, টুথ ব্রাশ, টুথপেষ্ট ও সাবান, সেম্পু।
- হেড ল্যাম্প, পাওয়ার ব্যাংক, লাইট।
- গামছা ও অতিরিক্ত পোশাক।
- মশার জন্য ওডোমস ক্রিম।
- জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (কয়েক কপি)।
আরো পড়ুন
- সাইংপ্রা ঝর্ণা
- মেনকিউ পাড়া
- খেমচং পাড়া
- ক্রিসতং রুংরাং ভ্রমণ গাইড
- হোটেল প্লাজা বান্দরবান
- হলিডে ইন রিসোর্ট বান্দরবান
- হোটেল হিলটন বান্দরবান





