সুখিয়া ভ্যালি ভ্রমণ গাইড, বান্দরবান

কথায় আছে যে বান্দরবানের সৌন্দর্য দেখিনি সে বাংলাদেশ দেখিনি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে যতগুলো উপজেলা আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর উপজেলা লামা উপজেলা। বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট সুখিয়া ভ্যালি (Sukhiya valley)। যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।

এখান থেকে চারপাশের সবুজ পাহাড়ের সমারোহ, শান্ত মাতামুহুরি নদীর সৌন্দর্য, সকালের সূর্যোদয় ও বিকালের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ার থেকে মাতামুহুরি নদী ও নদীর দুপাশে সুখিয়া ও দুখিয়া পাহাড় দেখতে পারবেন। সুখিয়া ভ্যালি এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে।

এছাড়া মাতামুহুরি নদীতে নৌকা ভাড়া নিয়ে আশেপাশের দর্শনীয় স্থান সাদা পাহাড়, মিনঝিরি পাড়া, সুখিয়া ও দুখিয়া পাহাড় সহ আরো জনপ্রিয় ভ্রমণ স্পট ঘুরে দেখতে পারবেন।

আপনি যদি পাহাড় প্রেমী হন এবং মেঘ ও মাতামুহুরি নদীর সৌন্দর্য একসাথে উপভোগ করতে চান তাহলে সুখিয়া ভ্যালি হবে সেরা ভ্রমণ গন্তব্য। লামা উপজেলার সুখিয়া ভ্যালি ঘুরে দেখার পাশাপাশি মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ করতে পারেন।

BM Khalid Hasan Sujon

সুখিয়া ভ্যালি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সুখিয়া ভ্যালি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় নভেম্বর থেকে মার্চ মাস অর্থাৎ শীতকাল। এসময় চারপাশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকা থেকে আলীকদমের বাসে সরাসরি লামা যেতে পারবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ, আব্দুল্লাহপুর থেকে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, এনা পরিবহনইমাদ পরিবহনের বাসে চড়ে লামা যেতে পারবেন। নন-এসি/এসি বাস ভেদে ভাড়া ৮৫০ থেকে ১,৫০০ টাকা।

ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে চট্টগ্রাম নেমে নতুন ব্রিজ বাস টার্মিনাল থেকে চকোরিয়া যাওয়ার বাস পেয়ে যাবেন। ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

BM Khalid Hasan Sujon

চকোরিয়া থেকে লামা যাওয়ার বাস, চান্দের গাড়ি, জীব ও সিএনজি পাবেন। চকোরিয়া থেকে লামা যেতে লোকালে জনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হবে। লামা বাজার বাস টার্মিনাল থেকে সিএনজি করে জনপ্রতি ৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে সুখিয়া ভ্যালি আসতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

সুখিয়া ভ্যালি থাকার জন্য বেশ কয়েকটি কটেজ, জুমঘর ও তাবু আছে। মোটামুটি মানের কটেজে থাকতে ৭-৮ জনের খরচ লাগবে ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা। জুমঘরে ৫-১০ জন থাকতে খরচ লাগবে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। এছাড়া আপনি প্রাকৃতির মাঝে আরো কম খরচে ২০০-৩০০ টাকায় তাবুতে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

সুখিয়া ভ্যালি রিসোর্ট সমূহ

সুখিয়া ভ্যালিতে অবস্থিত জনপ্রিয় কিছু রিসোর্টের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রিভারভিউ রিসোর্টঃ সুখিয়া ভ্যালির জনপ্রিয় একটি রিসোর্ট রিভারভিউ রিসোর্ট। এখানে থাকার খরচ ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। খাওয়ার প্যাকেজ আছে। মোবাইল নাম্বার 01602-343477

BM Khalid Hasan Sujon

সুখিয়া মাচাংডাং ভ্যালিঃ সুখিয়া মাচাংডাং ভ্যালি রিসোর্টে একটি প্রিমিয়াম রুম ও তিনটি জুমঘর আছে। প্রিমিয়াম রুম ভাড়া ৩,৫০০ টাকা ও জুমঘর ভাড়া ২,০০০ টাকা। রুমের সাথে তিনবেলা খাবার প্যাকেক আছে। মোবাইল নাম্বার 01735-812092

সুখিয়া ভ্যালী রিসোর্টঃ এই রিসোর্টে থাকার জন্য জুমঘর ও কটেজ আছে। জুমঘরে ৭-৮ জনের থাকার খরচ ২,০০০ টাকা। কটেজে ৭-৮ জনের থাকার খরচ ৩,০০০ টাকা। মোবাইল নাম্বার 01879-511500

ক্যপ্রাং ইকো রিসোর্টঃ এই রিসোর্টে তিন প্রকার জুমঘর আছে। জুমঘরের সাথে মাতামুহুরি নদীর নৌকা ভাড়া ও চিল জোন অন্তর্ভুক্ত। ক্যপ্রাং ইকো রিসোর্টে ৬-৭ জনের থাকার খরচ ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। মোবাইল নাম্বার 01804-435555

চান্দের পাহাড় অ্যাডভেঞ্চার রিসোর্টঃ চান্দের পাহাড় অ্যাডভেঞ্চার রিসোর্ট লামায় অবস্থিত একটি লাক্সারি প্রিমিয়াম রিসোর্ট। এখানে থাকা খরচ ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা। মোবাইল নাম্বার 01898-938687

কোথায় খাবেন

সুখিয়া ভ্যালি অবস্থিত থাকার কটেজ গুলোতে খাবার জন্য আলাদা প্যাকেজ আছে। জনপ্রতি খাবার প্যাকেজ মূল্য ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। কটেজ কর্তৃপক্ষ আপনার খাবার ব্যবস্থা করবে। সকালের নাস্তা খিচুড়ি ও ডিম। দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, মুরগি ও সবজি। সান্ধায় চা-বিস্কুট এবং রাতে পরোটা ও বারবিকিউ।

পরামর্শ

  • বান্দরবান ভ্রমণে জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে রাখুন।
  • পাহাড়ে চলাচলে সবসময় সতর্ক থাকুন।
  • আদিবাসী ও গাইডের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
  • প্রয়োজনীয় ঔষধ, মোবাইল চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন।
  • ট্র্যাকিংয়ের সময় ভালো গ্রিপের জুতা ও মাস্ক সাথে রাখুন।
  • মাতামুহুরি নদীতে নৌকা ভাড়া করার আগে কোন কোন স্পট ঘুরবেন আগে বলে নিবেন এবং দামাদামি করে নৌকা ভাড়া করবেন।

আরো পড়ুন