বাংলাদেশের সেরা ১০ দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব নীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। সুজলা সুফলা নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র আছে। এসব দর্শনীয় স্থান উপভোগ করার জন্য দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটন ছুটে আসেন।

আজকে বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইডে দেশের সেরা ১০ দর্শনীয় স্থান উল্লেখ করবো। এই দর্শনীয় স্থান গুলোতে বেড়াতে গেলে বাংলার প্রকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।

এক নজরে সম্পূর্ণ লেখা

বাংলাদেশের সেরা ১০ দর্শনীয় স্থান

আজকের ভ্রমণ গাইডে বাংলাদেশের সেরা ১০ টি দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবো। এসব দর্শনীয় স্থানে কি কি দেখবেন, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন সহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করবো। যাতে আপনি খুব সহজে বাংলাদেশ সেরা দর্শনীয় স্থান সমূহ ঘুরে দেখতে পারেন।

BM Khalid Hasan Sujon

১. সুন্দরবন: প্রকৃতির অপার বিস্ময়

sundarban

সুন্দরবন নামটা শুনলেই যেন মনে ভেসে ওঠে সবুজ আর জলের এক মায়াবী জগৎ। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে।

সুন্দরবনের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চল সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট এবং ভারতের দুই জেলা উত্তর-দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জুড়ে বিস্তৃত। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাসস্থল এই সুন্দরবনে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, কুমির, সাপ সহ অসংখ্য অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল এই সুন্দরবন

এই বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরী, যার নাম অনুসারে সুন্দরবন নামকরণ করা হয়। এছাড়া গেওয়া, পশুর, বাইন, গোলপাতা সহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ আছে। ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। প্রত্যেক বছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে বেড়াতে আসে।

সুন্দরবন কি কি দেখবেন

সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

 সুন্দরবনে ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল। এই সময়ে আবহাওয়া থাকে মনোরম এবং বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

BM Khalid Hasan Sujon

সুন্দরবন কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে খুলনা বা মংলাগামী যেকোনো বাসে খুলনা বা মোংলা আসতে হবে। সেখান থেকে নৌপথে লঞ্চ, শীপ বা নৌকায় সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া যায়। ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে প্যাকেজ নিয়েও সুন্দরবন ভ্রমণ করা সহজ।

২. সেন্টমার্টিন দ্বীপ: নীল জলের স্বর্গ

Saint Martins Island

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। স্বচ্ছ নীল জল, দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ আর সারি সারি নারিকেল গাছ – সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিন যেন এক স্বপ্নপুরী। এখানে প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরা বলা হয়।

বিখ্যাত লেখক, কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ দারুচিনি দ্বীপ নামের ছায়াছবির শুটিং এখানে হওয়ার পর থেকে দ্বীপটির পরিচিত ব্যাপক বেড়ে যায়। যারা সমুদ্র ভালোবাসেন, তাদের জন্য সেন্টমার্টিন হতে পারে এক অসাধারণ গন্তব্য।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে কি কি দেখবেন

  • ছেঁড়া দ্বীপঃ সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই দ্বীপটি জোয়ারের সময় মূল দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখানকার প্রবাল আর পাথরের স্তূপ মুগ্ধ করার মতো।
  • পশ্চিম সৈকতঃ সূর্যাস্ত দেখার জন্য সেরা জায়গা। এখানকার নীরবতা আর সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
  • নারিকেল জিঞ্জিরাঃ পুরো দ্বীপ জুড়ে অসংখ্য নারিকেল গাছ রয়েছে, তাই একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়।
  • ডুবুরিদের স্বর্গঃ যারা স্কুবা ডাইভিং করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য সেন্টমার্টিন একটি অসাধারণ জায়গা। এখানে নানা রঙের মাছ আর প্রবাল দেখতে পারবেন।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবহাওয়া থাকে খুবই মনোরম।

BM Khalid Hasan Sujon

সেন্টমার্টিন কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে প্রথমে কক্সবাজার যেতে হবে। কক্সবাজার ইনানী জেটিঘাট থেকে জাহাজে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। এছাড়া কক্সবাজার থেকে টেকনাফ জেটিঘাট হয়ে জাহাজ / নৌকা সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে পারবেন।

৩. কক্সবাজার: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত

coxsbazar

কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। ১২০ কিলোমিটার (৭৫ মাইল) দীর্ঘ এই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখলে মনে হবে যেন দিগন্ত জুড়ে আগুন লেগেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, এটি পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য পুরো সৈকতটি বালুকাময়, কোথাও কাদার অস্তিত্ব পাবেন না। সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেল-কটেজ, বিপণী বিতান, সজ্জিত বার্মিজ মার্কেট, রেস্টুরেন্ট সমূহ পর্যটকদের কাছে টানে।

শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্ম যেকোনো ঋতুতে কক্সবাজার চেহারা বদলায় না। সমুদ্রপ্রেমী অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা প্রতিদিন কক্সবাজার বেড়াতে আসেন।

কক্সবাজারে কি কি করবেন

  • সৈকতে হাঁটাঃ সকাল কিংবা বিকেলে সৈকতে হাঁটাহাঁটি করতে দারুণ লাগবে।
  • সাঁতার কাটাঃ ঢেউয়ের সাথে গা ভাসিয়ে সাঁতার কাটার মজাই আলাদা।
  • বার্মিজ মার্কেটঃ এখানে বার্মিজ পণ্য, যেমন – কাপড়, আচার, খেলনা ইত্যাদি পাওয়া যায়।
  • ইনানী বিচ ও হিমছড়িঃ কক্সবাজারের কাছেই ইনানী বিচ তার পাথুরে সৈকতের জন্য বিখ্যাত, আর হিমছড়ি তার ঝর্ণার জন্য।
  • মেরিন ড্রাইভঃ কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি পাহাড় আর সমুদ্রের মেলবন্ধনে অসাধারণ।

কক্সবাজার ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

কক্সবাজার সারা বছরই ভ্রমণ করা যায়, তবে শীতকালে আবহাওয়া সবচেয়ে ভালো থাকে। তাই অধিকাংশ পর্যটকেরা শীতকালে কক্সবাজার ভ্রমণ করে থাকে।

কক্সবাজার কিভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সেন্টমার্টিন পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, ইমাদ পরিবহন, সোহাগ পরিবহন সহ কক্সবাজারগামী যেকোনো পরিবহনে চড়ে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, প্রবল এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন। এছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে করে কক্সবাজার যেতে পারবেন।

৪. সাজেক ভ্যালি: মেঘের রাজ্য

Sajek Valley

সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন। পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি এখানে সবসময় লেগেই থাকে। যারা মেঘ ভালোবাসেন, তাদের জন্য সাজেক এক অসাধারণ গন্তব্য।

সাজেকে সবসময় মেঘের ওড়াউড়ি, সবুজ পাহাড় ও আদিবাসীদের জীবনযাত্রা দেখতে পাবেন। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। সাজেকে রুই-লুই পাড়া থেকে ট্রেকিং করে কংলাক পাহাড়ে যাওয়া যায়।  কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূড়া। এখান থেকে মিজোরাম সীমান্তের বড় বড় পাহাড় গুলো দেখা যায়।

সাজেকে কি কি দেখবেন

  • কংলাক পাহাড়ঃ সাজেকের সবচেয়ে উঁচু স্থান এটি। এখান থেকে পুরো সাজেক ভ্যালি দেখা যায়।
  • রুইলুই পাড়াঃ এটি সাজেকের মূল গ্রাম। এখানে লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসীদের বসবাস।
  • সাজেক ভ্যালিঃ আঁকাবাঁকা পথ, সবুজ পাহাড় আর মেঘের ভেলা – সব মিলিয়ে সাজেক ভ্যালি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি।
  • আলুটিলা গুহাঃ খাগড়াছড়িতে অবস্থিত এই গুহাটি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সাজেক ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল। তবে মেঘ দেখতে চাইলে বর্ষাকালেও যেতে পারেন। সাধারণত শীতকালে পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়।

সাজেক কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িগামী যেকোনো বাসে প্রথমে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। খাগড়াছড়ি থেকে জিপ গাড়ি বা মোটরসাইকেল করে সাজেক ভ্যালি যাওয়া যায়। খাগড়াছড়ির আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে সাজেক যেতে হবে।

৫. রাতারগুল: বাংলার আমাজন বন

Ratargul

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা মিঠাপানির জলাবন। বর্তমানে পৃথিবীতে যে ২২ টি মিঠাপানির জলাবন আছে তারমধ্যে রাতারগুল অন্যতম। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার রাতারগুলকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে।

বর্ষাকালে এই বন পানিতে ডুবে থাকে, আর গাছের অর্ধেকটা থাকে জলের উপরে। এখানকার গাছপালা বছরের ৫-৬ মাস পানির নিচে থাকে। বর্ষাকালে এই বনে ২০-৩০ ফুট পানি থাকে এবং বছরের অন্যান্য সময় ১০ ফুটের মতো পানি থাকে।

এই জলাবনে সবচেয়ে বেশি জন্মায় করচ গাছ। এছাড়া এখানে হিজল, বরুণ, বেত, অর্জুন, গুটিজাম, কদম, মুর্তাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে। পাখির মধ্যে সাদা বক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঘুঘু, চিল, বাজপাখি সহ অন্যান্য পাখি আছে। নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এটি এক অসাধারণ জায়গা।

রাতারগুলে কি কি দেখবেন

  • জলাবনঃ  বনের মধ্যে নৌকায় করে ঘুরতে দারুণ লাগবে। চারপাশের সবুজ আর পাখির কলরব মন ভরিয়ে দেবে।
  • মুথা গাছঃ এই বনের প্রধান আকর্ষণ হলো মুথা গাছ। বর্ষাকালে এই গাছগুলো জলের উপরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।
  • শাপলা বিলঃ রাতারগুলের কাছেই রয়েছে একটি শাপলা বিল। বর্ষাকালে এখানে অসংখ্য শাপলা ফোটে।

রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

রাতারগুল ভ্রমণের সেরা সময় বর্ষাকাল। এই সময়ে বন পানিতে পরিপূর্ণ থাকে এবং এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

রাতারগুল কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সিলেটগামী যেকোনো বাসে অথবা ট্রেনে সিলেট যেতে হবে। সিলেট থেকে সিএনজি করে গোয়াইনঘাট গিয়ে সেখান থেকে রাতারগুল যেতে হবে।

৬. জাফলং: প্রকৃতির কন্যা

Jaflong

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত জাফলং প্রকৃতির কন্যা নামে পরিচিত। পাহাড়, নদী আর পাথরের সমন্বয়ে গঠিত এই স্থানটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। পাথরের উপর দিয়ে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ ধারা, উঁচু উঁচু পাহাড়ে সাদা মেঘের খেলা, ঝুলন্ত ডাউকি সেতু জাফলংকে অনন্য করে তুলেছে।

বিভিন্ন ঋতুতে জাফলং এর রূপ ভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। জাফলং পাথরের জন্য বিখ্যাত, তাই সারাবছর এখানে পর্যটকদের আগমন ঘটে।

জাফলং এ কি কি দেখবেন

  • পিয়াইন নদীঃ এই নদীর স্বচ্ছ জল আর চারপাশের সবুজ পাহাড় মুগ্ধ করার মতো।
  • ডাউকি ব্রিজঃ জাফলংয়ের কাছেই ভারতের মেঘালয়ে অবস্থিত এই ব্রিজটি দেখতে সুন্দর।
  • সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণাঃ জাফলং থেকে কাছেই এই ঝর্ণাটি অবস্থিত, যা বর্ষাকালে পানিতে ভরে ওঠে।
  • চা বাগানঃ জাফলংয়ের আশেপাশে অনেক চা বাগান রয়েছে, যেখানে সবুজ আর সুগন্ধ মন কেড়ে নেয়।

জাফলং ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

জাফলং ভ্রমণের সেরা সময় বর্ষাকাল। এই সময় পিয়াইন নদীতে পানির পরিমান বেশি থাকে এবং পাহাড়ের সবুজ গাছগাছালি আরো সতেজে হয়ে উঠে। তাছাড়া সারাবছর এখানে ভ্রমণ করা যায়।

জাফলং কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সিলেটগামী যেকোনো বাস অথবা ট্রেনে চড়ে সিলেট যেতে পারবেন। সিলেট থেকে বাসে বা সিএনজিচালিত অটো রিকশায় জাফলং যাওয়া যায়।

৭. টাঙ্গুয়ার হাওর: পাখির স্বর্গরাজ্য

Tanguar Haor

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবেও স্বীকৃত। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান হিসেবে পরিচিত।

টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ভারত সীমান্তের মেঘালয়ের উঁচু উঁচু পাহাড় গুলো দেখা যায়। পাহাড় থেকে ৩০ টির অধিক ঝরা এসে মিশেছে এই হাওরে। সাম্প্রতিক হাওরে সড়ক নির্মাণের ফলে পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে কি কি দেখবেন

  • হিজল গাছঃ হাওরের প্রধান আকর্ষণ হলো হিজল গাছ। এই গাছগুলো জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে।
  • বিভিন্ন প্রজাতির পাখিঃ শীতকালে এখানে অসংখ্য পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।
  • ওয়াচ টাওয়ারঃ হাওরের মাঝে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, যেখান থেকে পুরো হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সেরা সময় বর্ষাকাল। তবে যারা পাখিপ্রেমী তারা শীতের সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি দেখতে পাবেন। এছাড়া হাউজ বোটে বা নৌকায় করে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

টাঙ্গুয়ার হাওর কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জগামী যেকোনো বাসে চড়ে সুনামগঞ্জ যেতে হবে। সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজিচালিত অটো রিকশায় বা মোটরসাইকেল করে টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে পারবেন।

৮. কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত: সাগরকন্যা

Kuakata

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়।

শীতকালে এখানকার সৈকতে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি দেখা যায়। পরিচ্ছন্ন বেলাভূমি, দিগন্তজোড়া নীল আকাশ, অনিন্দ্য সুন্দর সৈকত ও ম্যানগ্রোভ বন সব মিলিয়ে কুয়াকাটা পর্যটকদের ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

কুয়াকাটা কি কি দেখবেন

  • সৈকতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তঃ কুয়াকাটার প্রধান আকর্ষণ হলো একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা।
  • বৌদ্ধ মন্দিরঃ এখানে প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
  • ফাতরার বনঃ কুয়াকাটার কাছেই ফাতরার বন অবস্থিত। নৌকায় করে এই বনে ঘুরতে দারুণ লাগবে।
  • শুঁটকি পল্লীঃ এখানে শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন এবং তাজা শুঁটকি কিনতে পারবেন।

কুয়াকাটা ভ্রমণের সেরা সময়

কুয়াকাটা ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল। এই সময়ে আবহাওয়া থাকে মনোরম এবং সমুদ্র শান্ত থাকে।

কুয়াকাটা কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী যেকোনো বাসে সরাসরি কুয়াকাটা যাওয়া যায়। বাস কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বেড়িবাঁধের পাশে নামিয়ে দিয়ে।

৯. নিঝুম দ্বীপ: হরিণের অভয়ারণ্য

Nijhum Dwip

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর দ্বীপ। এই দ্বীপটি মূলত হরিণের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকার পুরো দ্বীপকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। ৭০ দশকে বাংলাদেশ বন বিভাগ ৪ জোড়া হরিণ ছাড়ে এই দ্বীপে। এরপর ১৯৯৬ সালে হরিণশুমারী অনুযায়ী হরিণের সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার।

নোনাপানি বেষ্টিত এই দ্বীপে প্রচুর পরিমানে কেওড়া গাছ আছে। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবনের পরে নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ বন বলে অনেকে দাবি করে। নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য ও হরিণপ্রোমী পর্যটকদের কাছে এই দ্বীপ বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

নিঝুম দ্বীপ কি কি দেখবেন

  • হরিণের পালঃ নিঝুম দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ হলো হরিণ। এখানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ হাজার হরিণ আছে।
  • ম্যানগ্রোভ বনঃ দ্বীপে বিশাল ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে, যা প্রকৃতির এক অসাধারণ সৃষ্টি।
  • সমুদ্র সৈকতঃ নিঝুম দ্বীপের সৈকত নির্জন এবং শান্ত, যা প্রকৃতির নীরবতা উপভোগ করার জন্য উপযুক্ত।
  • চৌধুরী খালঃ এই খালের পাশে দাঁড়ালে হরিণের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের সেরা সময় শীতকাল। এই সময়ে আবহাওয়া থাকে মনোরম এবং কাছ থেকে হরিণ দেখতে পাবেন।

নিঝুম দ্বীপ কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী যেকোনো বাসে চড়ে নোয়াখালী যেতে হবে। নোয়াখালী থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চে করে নিঝুম দ্বীপ যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চে করে নিঝুম দ্বীপ যেতে পারবেন।

১০. বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক: বন্য জীবন

Gazipur Safari Park

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম সাফারি পার্ক। থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে এই পার্কটি। এখানে বন্য প্রাণীদের প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখার সুযোগ আছে।

পার্কের ভেতরে চারপাশে উন্মুক্ত বাঘ, সিংহ, হরিণ, জেব্রা, জিরাফ সহ বিভিন্ন প্রাণী। আর পার্কের ভেতর রাস্তা দিয়ে আপনি মিনি বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হঠাৎ বাসের সামনে এসে গর্জন করলো বাঘ বা সিংহ। যারা এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান তাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক আদর্শ জায়গা।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কি কি দেখবেন

  • বাঘ ও সিংহঃ পার্কে বাঘ ও সিংহের জন্য আলাদা জোন রয়েছে, যেখানে তারা অবাধে ঘুরে বেড়ায়।
  • হরিণ ও অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণীঃ এখানে হরিণ, জেব্রা, জিরাফ সহ বিভিন্ন তৃণভোজী প্রাণী দেখতে পারবেন।
  • পাখির অভয়ারণ্যঃ পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য একটি অভয়ারণ্য রয়েছে।
  • প্রাকৃতিক পরিবেশঃ পার্কটি বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক সারা বছরই ভ্রমণ করা যায়।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী বাসে যেতে হবে। গাজীপুর থেকে সিএনজিচালিত অটো রিকশায় বা মোটরসাইকেল অথবা প্রাইভেটকারে করে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক যেতে পারবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র আছে। বাংলাদেশের সকল দর্শনীয় স্থান সমূহ ঘুরে দেখতে এবং গাইড পেতে আমাদের “ভ্রমণ টিপস” ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।

আরো পড়ুন